অদ্ভুত দৃশ্য লন্ডনে। ছবি: সংগৃহীত।
কোমর পর্যন্ত যথাবিধি পোশাকে ঢাকা ওঁদের শরীর। ঠান্ডায় কারও মাথায় পশমের টুপি, কেউ আবার স্যুট টাই পরে গটগটিয়ে হাঁটছেন অফিসের পথে। অথচ কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও শরীরের নিম্নভাগের পোশাকটি যে নেই সে দিকে ভ্রুক্ষেপই নেই কারও। যেন বাড়িতেই ভুলে চলে এসেছেন। আর সেই ভুল শোধরানোর কথা মনেই পড়েনি আর। তাই নির্বিকার চিত্তে সে ভাবেই ওঁরা হাসছেন, বই পড়ছেন, মেতে আছেন যে যার কাজে। লন্ডনে গত ১১ জানুয়ারি রবিবার সকালে ওই অর্ধনগ্ন অবস্থাতেই নিজেদের স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠতে এবং গন্তব্যে পৌঁছোতে দেখা গেল লন্ডনবাসীকে। সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে সেগুলি।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োগুলিতে দেখা গিয়েছে, লন্ডনে অনেকেই ঊর্ধ্বাঙ্গে অফিসবিধি মেনে কেতাদুরস্ত পোশাক বা স্যুট পরেছেন। পায়ে পরে রয়েছেন ঝকঝকে চামড়ার বুট। কিন্তু কোমর থেকে গোড়ালি পর্যন্ত শরীরে একটিই পোশাক— অন্তর্বাস। সে এক অদ্ভুত দৃশ্য— লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কাতারে কাতারে অর্ধনগ্ন নারী-পুরুষ যাত্রী হেঁটে চলেছেন। তাঁদের মুখ ভাবলেশহীন। পোশাক ভুলে গিয়েছেন না কি স্বেচ্ছায় ছেড়ে এসেছেন বাড়িতে, বোঝার উপায় নেই তাঁদের দেখে।
তবে লন্ডন এমন দৃশ্য এই প্রথম দেখছে না। লন্ডনে ফি বছরে এই দৃশ্য দেখা যায়। যখন অর্ধেক পোশাক পরেই এ ভাবে কাতারে কাতারে ট্রেনে সফর করেন লন্ডনের মানুষ। বিগত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রেওয়াজ পালন করছে রক্ষণশীল ব্রিটেনের রাজধানী শহর। রেওয়াজটির নাম ‘নো ট্রাউজ়ার্স টিউব ডে’। প্রতি বছর এই দিনটি উদ্যাপন করে লন্ডন। নিয়ম— প্যান্ট ছাড়াই উঠতে হবে ট্রেনে। এমনকি স্টেশনে নেমেও প্যান্ট পরা যাবে না। তবে এর চল শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে নিউ ইয়র্কে। ২০১০ সাল থেকে উদ্যাপনে মাতে লন্ডনও।
উদ্যাপনে যোগ দেওয়া মানুষের দাবি, নিত্য দিনের একঘেয়ে জীবনে দৃশ্যগত একটি ধাক্কা দেওয়াই এই দিনটির লক্ষ্য। তবে নেহাতই মজার ছলে। কোনও অভব্যতা বা অশ্লীলতা এই উদ্যাপনের উদ্দেশ্য নয়। তাই, এই উদ্যাপনে যাঁরা অংশ নেবেন, তাঁদের জন্য কয়েকটি না বলা নিয়মও আছে। যেমন কারও সঙ্গে চোখাচোখি হওয়া এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।