উচ্ছ্বাস: ক্যান্ডিডেটসে জয়ের পরে মায়ের সঙ্গে বৈশালী। ছবি: ফিডে।
ক্যান্ডিডেটসে মেয়েদের বিভাগে আট জনের মধ্যে তাঁর রেটিং সবচেয়ে কম ছিল। তার পরেও সবাইকে টেক্কা দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন আর. বৈশালী। ক্যান্ডিডেটস দাবায় সেরা হয়ে তিনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন চিনের জু ওয়েনজুনের চ্যালেঞ্জার হিসেবে চলতি বছরেই লড়ার সুযোগ পেলেন। যেখানে জিতলেই প্রথম ভারতীয় মহিলা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি রয়েছে।
বৈশালীর এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বিশ্বনাথন আনন্দ। পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘অনেক অভিনন্দন বৈশালী। দুরন্ত প্রস্তুতি এবং চাপ নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছে বৈশালী। বোর্ডে আঘাত যেমন সহ্য করেছে তেমনই পাল্টা জবাবও দিয়েছে। ভারতীয় দাবার জন্য খুব গর্বের দিন।’’ পাশাপাশি কিংবদন্তি দাবাড়ু জুডিথ পোলগার, যাঁকে সর্বকালের অন্যতম শক্তিশালী মহিলা দাবাড়ু হিসেবে ধরা হয়, তিনি সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘বৈশালী অধ্যবসায়, লড়াকুমানসিকতা, জেদ ও চাপ নেওয়ার ক্ষমতা দেখিয়েছে ওর এই জয়ে। সবচেয়ে কম রেটিংয়ের দাবাড়ু হিসেবে নেমেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দারুণ কৃতিত্ব।’’ পাশাপাশি প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সুসান পোলগারও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বৈশালীর।
তবে এই পথটা সোজা ছিল না বৈশালীর জন্য। বিশেষ করে তাঁর ভাই আর. প্রজ্ঞানন্দ ২০১৮ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম হিসেবে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার পরে দ্রুত প্রচারের আলোয় চলে আসায়। বৈশালী ভাইয়ের সাফল্যের ছায়ায় চলে যান। অথচ প্রথম দাবা শুরু করেছিলেন বৈশালীই। শোনা যায়, মা নাগলক্ষ্মী মেয়ের টিভিকে কার্টুন দেখার নেশা ছাড়ানোর জন্য দাবার ক্লাসে ভর্তি করে দেন। সেখানে ছোট্ট প্রজ্ঞাও থাকত। দিদি দাবার অনুশীলন করার সময় ঘুঁটি নিয়ে নাড়াচাড়া করত সে। তখন প্রজ্ঞার বয়স ২। পরে দেখা যায় ছোট্ট প্রজ্ঞা আর ঘুঁটি নিয়ে নাড়াচাড়া করছে না রীতিমতো আগ্রহ নিয়ে শিখছে। সেখান থেকে দ্রুত উঠে আসেন প্রজ্ঞা বিশ্ব দাবার মঞ্চে। নিঃশব্দে নিজেকে তৈরি করছিলেন বৈশালীও। ক্যান্ডিডেটসে সাফল্যই তার প্রমাণ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে