Novak Djokovic

শেষ দু’ম্যাচে একটিও সেট না জিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে জোকোভিচ! শেষ চারে সামনে সিনার

রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নেমেছেন ৩৮ বছর বয়সি জোকোভিচ। কিন্তু এই সার্বিয়ান তারকা ছন্দে ছিলেন না। খানিকটা খামখেয়ালি টেনিস খেলেন। প্রচুর ভুল করেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:৪২
Share:

(বাঁ দিকে) নোভাক জোকোভিচ ও ইয়ানিক সিনার (ডান দিকে)। ছবি: রয়টার্স।

দু’টি সেট হেরে এবং একটিও সেট না জিতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে চলে গেলেন নোভাক জোকোভিচ! বুধবার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে তিনি ওয়াকওভার পান। তার আগে প্রথম দু’টি সেট হেরে গিয়েছিলেন। তবে শেষ চারে জোকোভিচের সামনে কঠিন প্রতিপক্ষ। ২৪তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের লড়াইয়ে থাকতে হলে দ্বিতীয় বাছাই ইয়ানিক সিনারকে হারাতে হবে তাঁকে।

Advertisement

ঘটনা হল, তৃতীয় রাউন্ডের পর একটিও সেট না জিতেই শেষ চারে জায়গা পাকা করে ফেললেন চতুর্থ বাছাই জোকোভিচ। চতুর্থ রাউন্ডে জাকুব মেনসিচের বিরুদ্ধে ওয়াকওভার পান। এর পর বুধবার কোয়ার্টার ফাইনালে ইটালির লরেঞ্জো মুসেত্তির বিরুদ্ধেও ওয়াকওভার পান। পঞ্চম বাছাই মুসেত্তি সেই সময়ে ৬-৪, ৬-৩ গেমে প্রথম দু’টি সেট জিতেছিলেন। তৃতীয় সেটে অবশ্য জোকোভিচ ৩-১ গেমে এগিয়ে ছিলেন।

রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নেমেছেন ৩৮ বছর বয়সি জোকোভিচ। কিন্তু এই সার্বিয়ান তারকা ছন্দে ছিলেন না। খানিকটা খামখেয়ালি টেনিস খেলেন। প্রচুর ভুল করেন। শুরুটা ভাল করলেও পরে খেই হারিয়ে ফেলেন। প্রথম সেটে তিনি ১৮টি আনফোর্সড এরর করেন। দ্বিতীয় সেটে ব্রেক পয়েন্ট পেয়েও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। তৃতীয় সেটের শুরুতেই ২৩ বছরের মুসেত্তি চোটের কবলে পড়েন।

Advertisement

উরুর চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টাইম-আউট নিলেও ঠিকমতো সার্ভিস বা নড়াচড়া করতে পারছিলেন না মুসেত্তি। শেষপর্যন্ত ম্যাচ ছাড়তে বাধ্য হন। নিজের দলের এক সদস্যের সাহায্য নিয়ে তিনি যখন কোর্ট ছাড়ছেন, তখন বোঝাই যাচ্ছিল তাঁর ব্যথা কতখানি।

ম্যাচ শেষে জোকোভিচ স্বীকার করে নেন, মুসেত্তি অনেক ভাল খেলেছেন। বলেন, ‘‘ও আমার চেয়ে অনেক ভাল খেলছিল। মনে হচ্ছিল আজই আমার ছুটি হয়ে যাবে। বুঝতে পারছি না কী বলব। ওর জন্য খুব খারাপ লাগছে। আমি ওর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কোনও সন্দেহ নেই আজ ওরই জেতার কথা ছিল।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি জানিক সিনার এবং বেন শেলটনের ম্যাচটা দেখব এবং আমার দলের সঙ্গে নিজের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা করব। আমার প্রধান লক্ষ্য এখন নিজের খেলায় উন্নতি করা। তবে বাকি প্রতিযোগিতায় আমি বেশ ভাল খেলেছি। আজকের পারফরম্যান্সে আমি একদমই খুশি নই। আশা করি আগামী পরশু নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারব।’’ শুক্রবার সেমিফাইনালে খেলবেন জোকোভিচ।

দ্বিতীয় সেটের শেষে জোকোভিচই প্রথম চোট পান। মুসেত্তি ম্যাচ না ছাড়লে হয়তো জোকারকেই ওয়াকওভার দিতে হত। প্রাক্তন মহিলা খেলোয়াড় মার্গারেট কোর্টের ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের রেকর্ড মেলবোর্নেই টপকে যেতে হলে জোকোভিচকে দ্রুত ম্যাচ শেষ করতে হবে। না হলে অস্ট্রেলিয়ার প্রচণ্ড গরমে যে তিনি বেশিক্ষণ কোর্টে থাকতে পারবেন না, তা বোঝা গিয়েছে।

মুসেত্তির এক হাতে মারা ব্যাকহ্যান্ড এবং সার্ভিসের সামনে জোকোভিচকে বেশ অসহায় দেখাচ্ছিল। ১১তম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিততে হলে তাঁকে অবশ্যই খেলায় উন্নতি করতে হবে। কারণ, সেমিফাইনালে তাঁর সামনে গত বারের চ্যাম্পিয়ন সিনার।

পুরুষদের সিঙ্গলসের শেষ কোয়ার্টার ফাইনালে অষ্টম বাছাই আমেরিকার বেন শেল্টনকে (৬-৩, ৬-৪, ৬-৪) স্ট্রেট সেটে হারিয়েছেন সিনার। দেখে মনে হয়নি খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে তাঁকে। পাওয়ার টেনিসে শেল্টনকে চাপে রাখেন সিনার। গোটা ম্যাচে ১২ বার প্রতিপক্ষের সার্ভিস ভাঙার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সবগুলি কাজে লাগাতে পারলে আরও আগে খেলা শেষ হয়ে যেত। তিন সেটে তিন বার শেল্টনের সার্ভিস ভাঙেন সিনার। তাতেই তিনটি সেট নিজের নামে করে নেন তিনি।

তবে সিনারের সার্ভিস নিয়েও কিছু প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে তাঁর প্রথম সার্ভিস। শেল্টনও চার বার তাঁর সার্ভিস ভাঙার সুযোগ পেয়েছিলেন। কাজে লাগাতে পারেননি। সার্ভিসে সামান্য সমস্যা ছাড়া গোটা ম্যাচে অপ্রতিরোধ্য দেখিয়েছে সিনারকে। বোঝা যাচ্ছে সেমিফাইনালে জোকোভিচকে জিততে হলে নিজের সেরা খেলা খেলতে হবে। নইলে এই ফর্মের সিনারকে হারানো মুশকিল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement