ফ্রান্স কোচ দেশঁর বাড়ির দেওয়ালে ‘বর্ণবিদ্বেষী’ লিখলেন ফ্রান্স সমর্থকেরা। -টুইটার
শুধু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোই নন। ইউরোর বল গড়ানোর দিন তিনেক আগে একই বিতর্কে জড়িয়ে গেলেন ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশঁ। করিম বেঞ্জিমাকে ইউরোর দলে না রাখা নিয়ে প্রচুর গোলাগুলি ধেয়ে আসছে দেশঁর দিকে। যার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগের গুলিটা বর্ণবিদ্বেষের।
সপ্তাহখানেক আগেই তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ এরিক কতোঁনাও বর্ণবিদ্বেষে অভিযুক্ত করেছেন দেশঁকে। ঠিক এর পরপরই তাঁর বাড়িতে হঠাৎ চলে ভাঙচুর। হামলাকারীরা দেশঁকে উদ্দেশ্য করে বাড়ির দেওয়ালে লিখে দিয়ে যায় একটাই শব্দ— ‘বর্ণবিদ্বেষী’।
শুধু বাইরেই নয়, দেঁশকে নিয়ে টিমের মধ্যেও অসন্তোষের বাষ্প জমা হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইউরোর প্রস্তুতি শিবিরে দেশঁর হুকুমে রাত ১২টার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সব আলো। মানেটা সহজ। মাঝরাতের পর কেউ আর জেগে থাকতে পারবে না। যে ফতোয়ায় প্লেয়াররাও বিরক্ত।
সব মিলিয়ে ২০০০ সালের পর এ বার ঘরের মাঠে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে থাকা ফ্রান্স কোচ প্রবল চাপে। যার প্রভাব মাঠে না পড়ে সেটাই ভয় পাচ্ছে এখন তাদের সমর্থকরা।
এমনিতেই ইউরোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রচণ্ড কড়াকড়ি চলছে ফ্রান্সে। তার মধ্যেও অলিভিয়ার জিরুঁদের প্র্যাকটিস দেখতে ১০ হাজার সমর্থক ভিড় জমাচ্ছেন। সেটা এক দিক থেকে যেমন প্লেয়ারদের তাতাচ্ছে তেমনই তাঁদের বিরক্ত করছে দেশঁর ফতোয়া। জিরুঁ যেমন মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘মাঝরাতের পর দেশঁ গান-বাজনার কোনও শব্দ চান না। তাই প্লেয়ারদের এখন গেমস রুম থেকে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে।’’ ডিনারের পর গেমস রুমেই ফুটবলাররা বিশ্রাম নিতে যান। গান-বাজনা শুনে, টিটি, পিন বল মেশিনে নিজেদের রিল্যাক্সড রাখেন। কিন্তু দেশঁর আপত্তিতে সেই সুযোগও খুব বেশি আর পাওয়া যাচ্ছে কোথায়!
১৮ বছর আগে ফরাসি জার্সিতে বিশ্বকাপ জেতা দেশঁ যে বেশ চাপে আছেন সেটা তাঁর কথাতেও স্পষ্ট। গ্রুপ ‘এ’-তে ফ্রান্সের লড়াই সুইৎজারল্যান্ড, রোমানিয়া আর আলবেনিয়ার বিরুদ্ধে। জিরুঁদের জন্য সহজ ড্র বলেই যা ধরা হচ্ছে। তবে দেশঁ বলছেন, ‘‘সহজ ড্র তখনই বলা হয় যখন আপনি ম্যাচগুলো জিতবেন। হয়তো বলতে চাইছেন আমরা আরও কড়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পড়তে পারতাম। কিন্তু রোমানিয়া তো আর এমনি এমনি ইউরোয় কোয়ালিফাই করেনি। না আলবেনিয়া বা সুইৎজারল্যান্ড করেছে। এটুকু বলতে পারি আমরা প্রস্তুত। দু’বছর ধরে আমরা এই লড়াইয়ের জন্য তৈরি হয়েছি।’’
তবে দেশঁ যতই নিজেকে আত্মবিশ্বাসী দেখানোর চেষ্টা করুন না কেন, ফ্রান্সের সমর্থকরা আশঙ্কায়, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেঞ্জিমার না থাকাটা ফ্রান্সকে ভোগাতে পারে। জাতীয় দলের সতীর্থকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করার কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ায় বেঞ্জিমাকে বাদ দেন ইউরো থেকে দেশঁ। সঙ্গে ডোপ পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় মামাদৌ সাখোর না থাকা আর চোটের জন্য রাফায়েল ভারানে, লাসানা দিয়ারাদের মাঠের বাইরে থাকা ফ্রান্সের ডিফেন্স আর মিডফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
বেঞ্জিমাকে ইউরোর দলে না রাখা নিয়ে আগুনে আবার ঘি ঢেলেছেন কতোঁনার মন্তব্য। তিনি বলেছেন, ‘‘ফ্রান্সের দুই সেরা প্লেয়ার বেঞ্জিমা আর বেন আরফা ইউরো খেলতে পারছে না। কারণ ওদের পূর্বপুরুষরা উত্তর আফ্রিকার।’’ একই ধারণা বেঞ্জিমারও।
তবে ফ্রান্সের সহকারী কোচ গাই স্টিভন সব অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘রোমানিয়ার সঙ্গে একটা এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে আমাদের শুক্রবার। এই সময় দেশঁকে নিয়ে মিথ্যে অভিযোগ উঠছে। করিম এটা বলেনি দেশঁ বর্ণবিদ্বেষী। কিন্তু ফ্রান্সের একটা অংশ বর্ণবিদ্বেষী, ওদের চাপটা করিম নিতে পারেনি। তা সত্ত্বেও করিম যা বলেছে সেটা ভুল।’’