Homo Sapiens

আমি কে? আমরা কারা? প্রাণীকুলে কোথায় আলাদা? মানুষ কবে থেকে খুঁজতে শুরু করেছিল এই সব উত্তর?

দার্শনিক প্লেটো প্রথম মানুষের অস্তিত্ব বিষয়ে তাকে একটা ধারণা দেন। তিনি মানুষকে বলেছিলেন, ‘ডানা-হীন দ্বিপদ প্রাণী’।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৭
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

মানুষ আসলে কে? বাকি পৃথিবীর সঙ্গে তার যোগসূত্র কী? তাদের কী ভাবে দেখে মানুষ, তারাই বা কী ভাবে দেখে মানুষকে? দার্শনিকদের মনে এই প্রশ্ন বহু দিনের। বিজ্ঞানীরাও খুঁজছেন উত্তর। আদৌ কি মিলেছে? সেই নিয়ে তর্ক-বিতর্ক রয়েছে অনেক।

Advertisement

মানব প্রজাতির সাধারণ নাম হল ‘হিউম্যান’। প্রায় ৬০০-৭০০ বছর আগে লাতিন থেকে ফরাসি ভাষার মাধ্যমে এসেছে শব্দটি। প্রকৃত শব্দটি ছিল ‘হুমেইন’। বাকি পৃথিবী এবং সেই পৃথিবীর অন্য জীবের থেকে আমরা যে একটু অন্য রকম, এই ধারণা মানুষের মনে কবে প্রথম এল? সেই উত্তর নিয়ে আজও ধন্দে বিজ্ঞানীরা। তাঁদের একাংশের দাবি, প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে মানুষের প্রথম মনে হয়েছিল, বাকি জীবজগৎ, প্রকৃতির সঙ্গে তাদের একটা ফারাক রয়েছে। কেন ওই সময়েই সে রকম কিছু হয়েছিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা? তাঁদের যুক্তি, প্রায় ৪০ হাজার বছর আগেই মানুষ আচার-অনুষ্ঠান পালন করা শুরু করেছিল। সেই প্রমাণ মিলেছে। প্রকৃতি এবং জীবজগৎকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যর্থ চেষ্টা থেকেই মানুষ আচার-অনুষ্ঠান শুরু করেছিল।

এর পরেই ক্রমে মানুষ কৃষিকাজ শেখে। ধর্মাচার, রীতিনীতি পালনের দিকে ঝুঁকতে থাকে। আর সেই সঙ্গে ক্রমেই তাদের মনে এই ধারণা বদ্ধমূল হতে থাকে, যে প্রকৃতি, জীবজগতের সঙ্গে একটা ফারাক রয়েছে মানুষের।

Advertisement

দার্শনিক প্লেটো প্রথম মানুষের অস্তিত্ব বিষয়ে একটা ধারণা দেন। তিনি মানুষকে বলেছিলেন, ‘ডানা-হীন দ্বিপদ প্রাণী’। খ্রিস্ট জন্মের প্রায় ৪০০ বছর আগে তিনি ‘দ্য স্টেটসম্যান’-এ লিখেছিলেন, চলমান প্রাণীরা দু’টি ভাগে বিভক্ত। এক, দ্বিপদ, দুই, চতুষ্পদ। তার পরেই তিনি জানিয়েছিলেন, অন্য দ্বিপদ প্রাণীর সঙ্গে এক বিভাগে মানুষ থাকতে পারে না। তাই দ্বিপদ প্রাণীকে ডানা যুক্ত এবং ডানা-হীন এই দুই ভাগে ভাগ করা প্রয়োজন। মানুষ হল ‘ডানা-হীন দ্বিপদ প্রাণী’। পরে তাঁর ছাত্র অ্যারিস্টটল দাবি করেন, সমাজে তার অংশগ্রহণ দেখে মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়। মৌমাছি বা যে কোনও পশুর গোষ্ঠীর থেকে মানুষ অনেক বেশি ‘রাজনৈতিক’। তার পরেই উদ্ভব হল ‘অ্যানিমাল র‌্যাশনাল’ পরিভাষার।

সুইডেনের জীববিদ কার্ল লিনাওস এর পরে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল, কোন প্রাণীর ক'টা দাঁত, স্তন রয়েছে এবং তা কোথায় রয়েছে, সেটা জানার। আর তা করতে গিয়েই জীববিদ্যার ইতিহাস লিখে ফেলেছিলেন তিনি। ১৭৩৫ সালে তা তিনি প্রকাশ করেন ‘সিস্টেমা নেচারে’। সেখানে মানুষ-সহ প্রায় ১০ হাজার উদ্ভিদ এবং প্রাণীর কথা ছিল। তিনি মানুষকে অ্যান্থ্রোপোমর্ফা প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ওই প্রজাতিকে আবার হোমো (মানুষ), সিমিয়া (এপ, বাঁদর), ব্র্যাডিপাস (স্লথ)-এ ভাগ করেছিলেন। পরে তাঁর মনে হয় স্লথ এবং এপ প্রায় একই ধরনের। তিনি ভুল বুঝতে পেরে বিভাগগুলি বদলে ফেলেন। কার্লের সঙ্গে মতবিরোধ হয়েছিল ডাচ প্রকৃতিবিজ্ঞানী গ্রোনোভিয়াসের। তিনি ১৭৩৫ সালে কার্লকে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, মানুষ এবং এপকে এক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে না। কার্ল মানতে চাননি।

Advertisement

ক্রমে কার্লের তত্ত্বই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। তিনি মানুষ এবং এপ, বানরকে অ্যান্থ্রোপোমর্ফা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত করলেও দাবি করেছিলেন, এই দুইয়ের মধ্যে একটি ফারাক রয়েছে। আর সেই ফারাক গড়ে দেয় মানুষের নিজেকে বুঝতে পারার ক্ষমতা। তাঁর এই তত্ত্বের কারণে মানুষ যেখানে ছিল, সেখানেই ফিরতে পেরেছে, অর্থাৎ সে যে প্রাণীজগতের অন্তর্ভুক্ত, সেই বিষয়ে সম্যক ধারণা পেয়েছে। ১৭৫০ সালে ‘হোমো’ বর্গের সঙ্গে ‘স্যাপিয়েন্স’ বিশেষণ জুড়ে দেন। লাতিন ভাষায় স্যাপিয়েন্স মানে বুদ্ধিমান, জ্ঞানী। মনে করা হয়, কার্লের হাত ধরেই আত্মোপলব্ধি হল মানুষের, যে তাঁরা অবশ্যই প্রাণীকুলের অংশ এবং বুদ্ধিমান।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement