জয়দীপের অ্যাকাডেমিতে শিবির ডিসেম্বরে

টনি রোচের কাছে তৈরি হবে ভারতের ডেভিস কাপ দল

কলকাতায় গত এক দশকের বেশি ডেভিস কাপের আসর না বসুক, আগামী মরসুমের জন্য ভারতীয় ডেভিস কাপ দলের প্রস্তুতি লিয়েন্ডার পেজের শহরেই হতে চলেছে। এবং সেই প্রস্তুতি শিবিরের তত্ত্বাবধানে থাকবেন যে সে কেউ নন টনি রোচ! টেনিস-জীবনে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেয়ার হিসাবে স্বীকৃত রোচ কোচ হিসাবেও বিশ্বের অন্যতম সেরা। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী নামগুলো জবরদস্ত রজার ফেডেরার, ইভান লেন্ডল, প্যাট্রিক র্যাফটার, লেটন হিউইট।

Advertisement

সুপ্রিয় মুখোপাধ্যায়

বেঙ্গালুরু শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০৩:০৩
Share:

কলকাতায় গত এক দশকের বেশি ডেভিস কাপের আসর না বসুক, আগামী মরসুমের জন্য ভারতীয় ডেভিস কাপ দলের প্রস্তুতি লিয়েন্ডার পেজের শহরেই হতে চলেছে।

Advertisement

এবং সেই প্রস্তুতি শিবিরের তত্ত্বাবধানে থাকবেন যে সে কেউ নন টনি রোচ!

টেনিস-জীবনে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেয়ার হিসাবে স্বীকৃত রোচ কোচ হিসাবেও বিশ্বের অন্যতম সেরা। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ী নামগুলো জবরদস্ত রজার ফেডেরার, ইভান লেন্ডল, প্যাট্রিক র্যাফটার, লেটন হিউইট।

Advertisement

এ বছরের পেশাদার সার্কিট শেষেই সোমদেব দেববর্মন, য়ুকি ভামব্রি, সাকেত মিনেনি, বিষ্ণু বর্ধনরা কলকাতায় জড়ো হয়ে এই অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তির কাছে ট্রেনিং নেবেন। থাকবেন লিয়েন্ডারও। ডেভিস কাপ টিমের সেই প্রস্তুতি শিবিরের দিনক্ষণ এবং জায়গাও চূড়ান্ত।

আগামী ১-৮ ডিসেম্বর, সল্টলেকে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় টেনিস অ্যাকাডেমি অর্থাৎ ‘জামটা’-এ।

বেঙ্গালুরুতে ভারত-সার্বিয়া টাইয়ে আগাগোড়া সস্ত্রীক হাজির ছিলেন জয়দীপ। ম্যাচ দেখার পাশাপাশি তিন দিনই ভারতীয় প্লেয়ারদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করেন ডিসেম্বরের গোড়ায় কলকাতার শিবির নিয়ে। রবিবার সকালেই টিম হোটেলে লিয়েন্ডারের সঙ্গে ব্রেকফাস্ট টেবিলে তাঁর ফের এক দফা দীর্ঘ বৈঠক হয়। জয়দীপ তার পরেই আনন্দবাজারকে বললেন, “টনি গতকাল রাতে ই-মেলে সম্মতি জানিয়েছে। ও কলকাতায় আসছে পয়লা ডিসেম্বর। পরের সাত দিন সকাল-বিকেল দু’দফায় আমার অ্যাকাডেমিতে ট্রেনিং করাবে।”

জয়দীপ জানালেন, মূলত ভারতীয় ডেভিস কাপ টিমটাই রোচের কাছে ট্রেনিং নেবে। টেকনিক্যাল এবং ট্যাকটিক্যাল পরামর্শও নেবে। “তবে ডেভিসকাপারদের পাশাপাশি বাংলার প্রতিভাবান কয়েক জন প্লেয়ারও টনির কাছে সাত দিন কোচিং নেওয়ার সুযোগ পাবে,” বলছিলেন জয়দীপ। সঙ্গে যোগ করলেন, “টনির মতো লেজেন্ডের কাছে কোচিং নিতে আসার জন্য বাংলার বাইরের উদীয়মান প্রতিভাদেরও তাদের রাজ্য সংস্থার মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানাব।” এমনকী রোচের সঙ্গে এ দেশের টেনিস কোচেদের একসঙ্গে বসিয়ে সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনাও আছে। জয়দীপের কথায়, “এমন সুযোগ খুব বেশি পাওয়া যায় না।”

খেলোয়াড়জীবনে জয়দীপের সমসাময়িক, ঊনসত্তর বছরের রোচ তাঁর দীর্ঘ দিনের বন্ধু। দু’জনে প্রায় প্রতি বছরই পাশাপাশি বসে উইম্বলডন দেখেন। সর্বকালের অন্যতম সেরা রোচ তাঁর সময়ে সিঙ্গলসে বিশ্বের দুই এবং ডাবলসে এক নম্বর ছিলেন। যে কৃতিত্ব টেনিসের ইতিহাসে খুব কম তারকারই আছে। বাঁ-হাতি রোচের ওয়ান-হ্যান্ডেড ব্যাকহ্যান্ড টেনিসের সর্বকালের সেরা দৃশ্যগুলোর অন্যতম। সিঙ্গলসে একবার ফরাসি ওপেন চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়াও একবার উইম্বলডন এবং উপর্যুপরি দু’বার যুক্তরাষ্ট্র ওপেন ফাইনালিস্ট। তবে রোচের আসল মস্তানি ডাবলসে! টনি রোচ-জন নিউকোম্ব জুড়িকে স্কিলের বিচারে সর্বকালের সেরা মানে বিশেষজ্ঞ মহল। ডাবলসে পাঁচটা করে উইম্বলডন ও অস্ট্রেলীয় ওপেন, দু’টো ফরাসি ওপেন, একটা ইউএস ওপেন ছাড়াও দু’টো মিক্সড ডাবলস গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি আছে রোচের নিউ সাউথ ওয়েলসের বাড়ির ক্যাবিনেটে।

এহেন রোচ-নিউকোম্ব মহাজুটিকে ছেষট্টির ডেভিস কাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই রামনাথন কৃষ্ণনের সঙ্গে খেলে জয়দীপ ডাবলসে ৩-১ সেটে হারিয়েছিলেন। যে জয়কে প্রায় অর্ধ শতাব্দী পরেও কেরিয়ারের সেরা জয় বলে উল্লেখ করেন জয়দীপ। দু’জনের বন্ধুত্বও অর্ধ শতাব্দী পুরনো। জয়দীপ বললেন, “রোচ আঠারো বছর পর কলকাতায় আসছে। শেষ বার এসে বেনিফিট ম্যাচ খেলে যা টাকা পেয়েছিল, প্রায় সবটাই তখন অসুস্থ প্রেমজিতকে (প্রেমজিতলাল) দেখতে গিয়ে ওর হাতে তুলে দিয়েছিল।”

ভারতীয় টেনিস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অর্থাৎ ‘ইটপা’-র (আইটিপিএ) প্রেসিডেন্ট জয়দীপের আক্ষেপ, হায়দরাবাদে সানিয়া মির্জার নবনির্মিত অ্যাকাডেমিতে ভারতীয় ডেভিস কাপ দলের প্রস্তুতি শিবির আয়োজনের পর সারা বছর আইটিপিএ-র আর তেমন কোনও কার্যকারিতা দেখা যায়নি। সে জন্যই ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোচের মতো মহাতারকাকে কলকাতায় আনিয়ে ডেভিস কাপ দলের প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে চান। জানালেন, তার জন্য যে বিরাট খরচ হবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে সেই টাকাও ইতিমধ্যেই জোগাড় করতে নেমে পড়েছেন। “তবে ভাল লাগছে যে, আমার কাছে সব শুনেটুনে সোমদেব বলেছে, ও আর্থিক সাহায্য করবে। আর লিয়েন্ডার তো বলল, টনি স্যারের কাছে এ বার সাত দিন পড়ে তো থাকবই। অবসরের পরেও যদি ওঁর কাছে কোচিং নেওয়ার সুযোগ ঘটে, তা হলেও যাব। টনি রোচের মতো লেজেন্ডের কাছে শেখার কোনও শেষ নেই!”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement
আরও পড়ুন