Australian Open 2026

আরও একটা গ্র্যান্ড স্ল্যামের পুরস্কার মঞ্চে থাকবেন ভাবেননি জোকোভিচ, ফাইনালে হেরে বললেন, কাল কী হবে ঈশ্বরই জানেন

নোভাক জোকোভিচ আধুনিক টেনিসের নতুন অধ্যায় লিখছেন। যে অধ্যায়ে রাফায়েল নাদাল, রজার ফেডেরারেরা অতীত। সংযোজিত হয়েছেন কার্লোস আলকারাজ়, ইয়ানিক সিনারের মতো নবীনেরা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:০৩
Share:

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনালে প্রথম হার নোভাক জোকোভিচের। ছবি: রয়টার্স।

২০০৫ সালে প্রথম বার অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। তখন কার্লোস আলকারাজ়ের বয়স ১ বছর সাত মাস। ২২ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেলা জোকোভিচের ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন এ বারও অধরা। ২২ বছরের আলকারাজ়ের বাধা অতিক্রম করতে পারলেন না ফাইনালে। তবু আলকারাজ়, ইয়ানিক সিনারদের মতো তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে পৌঁছে খুশি বিশ্বের প্রাক্তন এক নম্বর। এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারলেন জোকোভিচ।

Advertisement

কোভিড টিকা না নেওয়ায় ২০২২ সালে জোকারকে ভিসা দেয়নি অস্ট্রেলিয়া। সে বার খেলা হয়নি। মেলবোর্ন গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল। বাকি ২১ বছরই খেলেছেন। ১০ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। বিশাল অভিজ্ঞতা নিয়ে ফাইনালে নেমেছিলেন। প্রতিপক্ষ আলকারাজ়ের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার অভিজ্ঞতা ছিল না। তবু রাফায়েল নাদালের সামনে তাঁর শিষ্যকে হারাতে পারলেন না জোকোভিচ।

রানার আপের থালা হাতে নিয়ে প্রথমেই আলকারাজ়কে অভিনন্দন জানালেন। প্রশংসা করলেন ১৬ বছরের ছোট প্রতিপক্ষের। বাকি টেনিসজীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানালেন, ‘‘আলকারাজ় তুমি ইতিহাস তৈরি করলে। দারুণ। তোমার সামনে অনেক সময় রয়েছে। দীর্ঘ দিন খেলবে। আশা করি আরও সাফল্য পাবে। আগামী ১০ বছরে তোমাকে আরও কয়েক বার এ ভাবে দেখার আশা থাকল। শুভেচ্ছা থাকল।’’

Advertisement

আগামী বছর কি আবার ফিরবেন প্রিয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে? কথা দিতে পারলেন না জোকার, ‘‘কাল কী হবে ঈশ্বর জানেন। ছয় বা ১২ মাস পর কেমন অবস্থায় থাকব জানি না। এই নিয়ে ২১ বা ২২ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় আসছি। এ বারও যে পুরস্কার মঞ্চে থাকতে পারলাম, তার কৃতিত্ব দর্শকদের। আপনারাই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেন। প্রতি বারের মতো এ বারও দিয়েছেন। আপনাদের ধন্যবাদ।’’

একটু থামলেন। ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিততে না পারার হতাশা অভিজ্ঞতা এবং পেশাদারিত্বের আড়ালে ঢেকে রেখেছিলেন। মজা করছিলেন কথা বলার সময়। ৩৮ বছরের জোকোভিচ আসলে মনের আনন্দেই খেলে চলেছেন। টেনিস কোর্টে তাঁর জেতার বাকি নেই কিছু। যাঁদের সঙ্গে শুরু করেছিলেন, তাঁদের অন্যতম নাদাল ছিলেন ফাইনালের দর্শকাসনে। নাদালের অ্যাকাডেমি থেকেই উঠে এসেছেন আলকারাজ়। একদা প্রতিপক্ষের ছাত্র এখন তাঁর উল্টো দিকের কোর্টে।

নাদালের উপস্থিতি জোকারের নজর এড়ায়নি। তাঁর দিকে তাকিয়ে জোকার বললেন, ‘‘রাফায়েল তোমাকে ওখানে নয়, উল্টো দিকের কোর্টে দেখতে অভ্যস্ত আমি। তোমার সঙ্গে খেলাটা সম্মানের। তা না হলেও তোমার উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। আসার জন্য ধন্যবাদ। আমাকে আসলে দু’জনের বিরুদ্ধে লড়তে হল। স্পেনের দুই কিংবদন্তির বিরুদ্ধে। ঠিক আছে। আবার চেষ্টা করব।’’

নিজের পারফরম্যান্সে অখুশি নন জোকোভিচ। বললেন, ‘‘বছরের পর বছর এখানে সেরা টেনিস খেলার চেষ্টা করেছি। সব সময় নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছি। বিশেষ করে আলকারাজ় বা সিনারের মতো সেরা মানের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কোর্টে নামলে বিশ্বাসটা রাখতেই হয়। সত্যি বলতে আরও একটা গ্র্যান্ড স্ল্যামের পুরস্কার অনুষ্ঠানে থাকতে পারব ভাবিনি।’’

ফাইনাল হেরেও এমন ফুরফুরে মেজাজে থাকা যায়! জোকোভিচ আধুনিক টেনিসের নতুন অধ্যায় লিখছেন। যে অধ্যায়ে নাদাল, রজার ফেডেরারেরা অতীত। সংযোজিত হয়েছেন আলকারাজ়, সিনারের মতো নবীনেরা। জোকোভিচ সেই অর্থে এখন প্রবীণ। যদিও বয়স তাঁর কাছে সংখ্যা মাত্র। না হলে পরের প্রজন্মের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টেনিস খেলা যায় না। তিন-চার ঘণ্টা সমানে লড়াই করা যায় না। খেতাবের লড়াইয়ে নামা যায় না। ফর্ম, ফিটনেস ধরে রাখা যায় না। জোকোভিচ এখন শুধু খেলছেন না। আলকারাজ়-সিনারদের সামনে উদাহরণ তৈরি করছেন। কোর্টে নেমে যেন ম্যাচ সিচুয়েশন অনুশীলন করাচ্ছেন। অবসরের আগে টেনিসকে সাজিয়ে গুছিয়ে তুলে দিচ্ছেন আগামী প্রজন্মের হাতে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement