— প্রতীকী চিত্র।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরে আউশগ্রামে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল কর্মী। অন্য দিকে, তোলাবাজির এবং খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ধৃত তৃণমূলের এক যুবনেতাও। পূর্ব বর্ধমানে একের পর এক ফৌজদারি মামলায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নাম জড়ানোয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আউশগ্রাম থানার অধীন ছোড়া অনুসন্ধান কেন্দ্রের পুলিশ সোমবার ভোরে ভুয়েরা গ্রাম থেকে গৌতম আঁকুড়ে নামে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, ২০২১ সালের ৩ মে ভোটের ফল ঘোষণার পরে তৃণমূলের কয়েক জন কর্মী লাঠি এবং লোহার রড নিয়ে বিজেপি কর্মী কিরণশঙ্কর হালদারের বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি পরিবারের মহিলাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং খুনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।
অভিযোগ, হামলাকারীরা কিরণশঙ্করের বাড়ির লাগোয়া কাপড়ের দোকানে ঢুকে প্রায় সাত লক্ষ টাকার জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পরে দীর্ঘ দিন এলাকায় ছিলেন না কিরণশঙ্কর। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে আবার হুমকি পাচ্ছেন বলে তিনি ১৯ মে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ধৃত গৌতম আঁকুড়েকে সোমবার বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হয়। আদালত তাঁকে জামিন দিলেও সপ্তাহে এক দিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরা দিতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে আদালত। এলাকা ছাড়তে পারবেন না। সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারবেন না বলে শর্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে ক্ষেতিয়া অঞ্চলের তৃণমূলের যুবনেতা অভিষেক দাঁকে। মালকিতা গ্রামের বাসিন্দা অভিষেককে সোমবার ভোরে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মালকিতা গ্রামের বাসিন্দা সুতপা মালিকের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চার লক্ষ টাকা দাবি করছিলেন অভিষেক এবং তাঁর সহযোগীরা।
অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় সুতপা মালিক এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। গত ২৪ এপ্রিল মালকিতা মোড়ে সুতপার পথ আটকে তাঁকে চার লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছিল বলে দাবি অভিযোগকারিণীর। এর পরেও বাকি টাকার জন্য লাগাতার চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
শেষ পর্যন্ত সুতপা শুক্রবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ অভিষেককে গ্রেফতার করে। সোমবার তাঁকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে হাজির করানো হলে পুলিশ তোলাবাজির টাকা উদ্ধারের স্বার্থে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত ধৃতের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।