শেষ চারে উঠে ফুরফুরে মেজাজে আটলেটিকো। নবির সঙ্গে হ্যাটট্রিক নায়ক হিউম। (ডান দিকে) পুণের ম্যাচ বল হাতে অমরিন্দরের সঙ্গে।
কেরলের উপর যত ক্ষোভই থাক, তিন দিনের ছুটিতে সেখানেই পাড়ি দিলেন পুণে ম্যাচের মহানায়ক ইয়ান হিউম। এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মঙ্গলবার সকালে শহরে ফিরবেন তিনি।
বোরহা, ভালডোর মতো কিছু কিছু বিদেশি ফুটবলার সোমবার ভোরেই আবার বেড়াতে চলে গিয়েছেন আন্দামানে। সেলুলার জেল দেখা আর সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করাই লক্ষ্য তাঁদের।
অর্ণব মণ্ডল, রহিম নবি, জুয়েল রাজার মতো স্থানীয় ফুটবলাররা বাড়ি গেলেন হোটেলের একঘেয়েমি কাটাতে। বাকিরা মলে বা সিনেমা হলে সময় কাটিয়েছেন।
রাজরহাটের আটলেটিকো দে কলকাতার হোটেল শনিবার সন্ধ্যায় কার্যত ফাঁকা। দ্যুতির মতো দু’-এক জন ছাড়া কেউ নেই হোটেলে।
এটিকের টিম হোটেলের সঙ্গে কোনও মিল নেই যুবভারতী স্টেডিয়ামের পাশের পাঁচতারা হোটেলের একটি ঘরের। সেখানে পুরো কোচিং টিম নিয়ে আলোচনা চলাচ্ছেন হাবাস। কাটাছেঁড়া চলছে গোয়া, পুণে, নর্থ-ইস্ট, দিল্লির নানা ম্যাচের ভিডিও ক্লিপিংস নিয়ে। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, কার সঙ্গে প্লে অফ খেলতে হবে সেটা এখনও বুঝতে পারছেন না কলকাতার মহাতারকা কোচ। সে জন্যই মুখোমুখি হতে পারেন এ রকম সম্ভাব্য পাঁচটি টিমের খেলাগুলি বারবার দেখছেন স্প্যানিশ কোচ। টিমগুলির দুর্বল জায়গার ক্লিপিংস কেটে রাখছেন ভিডিও অ্যানালিস্টকে দিয়ে। ম্যাচের আগের দিনের টিম মিটিং-এ অমরিন্দর, অর্ণব, হিউম, আরাতাদের দেখানোর জন্য। শুধু তাই নয়, গোয়া এবং পুণে ম্যাচে কলকাতার গোলের সামনে কেন এত বল এল সেটাও বারবার খুঁটিয়ে দেখছে হাবাস অ্যান্ড হিজ কোচিং কোম্পানি। এমনিতে হোটেল ছেডে় প্রায় বেরোনই না গতবারের চ্যাম্পিয়ন কোচ। সারা দিন ডুবে থাকেন স্ট্র্যাটেজি, নানা অঙ্ক আর ডায়েরিতে ভাল-মন্দের রিপোর্টিং লিখতে। কোনও ফুটবলারের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কখনও মাথা ঘামান না। পরিবার নিয়ে থাকতে দেন স্বদেশি-বিদেশি সব ফুটবলারকেই। সে জন্য টিম হোটেলে না থেকে অন্য জায়গায় থাকেন হাবাস। কিন্তু প্রতি মুহূর্তে নজর রাখেন ফুটবলারদের আচার-আচরণের উপর। তাঁর তৈরি করে দেওয়া শিডিউল না মানলেই সেই ফুটবলারের উপর ভয়ঙ্কর রেগে যান। এতটাই শৃঙ্খলাপরায়ণ তিনি যে, একবার এক ফুটবলার ব্রেকফাস্ট টেবলে পাঁচ মিনিট দেরিতে আসায় তাঁকে সে দিন আর খেতেই দেননি হাবাস।
টিম যাতে পরপর দু’ম্যাচে (গোয়া এবং পুণে) চার গোল দিয়ে জেতার পর আত্মতুষ্টিতে না ভোগে সে জন্য তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করে দিয়েছেন কলকাতা কোচ। ঘুরে-বেরিয়ে, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে হিউম, নাতো, তিরিরা যাতে চাপ-মুক্ত থাকেন সেজন্যই এই পরিকল্পনা। কলকাতার কর্তাদের কয়েক জন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে শনিবার সকালে গিয়েছিলেন হোটেলে। হাসতে হাসতে হাবাস তাঁদের বলেছেন, ‘‘হইচই করার এখনও কিছু হয়নি। নক-আউট খুব কঠিন জায়গা। যে কোনও একটা গোল বা পেনাল্টি শেষ করে দিতে পারে সব স্বপ্ন। সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ফুটবলাররা যাতে খেলার ভাবনার বাইরে থাকতে পারেন সে জন্যই ছুটি দিয়ে দিয়েছি।’’ মঙ্গলবার আবার অনুশীলন শুরু হবে এটিকের। হাবাস ঠিক করে রেখেছেন, সেখানে ফুটবলারদের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে পরের ম্যাচগুলিতে সতর্ক থাকার জন্য বলবেন তিনি।
শেষ চারের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষের খেলার ফাইল পরীক্ষা করার পাশাপাশি আগামী শুক্রবারের (৪ ডিসেম্বর) মুম্বই ম্যাচ নিয়েও ভাবছেন হাবাস। খোঁজ নিচ্ছেন কোন ফুটবলারের কতগুলো কার্ড আছে। যাদের দুটো বা তিনটে হলুদ কার্ড আছে তাদের তিনি সুনীল-সনিদের বিরুদ্ধে খেলাবেন না বলেই খবর। সেই তালিকায় হিউমের মতো কয়েক জন থাকবেন বলে জানা গিয়েছে। তা ছাড়া টানা খেলছেন যাঁরা, তাঁদের কয়েক জনকে বিশ্রাম দেওযার ভাবনাও ঘুরছে তাঁর মাথায়। তবে মুম্বইয়ের সঙ্গে কোনওমতেই হারতে বা ড্র করতে চান না স্প্যানিশ কোচ। তাঁর ধারণা, জয়ের ধারাটা বজায় রেখে লিগ শীর্ষে থাকতে পারলে দলের মনোবল অনেক বেড়ে যাবে। আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে প্লে অফে নামতে পারবে পুরো টিম।