(বাঁ দিকে) বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শমীক ভট্টাচার্য (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
বহু চর্চিত নির্বাচন শেষে। অপেক্ষা ফলপ্রকাশের। কিন্তু এরই মধ্যে ‘সন্ত্রাসে’র আশঙ্কা উঁকি দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেহালা-সহ কয়েকটি জায়গায় অশান্তির ছবি সামনে এসেছে। পাঁচ বছর আগেও, ফলপ্রকাশের পরে প্রায় দু’মাস ধরে ভোট পরবর্তী ‘সন্ত্রাসে’র ছবি দেখেছিল পশ্চিমবঙ্গ। এমন অতীতের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি, রাজ্যের প্রধান দুই শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রচার-পর্বে নানা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে আবার ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ঝুঁকি রয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের। এরই মধ্যে ‘এখনই হামলা না-চালানো’ এবং আইন মানার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টো দিকে, প্রচার-পর্বে ‘ভুল’ হলে, তার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘তৎপরতা’য় অনেক বছর পরে বিধানসভা নির্বাচন মৃত্যুহীন এবং প্রায় রক্তশূন্য হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, নির্বাচনের পরেও দু’মাস রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। কিন্তু তার পরেও সন্ত্রাসের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিজেপি মনে করাচ্ছে, গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসে’ দলের অন্তত ৫৭ জন কর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। ঘর ছাড়া হয়েছিলেন হাজারেরও বেশি কর্মী। উল্টো দিকে, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের পরে আরামবাগ মহকুমা, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিজেপির ‘সন্ত্রাসে’র কথা বলছে তৃণমূল।
এমন আবহেই দলের নেতা-কর্মীদের ‘শান্ত, সংযত’ থাকার বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বলেছেন, ‘ওঁরা হামলা করলেও, আপনারা এখনই হামলাতে যাবেন না। বেহালায় অনেক মারধর করেছে। ভাঙড়ে আমাদের কর্মীকে যে ভাবে পেটানো, রক্তাক্ত করা হয়েছে, আগামী দিনে তার জবাব দিতে হবে। এর জন্য আমরা ব্যবস্থা করব। আপনাদের আইন হাতে তুলে নেওয়ার দরকার নেই।’ উল্টো দিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক বলেছেন, “প্রচারের সময় আমাদের কেউ কোনও অশালীন মন্তব্য, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলে, কুরুচিকর কথা বলে থাকলে, নিম্নরুচির পরিচয় দিলে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।”
তবে দু’পক্ষের এমন বার্তাতেও আদতে কতটা কাজ হয়, সে দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। ভোট চলাকালীন বাহিনীর ‘কাজকর্মে’র দায় অনেকাংশেই বিজেপির উপরে চাপিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। প্রচার-পর্বে বার বার তৃণমূলের ‘গুন্ডাদের উল্টো করে সোজা’ করার দাওয়াই দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ। উল্টো দিকে, প্রচার-পর্ব থেকেই ফলপ্রকাশের পরে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ‘ডিজে’ বাজানোর কথা বলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা আদতে হুমকি বলেই মত রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের।
এই আবহে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই বার্তা দিয়েছে দু’পক্ষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক বলেছেন, “আমরা ভোট-সন্ত্রাস বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রশাসনিক দায়িত্ব নিতে কিছুটা সময় লাগে। সেই সময়টা রাজ্যপালকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা সংঘর্ষ নয়, সমন্বয়ে বিশ্বাসী। তৃণমূলের হাতে আমাদের বহু কর্মীর রক্ত লেগে আছে। তাঁদের আমরা আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করব।” উল্টো দিকে, তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর মন্তব্য, “এই বারে ভোট পূর্ববর্তী সন্ত্রাস হয়েছে। সাংসদ মিতালি বাগকে মারার চেষ্টা, মুখ্যমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে কুৎসিত ‘মিম’, সবই হয়েছে। বিজেপির বোঝা উচিত, এগুলোর প্রতিক্রিয়া হয়। কিন্তু আমরা চাই, বাংলায় শান্তি বজায় থাকুক।”
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে