কয়েক দিন আগে কেরল ব্লাস্টার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির লোগো উদ্বোধন অনুষ্ঠানে টিমের সঙ্গে মর্গ্যান। —ফাইল চিত্র
সুনীল ছেত্রীদের মতো জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতেন ৩০ বছরের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ ফুটবলার!
বহু দিন ধরে ইচ্ছে ছিল ভারতে এসে ফুটবল খেলবেন! আর সেই সুযোগ এ বার করে দিয়েছে আইএসএল। কেরল ব্লাস্টার্সে খেলার আমন্ত্রণ পেয়ে তাই দ্বিতীয় বার ভাবেননি মাইকেল চোপড়া। যাঁকে অনুশীলন ম্যাচে দেখে এই মুহূর্তে উচ্ছ্বসিত ট্রেভর জেমস মর্গ্যান।
আইএসএলে বল গড়ানোর আগেই ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন কোচ ট্রেভর জেমস মর্গ্যানের সার্টিফিকেট পেয়ে গিয়েছেন চোপড়া। মর্গ্যান জানিয়েছেন, “মাইকেল চোপড়ার ফিনিংশটা বেশ ভাল। আমাদের দলের অন্যতম ভরসা কিন্তু ও।” শুধু মাইকেল চোপড়া নন, ফ্রান্সের দুই ডিফেন্ডার সেড্রিক হেবার্ত এবং রাফায়েল রোমের খেলাও ভাল লেগেছে ব্রিটিশ কোচের। মেহতাব-পেন-সৌমিক দলের বেশির ভাগ ফুটবলারকেই হাতের তালুর মতো চেনেন। বাকিদের নিয়েও আশাবাদী ব্রিটিশ কোচ। আয়ার্ল্যান্ডের ডিফেন্ডার কোলিন ফ্যালভে ছাড়া বাকি সবাই দলের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগ দিয়েছেন। হেড কোচ ডেভিড জেমস তো শুরু থেকেই রয়েছেন দলের সঙ্গে। আইএসএল শুরু হওয়ার ১৮ দিন আগে মর্গ্যানের দাবি, “আমাদের ফুটবলাররা খুব পরিশ্রম করছে। দলের অধিকাংশ ফুটবলারই তো আমার চেনা। আইএসএলে ভাল ফলের বিষয়ে আমি তাই খুবই আশাবাদী।”
দু’বেলা নিয়মিত অনুশীলন করছেন মেহতাব হোসেনরা। এ ছাড়াও আলাদা করে জিম করতে হয়। এর সঙ্গে প্র্যাকটিস ম্যাচ তো মাঝে মাঝেই খেলছেন সচিন তেন্ডুলকরের টিমের ছেলেরা। মঙ্গলবারই যেমন স্থানীয় একটি কলেজ দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছেন তাঁরা। ৭-০ জিতেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর মহমেডানের সঙ্গে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার কথা। আর ৩০ সেপ্টেম্বর পেন ওরজিরা গোয়া যাচ্ছেন। ডেম্পোর সঙ্গে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে সেখানে।
কেরলের প্রথম ম্যাচ গুয়াহাটিতে জন আব্রাহামের নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের সঙ্গে। গুয়াহাটি যাওয়ার মাঝে তিন দিন অবশ্য কলকাতায় থাকছে কেরল ব্লাস্টার্স। ১০ অক্টোবর এখানে আসবেন মেহতাবরা। ১৩ তারিখ বিকেলে গুয়াহাটির বিমান ধরবেন।
দু’বছর হয়ে গেল মর্গ্যান কলকাতা ছেড়েছেন। তার পর ভারতে এলেও এ শহরে পা রাখেননি। এত দিন পর আবার কলকাতায় আসছেন। কিছুটা কি আবেগপ্রবণ? ই-মেলের মাধ্যমে মর্গ্যান অবশ্য জানিয়েছেন, “কলকাতা আমার ভাল লাগার শহর ঠিকই। ওখানে অনেক শ্রদ্ধা, ভালবাসা পেয়েছি। তবে এ বার যাচ্ছি একেবারে পেশাদার কারণে। ইস্টবেঙ্গলের কোচ থাকার সময় গুয়াহাটিতে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দূরত্ব কতটা জানি। কেরল থেকে টানা গুয়াহাটি গেলে ফুটবলারদের উপর মারাত্মক ধকল যাবে। তাই কলকাতায় তিন দিন থেকে ওখানে যাব।” ফুটবলারদের ক্লান্তির জন্য তিন দিন কলকাতায় বিশ্রাম? মেহতাব হোসেন, সৌমিক দে’রা অবশ্য এই সুযোগে বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করে যেতে পারবেন। আর ব্রিটিশ কোচও কি পুরনো স্মৃতিকে ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন না? “কলকাতায় গেলে নিঃসন্দেহে ভাল লাগবে। ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের সঙ্গে তো এখনও সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে দেখা হবে কিনা জানি না।” বলার পরই যেন সতর্ক হয়ে যান লাল-হলুদের প্রাক্তন কোচ। জানিয়ে দেন, “ভুলে যাবেন না আমি এখন কেরল ব্লাস্টার্সের কোচ। এই টিমের সাফল্য নিয়েই বেশি চিন্তিত।”
কেরল ব্লাস্টার্সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল নিয়ামানুবর্তিতা। প্র্যাকটিসের সময় ঘড়ি ধরে যেমন ফুটবলার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফকে মাঠে পৌঁছতে হয়। তেমনই সময় ধরে প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজ থেকে নৈশভোজ করতে হবে। রাতে শুতেও যেতে হবে সময় মেনে। বাইরে বের হওয়ার উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই ঠিকই, তবে সময় মতো ফিরে আসতে হবে। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশ রয়েছে হেড কোচ ডেভিড জেমসের। এখন দেখার, এই কড়া শাসনের মাঝে মেহতাব-ইসফাকরা আইএসএলে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেন কি না!