বীরু-ঝড় নিয়ে আশা-আশঙ্কায় বাংলা

বাংলা আর ছ’পয়েন্টের মাঝখানে একটাই এক্স ফ্যাক্টর— বীরেন্দ্র সহবাগ। রবিবার খেলা শেষ করে যখন মাঠ ছাড়ল বাংলা, তখন তাদের হাতে আড়াইশোর লিড আর মাথায় একটাই নাম। বীরেন্দ্র সহবাগ। প্রথম ইনিংসে ১০৪-এ এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের শেষে ১৪৬-৭। হরিয়ানার নবম উইকেট জুটিকে (রোহিত শর্মা ৭৮ ও যজুবেন্দ্র চাহল ৪২) ১০৫ রান করতে না দিলে হয়তো আরও বড় লিড নিতে পারত বাংলা।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:০৩
Share:

যাঁকে নিয়ে ভয়।

বাংলা আর ছ’পয়েন্টের মাঝখানে একটাই এক্স ফ্যাক্টর— বীরেন্দ্র সহবাগ।

Advertisement

রবিবার খেলা শেষ করে যখন মাঠ ছাড়ল বাংলা, তখন তাদের হাতে আড়াইশোর লিড আর মাথায় একটাই নাম। বীরেন্দ্র সহবাগ।

প্রথম ইনিংসে ১০৪-এ এগিয়ে থাকার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দিনের শেষে ১৪৬-৭। হরিয়ানার নবম উইকেট জুটিকে (রোহিত শর্মা ৭৮ ও যজুবেন্দ্র চাহল ৪২) ১০৫ রান করতে না দিলে হয়তো আরও বড় লিড নিতে পারত বাংলা। সেটা যেমন হল না, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংটাও যে রকম হওয়ার কথা ছিল, তাও হল না।

Advertisement

এক রানের জন্য সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের হাফ সেঞ্চুরি করতে না পারার আফসোস তো ছিলই। বাংলার স্কোরবোর্ডে বাকিটুকুও কম আফসোসের নয়। প্রথম তিন ব্যাটসম্যান দশও পেরলেন না। গত ইনিংসের নায়ক প্রমোদ চাণ্ডিলা ২৪-এ থেমে গেলেন। মনোজ ১১। বাংলা একটা সময় ৫০-৪ হয়ে গিয়েছিল। সুদীপ, চাণ্ডিলারা সেটাকে টেনেটুনে ১৪৬ পর্যন্ত নিয়ে এলেন। লাহলির বাইশ গজের যা অবস্থা, তাতে এই রান নিয়েও অবশ্য লড়া যায়।

শনিবার বাংলার পেসার মুকেশ কুমার যেমন বিপক্ষের উপর দিয়ে বুলডোজার চালিয়েছিলেন, এ দিন সেটাই করলেন হরিয়ানা পেসার আশিস হুডা (৪-৩৯)। সোমবারও পেসারদের এই রাক্ষুসে মেজাজ থাকলে ম্যাচে এসপার-ওসপার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

Advertisement

কিন্তু সোমবার বিকেলে কারা হাসবেন, তা অনেকটাই নির্ভর করছে টেস্ট ক্রিকেটে জোড়া ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিকের উপর। প্রথম ইনিংসে যিনি দলের জন্য তেমন কিছু করতে না পেরে রান-খিদেয় ছটফট করছেন। মার্কিন মুলুকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে যাওয়ার আগে যদি সোমবার নিজেকে সেই মোডে নিয়ে চলে আসেন বীরু, তা হলে বাংলার কপালে দুঃখ আছে।

এই ম্যাচ শুরুর আগে সহবাগের ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখিয়ে দলের ছেলেদের নিয়ে বিশেষ সেশনে বসেছিলেন বাংলার কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। তৈরি হয়েছিল বীরু-ঝড় থামানোর একাধিক ‘প্ল্যান’। প্রথম ইনিংসে তার একটা কাজে লাগিয়ে নিয়েছিলেন মুকেশ, তাঁর ২৮ রানের মাথায় বীরুর স্টাম্প উপড়ে দিয়ে। সোমবার তাঁর রিপ্লে না হলে বাংলা শিবিরে নেমে আসতে পারে হতাশা।

কিন্তু কত রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার করবে বাংলা?

রবিবার সন্ধ্যায় ক্যাপ্টেন মনোজ তিওয়ারি এই প্রশ্নে ‘‘দেখা যাক কী হয়’’-এর বেশি কিছু না বলতে চাইলেও টিম সূত্রের খবর, ঠিক হয়েছে তিনশোর লিড না হওয়া পর্যন্ত ব্যাটিং ছাড়বে না বাংলা। আপাতত পঙ্কজ সাউ (১৯ ব্যাটিং) ও প্রজ্ঞান ওঝা (১ ব্যাটিং) ক্রিজে। শেষ দিন তাঁদের সামনে আরও পঞ্চাশ তোলার পরীক্ষা।

ছ’পয়েন্টের জন্য এই তিনশোকেই আপাত ভাবে ‘সেফ’ বলে মনে হচ্ছে বাংলা শিবিরের। কিন্তু বীরু-ঝড় উঠলে ‘সেফ জোন’ বলে আর কিছু থাকবে কি? তা ছাড়া পুরো ছ’পয়েন্ট তোলার সময়ও হাতে থাকবে কি না বাংলার, সে প্রশ্নও আছে। যার জবাব থাকার কথা দিন্দা, বীরপ্রতাপ, মুকেশ, ওঝাদের কাছে। আর সে জবাব ঠিকমতো দিতে পারলেই হরিয়ানা-হার্ডল পেরনো সম্ভব। না পারলে হয়তো দুঃখ আর হতাশা। দুই অবস্থার জন্যই তৈরি মনোজরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলা ৩২৯ ও ১৪৬-৭ (সুদীপ ৪৯, হুডা ৪-৩৯), হরিয়ানা ২২৫ (রোহিত ৭৮, মুকেশ ৪-৫৩)।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement