উচ্ছ্বাস: ম্যাচ জিততেই আয়ুষকে আলিঙ্গন চিরাগের। ব্যাডমিন্টন ফটো
টমাস কাপে কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী চিনা তাইপেকে ৩-০ ফলে উড়িয়ে দিল ভারতীয় দল। লক্ষ্য সেন, আয়ুষ শেট্টি সিঙ্গলসে এবং ডাবলসে সাত্ত্বিক-চিরাগ জুটি দুরন্ত দাপট দেখিয়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করে দেন।
প্রথম গেমেই বিশ্বের ৬ নম্বর চৌ তিয়েন চেনের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে লক্ষ্য জেতেন ১৮-২১, ২২-২০, ২১-১৭ ফলে। এক ঘণ্টা ১৮ মিনিটের লড়াইয়ে লক্ষ্য প্রথম গেমে হেরে পিছিয়ে গিয়েছিলেন। এর আগে দু’জনের মুখোমুখি লড়াইয়ে ফল ছিল ৪-৪। প্রথম গেমে চৌ নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১০-১৫ পিছিয়ে থাকার পরেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতেন। লক্ষ্য পাল্টা জবাব দেন দ্বিতীয় গেমে চাপের মধ্যেও ১৩-১৭ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় পরপর চারটে পয়েন্ট তুলে নিয়ে। চৌ তার পরেও দুটি ম্যাচ পয়েন্ট পান। কিন্তু লক্ষ্য হাল ছাড়েননি। দুটি পয়েন্টই বাঁচিয়ে ম্যাচ তৃতীয় গেমে নিয়ে যান। ৩৬ বছর বয়সি চৌ-কে এই সময় কিছুটা ক্লান্ত মনে হচ্ছিল। সেই সুবিধা নিয়ে তৃতীয় গেমের বিরতিতে ১১-৭ এগিয়ে যান লক্ষ্য এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচ দখল করে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন।
টাইয়ের দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বের ৪ নম্বর সাত্ত্বিক-চিরাগ মুখোমুখি হন চিউ সিয়াং চিয়ে এবং ওয়াং চি লিনের জুটির। এই ম্যাচটিও তিন গেম চলে। শেষে ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের লড়াইয়ের পরে ২৩-২১, ১৯-২১, ২১-১২ ফলে সাত্ত্বিকরা জিতে ২-০ এগিয়ে দেন দলকে। এর পরে দায়িত্ব এসে পড়ে ২০ বছর বয়সি আয়ুষ শেট্টির উপরে। যিনি ব্যাডমিন্টন এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের ছন্দ ধরে রেখে এই প্রতিযোগিতার গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচই জেতার পরে এই ম্যাচে নেমেছিলেন। তাঁর লড়াই ছিল বিশ্বের আট নম্বর এবং অল ইংল্যান্ড ওপেন চ্যাম্পিয়ন লিন চুন ই-এর বিরুদ্ধে। বিশ্বের ১৮ নম্বর আয়ুষ স্ট্রেট গেমে জয় তুলে নেন। ফল ২১-১৬, ২১-১৭। প্রাক্তন ভারতীয় কোচ বিমল কুমার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ‘‘এই জয়টা শুধু উৎসব করার মতোই নয়। স্মরণীয় একটা জয়। বিশ্বাস, প্রস্তুতির প্রতিফলনের পাশাপাশি ভারতীয় ব্যাডমিন্টন কতদূর এগিয়েছে সেটাই দেখিয়ে দিচ্ছে এই সাফল্য।’’ ফাইনালে ওঠার জন্য এ বার ভারতীয় দল মুখোমুখি হবে ফ্রান্স বনাম জাপানের মধ্যে কোয়ার্টার ফাইনালে বিজয়ী দলের।
শেষ আটে জিতে লক্ষ্যরা একই সঙ্গে দলগত ব্যাডমিন্টনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় পদক নিশ্চিত করে ফেলল। এর আগে ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি ১৯৫২, ১৯৫৫ এবং ১৯৭৯ সালে ব্রোঞ্জ জিতেছে ভারতীয় দল এই প্রতিযোগিতায়। বিমল কুমার আরও বলেছেন, ‘‘ভারতীয় দল গর্বিত হওয়ার মতোই খেলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল এই ধরনের জয় সামনে যে পরীক্ষাই আসুক না কেন তার আগে অনেকটা আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।’’
জয়ের পরে আয়ুষ বলেছেন, ‘‘আমাদের বিশ্বাস, এ বার আমরা ট্রফি জিততে পারি। আমাদের দল শক্তিশালী। দলের সবাই বিশ্বাস করে আমরা জিততে পারব।’’ প্রথম বার টমাস কাপে নেমে এখনও পর্যন্ত অপরাজিত আয়ুষ আরও বলেছেন, ‘‘আগের দিন আমরা গ্রুপ পর্বে খেলেছি। তবে এ দিনের ম্যাচে একটু চাপ ছিল। আগেই দলের ২-০ এগিয়ে যাওয়াটা কিছুটা সাহায্য করেছে। আমার মনে হয় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলতে পেরেছি। দলের জয়ে খুব খুশি।’’
লিনের বিরুদ্ধে কি কৌশল নিয়ে নেমেছিলেন জানতে চাইলে আয়ুষ বলেছেন, ‘‘লিন অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন এবং আক্রমণের দিক থেকে খুব শক্তিশালী। পরিকল্পনা ছিল, বেশি করে আক্রমণ করা এবং ওকে বেশি সুযোগ না দেওয়া। মনে হয় সেই পরিকল্পনা ঠিকঠাক প্রয়োগ করতে পেরেছি।’’
প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে গিয়েও দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়ান লক্ষ্য বলেছেন, ‘‘বিপক্ষের জন্য প্রথম গেমটা ভাল গিয়েছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম না আক্রমণ করব না রক্ষণ। দ্বিতীয় আর তৃতীয় গেমে আমি ঠিক করলাম, আর ঘটনা ঘটার জন্য অপেক্ষা করব না। আমাকেই কিছু করতে হবে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে