স্মৃতিফলকে মালা দিচ্ছেন বিধায়ক তথা মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বুধবার সকালে খড়দহে। ছবি: সংগৃহীত।
খড়দহে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর জন্য এসআইআর-আতঙ্ককে দায়ী করেছে পরিবার। এ বার সেই বৃদ্ধার বাড়ির সামনে স্মৃতিফলক তৈরি করল তৃণমূল। বুধবার স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ওই স্মৃতিফলকে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অন্য দিকে, স্মৃতিফলক বসানোর ঘটনায় রাজ্যের শাসকদলকে পাল্টা তোপ দেগেছে বিজেপি।
উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলার বিলকান্দা-১ পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা অলকা বিশ্বাস। গত ৪ জানুয়ারি ৭৫ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধার বাড়িতে এসআইআর-শুনানির নোটিস আসে। অলকার পরিবারের দাবি, ওই নোটিস পাওয়ার পরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেন স্ট্রোক) শুরু হওয়ায় তাঁকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়। কোমায় চলে যান তিনি। হাসপাতালে ছ’দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার অলকার মৃত্যু হয়।
বৃদ্ধার মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর বাড়িতে যান শোভনদেব এবং বিলকান্দা পঞ্চায়েতের উপপ্রধান প্রবীর দাস। স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃদ্ধার পুত্র কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন আগেই। অলকার পরিবারে রয়েছেন তাঁর বিধবা পুত্রবধূ, কন্যা এবং কিশোর নাতি। পরিবারের সদস্যদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন শোভনদেব। নিজের নম্বর দিয়ে যে কোনও প্রয়োজনে ফোন করার পরামর্শও দিয়েছেন।
এই ঘটনায় ফের বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে তৃণমূল। শোভনদেব বলেন, ‘‘এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পরই বৃদ্ধা চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০০২ সালে নাম থাকার পরও শুনানির নোটিস আসছে। মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে। এসআইআরের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।”বুধবার সকালে বৃদ্ধার বাড়ির সামনেই ফলকটির উন্মোচন করেন বিধায়ক। ওই ফলকে বৃদ্ধার নাম, জন্ম এবং মৃত্যুসাল উল্লেখ করা হয়েছে। অলকার নামের আগে লেখা হয়েছে, ‘এসআইআর আতঙ্কে মৃতা’।
স্মৃতিফলক বসানোর ঘটনায় অবশ্য রাজ্যের শাসকদলের সমালোচনা করেছে বিরোধী দল। বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি চণ্ডীচরণ রায় বলেন, “তৃণমূল এমনই একটা দল, যারা চিরকাল মৃতদেহ নিয়েই রাজনীতি করে এসেছে। ওরা শকুনের দৃষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করে। কোথাও কেউ মারা গিয়েছেন খবর পেলেই সেখানে পৌঁছে যায়। তার পরে মৃতদেহটাকে নিয়ে রাজনীতি করে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এই অভ্যাস ওরা ছাড়তে পারবে না। তাই এখন মৃতদেহ পাচ্ছে না বলে মৃতদেহের নামে ফলক তৈরি করে রাজনীতি করছে।”