আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।
বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হতে আর ১০০ দিনও বাকি নেই। তবে ইরান সেই বিশ্বকাপে খেলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে। সে দেশের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে ইরান বিশ্বকাপে খেলল কি না, তা নিয়ে পাত্তাই দিতে রাজি নন আয়োজক দেশ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক সাক্ষাৎকারে তেমনই মন্তব্য করেছেন তিনি।
‘পলিটিকো’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল ইরানের খেলা নিয়ে। তিনি বলেন, “আমার কোনও যায়ই আসে না। আমার মনে হয় ইরান খুব খারাপ ভাবে হেরে যাওয়া একটা দেশ। ওদের সব শক্তি শেষ হয়ে গিয়েছে।” সাম্প্রতিক যুদ্ধের জেরে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের সম্পর্ক কতটা খারাপ হয়েছে তা স্পষ্ট হয়েছে ট্রাম্পের এই মন্তব্যে।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। এশিয়ার যোগ্যতা অর্জন পর্বে গ্রুপ এ-তে জয়ী দল হিসাবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইরান। তাদের তিনটি ম্যাচই হবে আমেরিকার মাটিতে। ১৫ এবং ২১ জুন তারা খেলবে লস অ্যাঞ্জেলেসে, যথাক্রমে নিউ জ়িল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ২৬ জুন মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচ রয়েছে সিয়াটলে। তবে এই মুহূর্তে ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
উল্লেখ্য, গত বছর বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণার আগেই ট্রাম্প ইরানের বাসিন্দাদের আমেরিকা যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে ইরানের কর্তারা সূচি ঘোষণার অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শুরুতে তাঁদের ভিসাও দেয়নি আমেরিকা। বিস্তর টালবাহানার পর ভিসা দেওয়া হয় এবং ইরানের কর্তারাও সিদ্ধান্ত বদলে আমেরিকায় গিয়ে সূচি ঘোষণার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু তাতে সম্পর্ক শীতল হয়নি।
আপাতত ফিফা জানিয়েছে, তারা নিবিড় ভাবে ইরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। ফিফার সেক্রেটারি জেনারেল ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম বলেছেন, “আমরা ইরানের পরিস্থিতির খবর পেয়েছি। এ নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। তবে এখনও বিস্তারিত কিছু বলার সময় আসেনি। বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার দিকেই আমাদের নজর রয়েছে। সব দেশ যাতে নিরাপদে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারে সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। আয়োজক সব দেশের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”