দীর্ঘ এত বছর পর ভারতীয় সমর্থকেরা তাঁদের আশা-নিরাশার কথা সরাসরি বোর্ডকে জানাতে পারবেন। অনেক বছর ধরেই সমর্থকদের একটা কমন অভিযোগ হল যে, পরোক্ষে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিমের তাঁরাই এক-এক জন শেয়ারহোল্ডার। কিন্তু তাঁদের কোনও ফোরাম নেই যেখানে তাঁরা তাঁদের ভাল লাগা না লাগার কথা বোর্ডকে সরাসরি জানাতে পারেন।
ফেসবুক পেজে ভারতীয় ক্রিকেট টিমের নতুন অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাওয়ার পর সেই সমস্যা আর থাকল না।
এমনকী শুক্রবার সমর্থকেরা হাতে গরম বিরাট কোহলির সাংবাদিক সম্মেলনও ফেসবুক থেকে দেখার সুযোগ পেলেন। আগে থেকেই ফেসবুকে টিমের পক্ষ থেকে পোস্ট করা হয়েছিল যে, দুপুর পৌনে বারোটায় কোহলি সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। সেই মতো প্রচুর ভক্ত ফেসবুক খুলে বসেও ছিলেন। কোহলি যখন সাংবাদিকদের বলছেন, ‘‘টার্নিং উইকেট নিয়ে কে কী লিখেছে বা বলেছে, ভাবতেই চাইনি। আমাদের কাজ অন্যকে দেখে চলে না। আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হয় নিজের নিয়মে।’’ ভারত অধিনায়কের এই সাংবাদিক সম্মেলন তখন একই সঙ্গে তাঁরা বসে দেখলেন। বিসিসিআই টিভিতে তা টাটকা প্রচার করা হয়নি অথচ সমর্থকদের দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই পেজের ফলোয়ার ন’কোটি। অর্থাৎ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা ন’কোটি সমর্থক ইতিমধ্যেই এই পেজে ঢুকে বসে আছেন। আর এঁদের মধ্যে দেড় লক্ষ সমর্থক কাল রবি শাস্ত্রীর ফেসবুক ভিডিও চ্যাট চলার সময় একই সঙ্গে অনলাইন ছিলেন।
রবি শাস্ত্রী শুক্রবার রাতে আনন্দবাজারকে বলছিলেন, ‘‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে জীবনে এই প্রথম এলাম। বহু বার বলা সত্ত্বেও কখনও ফেসবুক বা টুইটার করিনি। এখানে ভিডিও চ্যাটে বসেও সমর্থকদের পরিষ্কার করে দিয়েছি, আমার নামে যে ক’টা অ্যাকাউন্ট দেখছেন সবই ফেক। এই যে দেখছেন, এটাই রিয়েল।’’ শাস্ত্রীকে আক্রমণাত্মক নানা প্রশ্ন করা হয়। যেমন রোহিত শর্মার উপর আর কত দিন আস্থা রাখা হবে? ভারতীয় দল অলরাউন্ডার তুলতে পারছে না কেন? বিরাটের অধিনায়কত্বে আর কী কী পরিমার্জন দরকার? শাস্ত্রী নিজের মেজাজেই আক্রমণাত্মক উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘অলরাউন্ডার তোলার ব্যাপারে এনসিএ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বোর্ড সে দিকেই যাচ্ছে।’’ বলেছেন, ‘‘আগামী ছ’-সাত বছর টেস্ট ক্রিকেটে রোহিত যদি রাজ করে, আমি একটুও আশ্চর্য হব না। ওর শুধু কফির গন্ধ (বড় ইনিংস) পাওয়া বাকি।’’ বিরাটের অধিনায়কত্ব সম্পর্কে মন্তব্য, ‘‘গত আট-ন’মাসে ও দারুণ উন্নতি করেছে। আরও দ্রুত গতিতে করবে বলে মনে করি।’’
সমর্থকদের চাহিদা এখন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কে বলতে পারে, বেঙ্গালুরুতে ভাল পারফরম্যান্স করলে ক’দিনের মধ্যে তাঁকেও ভিডিও চ্যাটে দেখা যাবে না? ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কল্যাণে বোর্ডের সঙ্গে তাঁদের এত দিনকার দেওয়াল অদৃশ্য। এখন আর তাঁদের পায় কে?