সের্জিয়ো লোবেরা। —ফাইল চিত্র।
ঘরের মাঠে ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি জিতলেও অ্যাওয়ে ম্যাচে এখনও পর্যন্ত জিততে পারেনি মোহনবাগান। রবিবার নর্থইস্ট ইউনাইটেডের ঘরে মাঠে তাদের বিরুদ্ধে খেলা। সেই ম্যাচে পুরো ৩ পয়েন্ট লক্ষ্য সের্জিয়ো লোবেরার। অ্যাওয়ে ম্যাচে প্রথম জয় পেতে চান তিনি। আগের ম্যাচে পঞ্জাব এফসিকে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে মোহনবাগান। সেই জয়ের ধারা নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেও রাখতে চান কোচ লোবেরা।
ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন লোবেরা। এর আগে বেঙ্গালুরু এফসি ও জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেছে মোহনবাগান। দু’টি ম্যাচই ড্র হয়েছে। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে শেষ মিনিটে গোল খেয়ে পয়েন্ট নষ্ট করতে হয়েছে। সেটা আর চান না লোবেরা। তিনি বলেন, “নিজেদের মাঠে নর্থইস্ট সবসময় কঠিন প্রতিপক্ষ। ওদের কিছু হারানোর নেই। আমাদের আছে। অ্যাওয়ে ম্যাচে এখনও জয় আসেনি। ফুটবলাররা সেটা জানে। আর সেটা মাথায় রেখে ৩ পয়েন্টের জন্য খেলবে।”
পঞ্জাবের বিরুদ্ধে সংযুক্তি সময়ে করা জেসন কামিংসের গোলে জিতলেও দলের খেলায় খুশি নন লোবেরা। তিনি বলেন, “আমি শুরু থেকে বলে আসছি, খেলায় আরও উন্নতি করতে হবে। এমনকি ৫-১ গোলে ম্যাচ জেতার পরও সেটা বলেছিলাম। প্রথম চার ম্যাচে প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করে গোলও পেয়েছিল ফুটবলাররা। পরের ম্যাচগুলোর মধ্যে মুম্বই ম্যাচ ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই জেতার মতো যথেষ্ট পরিমান গোলের সুযোগ পেয়েছিল দল। সেগুলো সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে মোহনবাগান এখন আরও ভাল জায়গায় থাকত। পঞ্জাব ম্যাচে দল ভাল খেলেনি। কিন্তু গোলগুলো পেয়ে যাওয়ায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ৩ পয়েন্ট এসেছে।”
নিজের দর্শনের কথাও জানিয়েছেন বাগান কোচ। তিনি চান রক্ষণ ও আক্রমণে ভারসাম্য। তবেই জয় আসবে। লোবেরা বলেন, “এটা মনে রাখতে হবে, ফুটবল এমন একটা খেলা যেখানে আক্রমণ ও রক্ষণে সমান ভারসাম্য রাখা জরুরি। জয়ের জন্য গোল পাওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে একটা গোলই যথেষ্ট। তার মানে এই নয় যে, আমি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার কথা বলছি। আমার দর্শন হল, রক্ষণ জমাট রেখে আক্রমণে ঝাঁজ বাড়িয়ে ম্যাচ জেতা। কোচ হিসেবে এটা আমার কাজ দলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করে। হাতে এক ঝাঁক ফুটবলার নিয়ে সেটা না করতে পারলে, আমার ব্যর্থতা।”
পঞ্জাব ম্যাচের মতো নর্থইস্ট ম্যাচেও খেলতে পারবেন না আপুইয়া। তবে লোবেরা জানিয়েছেন, আলবের্তো রগ্রিগেজ় সুস্থ। যদিও, যুবভারতীর ট্রেনিং গ্রাউন্ডে রদ্রিগেজ়কে দেখা যায়, ফিজিয়োর সঙ্গে ব্যস্ত। আপুইয়ার সঙ্গে আলাদা ভাবে অনুশীলন করতে দেখা যায় তাঁকে। ফলে রদ্রিগেজ় আদৌ দলের সঙ্গে যাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।