(বাঁ দিক থেকে) শতদ্রু দত্ত, অরূপ বিশ্বাস, রদ্রিগো ডি পল, লিয়োনেল মেসি এবং জুঁই বিশ্বাস। — ফাইল চিত্র।
রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আগেই মামলা করেছেন শতদ্রু দত্ত। এ বার অরূপের প্রাক্তন ভ্রাতৃবধূ জুঁই বিশ্বাসের কাছে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইনি নোটিস পাঠালেন গত ডিসেম্বরের লিয়োনেল মেসির ইভেন্টের আয়োজক শতদ্রু।
জুঁই এখন কলকাতা পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। অরূপের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের প্রাক্তন স্ত্রী তিনি। তৃণমূল কাউন্সিলর জুঁই সম্প্রতি বিদ্রোহী তৃণমূলের হোটেল-বৈঠকে যোগও দিয়েছিলেন। সেখানে ছিলেন অরূপও। শতদ্রুর অভিযোগ, কলকাতায় মেসি ইভেন্টের দিন বিনা অনুমতিতে তিনি যুবভারতীর মাঠে ঢুকেছিলেন। জুঁইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
‘আ শতদ্রু দত্ত ইনিশিয়েটিভ’ সংস্থার মালিক এবং ‘গোট ট্যুর অফ ইন্ডিয়া– কলকাতা এডিশন’-এর প্রধান সংগঠক ও প্রচারক শতদ্রু দত্তের পক্ষ থেকে জুঁইকে পাঠানো আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, ‘‘আপনাকে শতদ্রু বা তাঁর সংস্থার পক্ষ থেকে কখনোই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। আপনার নামে কোনও অ্যাক্রেডিটেশন (অনুমোদন) কার্ড ইস্যু করা হয়নি। অনুমোদিত প্রবেশ তালিকায় আপনার নাম ছিল না এবং এই অনুষ্ঠানে আপনার কোনও অফিশিয়াল ভূমিকাও ছিল না। তা সত্ত্বেও, আপনি সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেন এবং খেলার মাঠে লিয়োনেল মেসির সঙ্গে ছবি ও সেলফি তোলেন।’’
ওই নোটিসে আরও বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের পর সংবাদমাধ্যমে জুঁই নিজেই দাবি করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রীর মাধ্যমেই অনুষ্ঠানের জায়গায় এবং সংরক্ষিত এলাকায় তাঁর প্রবেশাধিকার সহজ হয়েছিল। অরূপকে যে জুঁই তাঁর আত্মীয় বলেও উল্লেখ করেছেন, সে কথাও লেখা হয়েছে শতদ্রুর পাঠানো আইনি চিঠিতে।
শতদ্রুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘‘এই ধরনের বক্তব্য এটিই প্রমাণ করে যে, সংগঠকদের দ্বারা অফিশিয়াল অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।’’ জুঁই এবং অন্যান্য অননুমোদিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি সেদিনের অনুষ্ঠানের স্বাভাবিক গতিতে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে দাবি করেছেন শতদ্রু। তিনি বলেছেন, এর জন্য তাঁর বিপুল সম্মানহানি হয়েছে এবং তাঁকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আইনি নোটিসে এর পরেই ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।
জুঁইকে বলা হয়েছে, তাঁকে লিখিত ভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। ১৫ দিনের মধ্যে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। না হলে আদালতের দ্বারস্থ হবেন শতদ্রু।