দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় ভারতের

টুর্নামেন্টের মধ্যেই হয়তো ময়দান-পরিক্রমায় দ্রাবিড়

তিনি দৃষ্টিহীন ভক্তের সঙ্গে ছবি তুলছেন। তিনি নাকি গল্ফ খেলতে যেতে পারেন। কলকাতার ক্রিকেট-ময়দান ঘুরে দেখারও নাকি তাঁর ইচ্ছে আছে। ভারতের অনূর্ধ্ব উনিশ টিমের মেনুতে পরপর দু’টো জয় থাকল। গত কাল বাংলাদেশের পর শনিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চাপে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বার করল ভারত। এবং শহরে ভারতীয় যুব দলের কোচের মেনুর খোঁজও কিছুটা পাওয়া গেল।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:২১
Share:

ছাত্রদের যু্দ্ধে কড়া নজর গুরু রাহুল দ্রাবিড়ের।

তিনি দৃষ্টিহীন ভক্তের সঙ্গে ছবি তুলছেন।

Advertisement

তিনি নাকি গল্ফ খেলতে যেতে পারেন।

কলকাতার ক্রিকেট-ময়দান ঘুরে দেখারও নাকি তাঁর ইচ্ছে আছে।

Advertisement

ভারতের অনূর্ধ্ব উনিশ টিমের মেনুতে পরপর দু’টো জয় থাকল। গত কাল বাংলাদেশের পর শনিবার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চাপে পড়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বার করল ভারত। এবং শহরে ভারতীয় যুব দলের কোচের মেনুর খোঁজও কিছুটা পাওয়া গেল। যেখানে গল্ফ থেকে ময়দান পরিক্রমা— সবই নাকি থাকতে পারে।

ভারতীয় ক্রিকেটে দ্রাবিড়কে এমনিতেই বরাবর ব্যতিক্রমী চরিত্র বলে ধরা হয়। ক্রিকেটের বাইরেও বিভিন্ন ব্যাপারে তিনি যে আগ্রহী, তার উদাহরণ অতীতে বেশ কয়েক বারই পাওয়া গিয়েছে। শোনা যায়, বই পড়া নিয়ে প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ভাল রকম আগ্রহী। আবার মিডিয়ার কাজকর্ম কী ভাবে হয়, তা নিয়েও উৎসাহের নমুনা শোনা গিয়েছে। কিন্তু কলকাতার ক্রিকেট নিয়ে যে তাঁর এমন আগ্রহ আছে, কে জানত।

শোনা গেল, ইতিমধ্যে শহরের ক্রিকেট-মডেলটা কী রকম, কয়েক জনের কাছে জানতে চেয়েছেন দ্রাবিড়। কোথায় কোথায় খেলা হয়, প্লেয়াররা ক্লাব ক্রিকেট খেলে কী রকম উপার্জন করে থাকেন, ক্লাব ক্রিকেটে কোনও স্পনসর পাওয়া যা কি না, নানা ব্যাপারে নাকি খোঁজ নিয়েছেন। এটাও বলেছেন যে, খেলা এখন না হলেও চর্মচক্ষে কলকাতার ক্রিকেট-মডেলটা দেখার ইচ্ছে আছে। অনূর্ধ্ব উনিশ ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট এখন শেষ হতে আরও দিন সাতেক বাকি। মাঝে সময় করে তিনি নাকি একদিন ময়দানটা ঘুরতে চান। দ্রাবিড়ের ইচ্ছের কথা জানতে পেরে মোহনবাগান ও কালীঘাট কর্তারা তাঁকে আমন্ত্রণও জানিয়ে ফেলেছেন। ‘দ্য ওয়াল’ নাকি তাঁদের জানিয়েছেন, আসবেন।

আর আবেগ? শনিবার সল্টলেকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মাঠে আবেগের দু’টো ছবি এ দিন দেখা গেল। একটা দেশের যুব দলকে নিয়ে শহরের আফগানদের। ভারত অনূর্ধ্ব উনিশ টিমের তোলা ২৩৬ রানের বিরুদ্ধে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব উনিশের পাল্টা লড়াইয়ের সময়। আর দ্বিতীয়টা দ্রাবিড়কে ঘিরে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরে।

সল্টলেক মাঠ ততক্ষণে এক টুকরো কাবুলও হয়ে গিয়েছে। দেশের খেলা দেখতে শহরের আফগান সমর্থকদের ভিড়ে।

মহানায়কের সঙ্গে একটা ছবি তুলবেন বলে বহুক্ষণ সল্টলেক মাঠে এ দিন অপেক্ষা করছিলেন তাঁর এক ভক্ত। শোনা গেল, দ্রাবিড় সেটা জানতে পারার পর নিজেই তাঁকে ড্রেসিংরুমের মধ্যে ডেকে নেন। ছবি তোলেন। জানতে চান, তিনি কী করেন। এবং আপ্লুত ভক্তকে নাকি তার পর সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করতেও দেখা যায়। যা দেখে যুব দলের ক্রিকেটারদের আবার কেউ কেউ ডেকে বলেন যে, এই ছবিটাই তোমাদের মোটিভেশন হওয়া উচিত। ক্রিকেট খেলে আসলে যা পাওয়া যায়, তা এটা। ক্রিকেটার ‘আরএসডি’ কেমন, কোচ ‘আরএসডি’ কেমন, শহর জানে। ইডেনে দেখেছে। আইপিএলে দেখেছে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন শহর তাঁর আরও একটা দিক দেখতে পাচ্ছে। যে রাহুল শরদ দ্রাবিড় আজও মাটির মানুষ, যে রাহুল শরদ দ্রাবিড় এখনও এক মনযোগী ছাত্র। জীবনের কাছে যে রোজ কিছু না কিছু এখনও শিখতে চায়।

ভারত ২৩৬ (ঋষভ পন্থ ৮৭, রশিদ খান ৪-৪৭)

আফগানিস্তান ২০৩ (রশিদ ৪৩, খলিল আহমেদ ৪-৪১)

ছবি: শঙ্কর নাগ দাস

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement