শহর ছাড়ার আগে শহরে সারা দিনের ডং। ক্লাব-দর্শন। ভিক্টোরিয়ায় একান্তে। নিজেই যখন ভক্ত। শনিবার। ছবি: উৎপল সরকার
আর একটা টোলগে ওজবে তৈরি হওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দিল ইস্টবেঙ্গল। শনিবার ডংয়ের সঙ্গে তড়িঘড়ি তিন বছরের দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি করে লাল-হলুদ সচিব কল্যাণ মজুমদার বলে দিলেন, ‘‘লুটপাটের রাস্তাটা বন্ধ করে দিলাম। ইস্টবেঙ্গল যখনই কোনও ভাল বিদেশি ফুটবলার খুঁজে নিয়ে আসে, পাশের বাড়ি (মোহনবাগান) ঝাঁপিয়ে পড়ে ওকে নিতে। এটা বরাবরের ট্র্যাডিশন। এখন তিন বছর আর নজর দিতে পারবে না।’’ যা শুনে বাগান সহ-সচিব সৃঞ্জয় বসুর পাল্টা, ‘‘উনি ওঁর ক্লাবের কোচ-ফুটবলারদেরও ছোট করেন। অন্য ক্লাবকেও ছোট করেন। কল্যাণবাবুর এ রকম কথা বলার কোনও অধিকার নেই। ওঁর রুচির অভাব আছে।’’
টোলগে ওজবে অতীত। আর ডু ডং-কে নিয়ে যে দলবদলের বাজার সরগরম, তাও নয়। তবু হঠাৎ যেন উত্তপ্ত ময়দান!
কিন্তু কেন? উত্তরটা বোধহয় লুকিয়ে আছে সেই অতীতেই।
বছর তিনেক আগে টোলগে ওজবের দলবদল নিয়ে যে তমুল বিতর্ক হয়েছিল দুই প্রধানে, সেটা এখনও ময়দান ভোলেনি। ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান তো বটেই, আইএফএ-কেও প্রবল ঝড়-ঝাপ্টা সামলাতে হয়। প্রায় দু’মাস ধরে টানাপোড়েন চলে। তাই কোরিয়ান মিডিও-র সঙ্গে তাড়াতাড়ি চুক্তির পিছনে ইস্টবেঙ্গল কর্তাদেরও প্রধান উদ্দেশ্য ছিল একটাই— টোলগে পার্ট টু রিলিজ করতে দেব না। নিটফল, শনিবার রাতে দেশে ফেরার আগেই লাল-হলুদের তিন বছরের চুক্তিপত্রে সই করে গেলেন ডং। আর বলে গেলেন, ‘‘ডার্বির পরেই ঠিক করে ফেলি যে, এই ক্লাবে অনেক দিন খেলব। সমর্থকদের এত ভালবাসা কোরিয়াতেও পাইনি।’’
কোরিয়ান মিডিও-র সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের এই দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তিতে স্বস্তিতে আইএফএও। সচিব উৎপল গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য বললেন, ‘‘এ সব তো কাজের অঙ্গ। খেলার মাঠে যখন এসেছি এ সব চিন্তা ভাবনা করেই এসেছি। আইন মেনে চললে কোনও বিতর্ক হবে না।’’ উৎপলবাবু মুখে যাই বলুন না কেন, দলবদলের আগে ‘ডং-কাঁটা’ সরে যাওয়ায় স্বস্তির হাওয়া রাজ্য ফুটবল সংস্থায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা খবরটা শুনে বললেন, ‘‘বাঁচা গেল। পরের বার আর ডং-কে নিয়ে অযথা টানাটানি হবে না!’’
ডংকে যে শুধু ‘লুটপাট’ থেকে বাঁচাতেই দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি করেছে ইস্টবেঙ্গল, এমন নয়। কলকাতা লিগে কোরিয়ান মিডিও-র চমকপ্রদ পারফরম্যান্সও নজর কেড়েছে কর্তাদের। ক্লাবের অন্যতম শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলছিলেন, ‘‘অল্প সময়ে নিজের জাত চিনিয়ে দিয়েছে ডং। টিমেও একটা জায়গা তৈরি করে ফেলেছে। এই অবস্থায় ওকে হাতছাড়া করা মানে টিমেরই ক্ষতি।’’ তবে কলকাতা লিগের ১০ ম্যাচে ১২ গোল করলেও আইএসএলে খেলার কোনও প্রস্তাব এখনও পাননি। কিন্তু তাতে অবশ্য কোনও আফসোস নেই ডংয়ের, ‘‘পারফরম্যান্স করলে সুযোগ আসবে। সেটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না। আমার কাছে গর্বের হল, ভারতের এক নম্বর ক্লাবে আমি খেলার সুযোগ পেয়েছি। এএফসি র্যাঙ্কিংয়ে ইস্টবেঙ্গল এখন ৭৪। যেটা আমাকে আরও উদ্বুদ্ধ করছে।’’
এ দিন সকালে ক্লাবের মাঠে ফটোসেশন করার পরে সোজা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল দেখতে বেরিয়ে যান ডং। সময়ের অভাবে ভিতরে ঢোকেননি। যদিও কথা দিয়ে গেলেন, পরের বার বান্ধবীর হাত ধরে ঢুকবেন। সেখান থেকে সোজা ইস্টবেঙ্গলের প্রয়াত কর্তা পল্টু দাসের বাড়িতে। কালী পুজো দেখে রাতে কোরিয়ার বিমান ধরলেন তিনি। ফিরবেন অক্টোবরের শুরুতে। ছুটি কী ভাবে কাটাবেন? অকপট ডং বললেন, ‘‘প্রথম চার-পাঁচ দিন পরিবারের সঙ্গে কাটাব। ডার্বি, গোল, কলকাতার সমর্থক— সব নিয়ে গল্প করব। তার পর আবার প্র্যাকটিস। আই লিগের জন্য নিজেকে তৈরি রাখতে চাই।’’ আর হারুকা (বান্ধবী)? ‘‘ও হ্যাঁ। জাপানে যাব। হারুকার সঙ্গে দেখা করতে। বেশ কিছু দিন ওখানেও থাকব।’’
দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তিতে লাল-হলুদের রেকর্ড বেশ ভাল। যেমন ওপারা, পেন। সাফল্যের সঙ্গে ট্রফিও আছে। ডংয়েরও আছে। তবে এটাও ঠিক, কলকাতা লিগ আর আই লিগ কিন্তু এক নয়!