অনুশীলনের পরই বিস্ফোরণ আর্মান্দোর

‘আমার ফুটবলাররা দলের কথা ভাবে না’

আই লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইতে ঢোকার সুযোগ আছে এখনও। দশ ম্যাচ বাকি টুর্নামেন্টের। এই অবস্থায় চিডি-মোগা-মেহতাবদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দিলেন আর্মান্দো কোলাসো। বুধবার অনুশীলনের পর ইস্টবেঙ্গল কোচ বলে দিলেন, “আসলে আমার টিমের ফুটবলাররা নিজেদের কথাই শুধু ভাবে। দলের কথা নয়। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না। দলে কোনও নেতা নেই যে টিমকে টানবে।”

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ মার্চ ২০১৪ ০৯:৩৮
Share:

আই লিগের চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইতে ঢোকার সুযোগ আছে এখনও। দশ ম্যাচ বাকি টুর্নামেন্টের। এই অবস্থায় চিডি-মোগা-মেহতাবদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দিলেন আর্মান্দো কোলাসো। বুধবার অনুশীলনের পর ইস্টবেঙ্গল কোচ বলে দিলেন, “আসলে আমার টিমের ফুটবলাররা নিজেদের কথাই শুধু ভাবে। দলের কথা নয়। কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না। দলে কোনও নেতা নেই যে টিমকে টানবে।”

Advertisement

বুধবার সকালে অনুশীলনের পর তাঁবুর বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে আর্মান্দো যে সব কথা বললেন তা লাল-হলুদের ড্রেসিংরুমে আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে। উঠতে পারে ঝড়। “ফুটবলাররা ড্রেসিংরুমে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না। সবাই আসে, চুপচাপ প্র্যাকটিস করে আবার ফিরে যায়। আসলে এই দলে এক জন লিডার নেই, যে সবাইকে তাতাবে। এগিয়ে নিয়ে যাবে পুরো দলকে।” এর সঙ্গেই যোগ করেন, “ডেম্পোয় বেটো, র্যান্টি, ক্ল্যাইম্যাক্স, মহেশদের মতো ফুটবলারকে পেয়েছিলাম। যারা দলকে নেতৃত্ব দিতে পারত মাঠে। কোণঠাসা হয়ে পড়লে দলকে উজ্জীবিত করত। ইস্টবেঙ্গলে এমন কেউ নেই যে এ রকম করবে।”

মঙ্গলবারই জোসিমার-পেনদের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে নামতে হবে। তার ছ’দিন আগের অনুশীলনের পর আর্মান্দোর এই ক্ষোভের লাভা উদ্গীরণ কেন তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইস্টবেঙ্গলে। নতুন কোচ হিসাবে ট্রেভর মর্গ্যান, সুভাষ ভৌমিকদের নাম ভেসে ওঠার জন্যই কি? আর্মান্দোর কথা শুনে সেটা আন্দাজ করা যায়নি। যে স্বপ্ন নিয়ে গোয়া থেকে কলকাতায় এসেছিলেন তা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর আবেগপ্রবণ আর্মান্দো বলে দিয়েছেন, “যে ফুটবলারদের সুযোগ দিতে পারি না, তারাই আমার উপর খেপে যায়। অনেক ফুটবলারকে বলতেও শোনা যায়, আমি ওদের পছন্দ করি না, তাই খেলাচ্ছি না। অথচ আমি এগারো জনের বেশি ফুটবলার এক সঙ্গে খেলাতে পারব না। পরিবর্তে বড়জোর তিন জনকে নামাতে পারি। ভাল ফলের জন্য সেরা দলই বেছে নিই। এর মধ্যে অন্য কোনও কারণ নেই।”

Advertisement

এর আগে চার্চিল ম্যাচে চিডি-মোগারা গোলশূন্য ড্র করার পর ক্ষুব্ধ আর্মান্দো বলেছিলেন, “স্বার্থপরের মতো ফুটবল খেলেছে ফুটবলাররা।” এ দিন আবারও একই রকম ভাবে ফুটবলারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি।

কথা বলার সময় ক্ষোভের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ছিল হতাশাও। তোপ দাগতে গিয়ে আগের কোচ মর্গ্যানকেও ঘুরিয়ে আক্রমণ করে বসেন তিনি। দলের ফুটবলারদের খেলার স্টাইল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মর্গ্যান প্রসঙ্গ টেনে আনেন আর্মান্দো। “মেহতাব যেমন এখনও মর্গ্যানের ছায়া থেকে বেরোতে পারেনি। মর্গ্যান মূলত ৪-১-৪-১ স্ট্র্যাটেজিতে খেলাতেন। মেহতাব খেলত ব্লকার হিসেবে। সেই জায়গা থেকে ও আজও বেরোতে পারল না।”


সুস্থ হওয়ার লড়াই। জিম-এ চিডি। ছবি: শঙ্কর নাগ দাস।

এখানেই থামেননি লাল-হলুদ কোচ। দলের খারাপ পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ফুটবলারদের মানসিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন। “সব ম্যাচ জিততেই হবে, এই মানসিকতা নিয়ে ফুটবলাররা ম্যাচ খেলতে নামছে। জিততে না পারলেই এতটা হতাশ হয়ে পড়ছে যে পরের ম্যাচে খারাপ ফল করছে। মেন্টাল ব্লকেজ তৈরি হচ্ছে। একটি ম্যাচ জিততে পারলেই সেটা হয়তো কেটে যাবে। আমি নানা ভাবে উদ্দীপ্ত করছি। চাপ কম নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠে শুধু আনন্দ করে খেলতে বলেছি। আমার যথাসাধ্য চেষ্টা তো করছি।”

মরসুমের এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। মহমেডান ম্যাচ সামনে। এই ম্যাচে জিততে না পারলে ইস্টবেঙ্গলের আই লিগের খেতাব জয় স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে। সে জন্য বোধহয় আর্মান্দোর বোমা ফাটানোর পরও কর্তারা ‘ধীরে চলো’ নীতি নিচ্ছেন। যেমন নিয়েছিলেন উগা ওপারা বা এডে চিডিদের নিয়ে বিতর্কের সময়। ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল সচিব সন্তোষ ভট্টাচার্য বললেন, “আমরা আগে কোচের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। তার পর সিদ্ধান্ত নেব।”

মহমেডান ম্যাচের কথা মাথায় রেখে ওপারাকে পুরো ম্যাচ ফিট করার চেষ্টা করছেন আর্মান্দো। অনুশীলন দেখে মনে হল জোসিমারদের আটকাতে উগা-ই প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে গোয়ান কোচের। আর্মান্দো বললেন, “উগা এখন ঠিক আছে।” চিডি মাঠে ফিরলেও এ দিন শুধু জিম করেছেন। বাকি সময়টা মাঠের বাইরেই বসে ছিলেন। মেহতাব, অর্ণব মণ্ডল, লালরিন্দিকা জাতীয় দলে। সৌমিক দে অফিসের হয়ে খেলতে গেছেন। জোয়াকিম আব্রাঞ্জেসের নাকে অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে আসতে পারেননি। কিপার গুরপ্রীত সিংহ এখনও বাগদান পর্ব মিটিয়ে ফেরেননি। মহমেডান ম্যাচের আগে সবাই দলের সঙ্গে যোগ দেবেন বলেই দাবি করলেন চিডিদের কোচ।

তবে পেন-জোসিমারদের বিরুদ্ধে নামার আগে আর্মান্দো যে ভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এ দিন, তার প্রভাব দলে কতটা পরে এখন সেটাই দেখার!

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement