সন্ধান মিলল দুই নতুন প্রজাতির মথের— কলোসেরা হলোয়াই এবং আসুরা বক্সা। ছবি: কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ুমন্ত্রীর সমাজমাধ্যম পাতা থেকে।
উত্তরবঙ্গে সন্ধান মিলল নতুন প্রজাতির এক মথের। সিকিম থেকেও একটি নতুন প্রজাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কলকাতায় অবস্থিত ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণের বিজ্ঞানীরা এই নতুন দুই প্রজাতির মথ আবিষ্কার করেছেন। দুই নতুন প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে কলোসেরা হলোয়াই এবং আসুরা বক্সা। নতুন এই দুই প্রজাতির আবিষ্কারের কথা সোমবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ুমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।
ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণের এই গবেষকদলে ছিলেন নবনীত সিংহ, সন্তোষ সিংহ এবং সৃষ্টি ভট্টাচার্য। সিকিমের গোলিতার এবং পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের পানিঝোরা সংলগ্ন এলাকা থেকে এই মথের নমুনাগুলি সংগ্রহ করেন তাঁরা। সম্প্রতি ‘জ়ুট্যাক্সা’ জার্নালে এই নতুন প্রজাতি আবিষ্কারের কথা প্রকাশিত হয়। ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণের ডিরেক্টর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, কম পরিচিত এই প্রজাতিগুলিকে নিয়ে গবেষণা অত্যন্ত জরুরি। এই মথগুলি যেখানে বাস করে সেখানে বায়ুদূষণের মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রেও এটি একটি সূচক হিসাবে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
বিজ্ঞানীদের মতে এই প্রজাতিগুলি বায়ুদূষণের ‘সূচক প্রজাতি’ (ইন্ডিকেটর স্পিসিস)। কারণ, এদের লার্ভা বা শুঁয়োপোকারা মূলত লাইকেনের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। আর এই লাইকেন জন্মায় দূষণমুক্ত পরিবেশে বা যেখানে দূষণের মাত্রা অনেক কম থাকে এমন পরিবেশে। ফলে যে ভৌগোলিক এলাকায় এদের বাস, তার মধ্যে কোনও অঞ্চলে এই মথের থাকা বা না-থাকার উপরে সেখানে বায়ুদূষণের মাত্রার আভাস মিলতে পারে। ফলে হিমালয় অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র এবং বায়ুদূষণের মাত্রা বোঝার ক্ষেত্রে এই মথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।
নতুন দুই প্রজাতির মথের সন্ধানকে একটি অনন্য মাইলফলক বলেই ব্যাখ্যা করছেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ুমন্ত্রী। তিনি সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘ভারতের প্রাণী সর্বেক্ষণ দু’টি নতুন প্রজাতির লাইকেন মথ আবিষ্কারের কথা ঘোষণা করেছে। এ দেশে মথ-জীববৈচিত্রের নথিতে কলোসেরা হলোয়াই এবং আসুরা বক্সার আবিষ্কার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব।’