গোলের পর ব্রায়ান ব্রবির উল্লাস। ছবি: রয়টার্স।
অজান্তেই বিপদ ডেকে এনেছিলেন ব্রায়ান ব্রবি। তিনি বুঝতেও পারেননি এতে তাঁর জীবনের কতটা ক্ষতি হতে পারে। ক্ষতি হয়েছিল। খারাপ সময় কাটিয়েছেন। কিন্তু লড়াই ছাড়েননি। ফিরে এসেছেন। জীবনের কালো অধ্যায় কাটিয়ে নেদারল্যান্ডসকে আলোর পথ দেখিয়েছেন তিনি। বুঝিয়ে দিয়েছেন, ফেরার ইচ্ছা থাকলে এ ভাবেও ফিরে আসা যায়।
তখন আয়াক্সে খেলতেন ব্রবি। হঠাৎই স্কুলের এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয় ব্রবির। অল্প সময়ে আবার বন্ধুত্ব হয়ে যায় দু’জনের। ব্রবি জানতেন না, তাঁর সেই স্কুলের বন্ধু তত দিনে এক কুখ্যাত দুষ্কৃতী হয়ে উঠেছেন। পুলিশের খাতায় খুন, মাদক পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের ছিল তাঁর নামে। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক থাকায় ব্রবির নামও উঠে যায় পুলিশের খাতায়।
সেই খবর জানাজানি হতে বেশি সময় লাগেনি। তাঁর তৎকালীন ক্লাব আয়াক্স বিষয়টি ভাল ভাবে নেয়নি। আর একটু হলে কেরিয়ার শেষ হয়ে যেতে পারত ব্রবির। কিন্তু তিনি লড়াই থামাননি। সংবাদমাধ্যমে ব্রবি বলেছেন, “আমি অজান্তেই আমার ক্লাবকে লজ্জিত করেছিলাম। আমার পরিচিতেরাও লজ্জিত হয়েছিল। আমি সকলকে বলেছিলাম, এক দিন আমি দেশকে গর্বিত করব।”
শনিবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন ব্রবি। কোচ রোনাল্ড কোমান কেন তাঁর উপর ভরসা দেখিয়েছেন, তার জবাব দিয়েছেন। ম্যাচের ১৭ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করেছেন। বিশ্বকাপে জোড়া গোলের নিরিখে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম।
আয়াক্সে ভিত তৈরি হয়েছিল ব্রবির। কিন্তু বিশ্বফুটবলে তাঁকে পরিচিত দিয়েছে সান্ডারল্যান্ড। প্রিমিয়ার লিগের এই ক্লাবে ভাল সময় কাটিয়েছেন তিনি। ব্রবি আদতে একজন আদর্শ বক্স স্ট্রাইকার। তিনি জানেন, কখন কোথায় থাকতে হয়। কী ভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে হয়। তাঁর দু’টি গোলই সুযোগ কাজে লাগানোর ফসল।
শারীরিক শক্তিতে ব্রবিকে পরাস্ত করা কঠিন। ঘাড়ের উপর ডিফেন্ডারকে নিয়ে খেলতে পারেন। পাশাপাশি গতিও রয়েছে তাঁর। দ্রুত বক্সের মধ্যে ঠিক জায়গায় পৌঁছে যেতে পারেন। ডাচ কিংবদন্তি জোহান ক্রুয়েফ বলেছিলেন, “ভাল ফুটবল খেলাটা বড় কথা নয়। ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় থাকাটাই আসল। একজন স্ট্রাইকারের সেটাই কাজ।” ক্রুয়েফের সেই কথাকেই সত্যি প্রমাণিত করছেন ব্রবি।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তিনি কতটা সুযোগ পাচ্ছেন, তা নিয়ে বেশি ভাবেন না ব্রবি। অপেক্ষা করেন সুযোগের। ঠিক যেমনটা প্রথম ম্যাচে পাননি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগিয়েছেন। ব্রবি বলেন, “আমি সুযোগ পাব কি না, তা ভেবে নিদ্রাহীন রাত কাটাই না। আমি খেলতে পেলেই খুশি। দলের হয়ে খেলার চেষ্টা করি। দলকে জেতানোর চেষ্টা করি।”
জীবনে কম খারাপ সময় দেখেননি ব্রবি। তাঁর আর এক বন্ধুকে অপরিচিত দুষ্কৃতীরা গুলি করেছিল। কোনও রকমে প্রাণ বাঁচে তাঁর। বোনের গাড়িতে ছোড়া হয়েছিল বোমা। শ্বশুরবাড়িতে হামলা করেছিল দুষ্কৃতীরা। এমনকি, ব্রবির গাড়িতেও রাখা হয়েছিল বিস্ফোরক। সেখানে একটি চিঠিও পাওয়া গিয়েছিল। তাতে প্রায় ২ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল।
গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
একের পর এক ঝড়ে বেসামাল হয়ে গিয়েছিল ব্রবির জীবন। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। সপরিবার চলে যান সান্ডারল্যান্ডে। আবার নতুন করে শুরু করেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে জীবনে এত কিছু দেখেছেন ব্রবি। এত ঝড় সামলেছেন। অন্ধকার সময় কাটিয়ে উঠেছেন। তাঁর হাতেই আলোর পথে এগোচ্ছে নেদারল্যান্ডস।