কোচের জন্য ঘৃণা ও ভালবাসা। ম্যাঞ্চেস্টারের আকাশে ‘মোয়েস হঠাও’ ব্যানার।
চেলসির খেতাব জয়ের লড়াই জোর ধাক্কা খেল। জন টেরির আত্মঘাতী গোলে শনিবার হোসে মোরিনহোর টিম ০-১ হারল ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে। গত সপ্তাহে আর্সেনালকে ৬-০ উড়িয়ে দেওয়ার পর এ ভাবে অবনমনের দিকে ঝুঁকে থাকা টিমের বিরুদ্ধে মোরিনহোরা হারবেন কে ভেবেছিল! ২৪ বছর পর চেলসিকে হারিয়ে ফের প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকার স্বপ্ন দেখার কথা ক্রিস্টাল প্যালেসও কি আঁচ করতে পেরেছিল!
অ্যাস্টন ভিলার পর এই নিয়ে মরসুমে দ্বিতীয়বার অ্যাওয়ে ম্যাচে হারল চেলসি। দুটো ম্যাচের মধ্যে মিল একটাই। এ দিনও যথারীতি হারের পর মোরিনহো জঘন্য রেফারিংয়ের দোহাই দেন। যেটা দাবি করতে পারে বরং ক্রিস্টাল প্যালেসই। প্রথমার্ধে চেলসির গ্যারি কাহিল পরপর ক্যামেরন জেরমে আর ইয়ানিক বোলাসিয়েকে যে ভাবে ট্যাকল করেন তাতে যোগ্য পেনাল্টি পেতে পারত ক্রিস্টাল প্যালেস। এই ম্যাচে হারের পর ৩২ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে এখন শীর্ষে চেলসিই। লিভারপুল ৩১ ম্যাচ খেলে ৬৮ পয়েন্টে দ্বিতীয় স্থানে। এ দিন আর্সেনালের সঙ্গে ১-১ ড্র করার পর ম্যাঞ্চেস্টার সিটি তৃতীয় স্থানে (৬৭ পয়েন্ট)। তবে ইয়াইয়া তোরেরা চেলসির থেকে দু’ম্যাচ কম খেলেছেন।
ম্যাচ জেতার পর ভক্তের আলিঙ্গন।
অন্যদিকে প্রবল চাপের মধ্যে অ্যাস্টন ভিলার বিরুদ্ধে ৪-১ জিতে কিছুটা স্বস্তিতে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড। সঙ্গে ম্যানেজার ডেভিড মোয়েসও। শুধু সহজ জয় পেয়েই নয় মোয়েসের স্বস্তির অন্যতম কারণ সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানো। চলতি মরসুমে টিমের হতশ্রী পারফরম্যান্সে মোয়েসের উপর ক্ষুব্ধ সমর্থকরা এ দিন অভিনব ব্যানারের প্রস্তুতি নিয়েছিল। যাতে লেখা ছিল ‘মোয়েস এ বার বিদায় হন’। ম্যাচ শুরুর আগে একটি বিমান সেই ব্যানার নিয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশে হাজিরও হয়। কিন্তু স্টোডিয়ামের মধ্যে ম্যান ইউ সমর্থকরা ব্যানার সমর্থন না করে মোয়েসের পাশে দাঁড়ান। মোয়েসও এ দিন টিমের আগেই মাঠে হাজির হয়ে চমকে দিয়েছিলেন। পরে তিনি বলেন, “আমি শুধু এটা দেখাতে চাইছিলাম যে আমি ম্যানেজার। নিজের কাজটাই করছি। সমর্থকরা যে ভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন ভাবা যায় না।”
লা লিগায় আবার লিওনেল মেসির পেনাল্টি থেকে গোলে বার্সেলোনা ১-০ হারাল এসপ্যানিওলকে। এলএম টেনের গোলের সৌজন্যে ৩১ ম্যাচে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবলে শীর্ষে উঠে এল কাতালান ক্লাব।
ছবি: এএফপি