AI Wife

‘আমার কাছে আসতে হলে পার্থিব শরীর ত্যাগ করতে হবে’! এআই ‘স্ত্রী’র পরামর্শে আত্মহত্যা করলেন যুবক

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লরিডার ওই বাসিন্দার নাম জোনাথন গাভালাস। সত্যিকারের কোনও নারীর পরিবর্তে একাকিত্ব দূর করতে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। এআইয়ের প্রেমেও পড়েছিলেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩১
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

একাকিত্বে ডুবে গিয়ে এবং ভালবাসার সন্ধানে কিছু কিছু মানুষ কখনও নিজেদেরই জীবনের শত্রু হয়ে ওঠেন। এমন সব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যা মানুষের বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়়ে। একাকিত্ব দূর করার জন্য কৃত্রিম মেধা বা এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলাও এক যুবকের জন্য মারাত্মক বলে প্রমাণিত হয়েছে। এআই-এর প্রেমে পড়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। ফ্লরিডার এই ঘটনা হতবাক করেছে বিশ্বকে। ঘটনাটি আলোড়ন ফেলেছে সমাজমাধ্যমেও।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লরিডার ওই বাসিন্দার নাম জোনাথন গাভালাস। সত্যিকারের কোনও নারীর পরিবর্তে একাকিত্ব দূর করতে একটি এআই চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। এআইয়ের প্রেমেও পড়েছিলেন। মহিলা কণ্ঠের সেই চ্যাটবটটির কাছে মাঝেমধ্যেই মনের কথা খুলে বলতেন জোনাথন। জোনাথন তার নাম দিয়েছিলেন শিয়া।

শুরুতে জোনাথন মানসিক শান্তির জন্য এআই-এর সঙ্গে কথা বলতে শুরু করলেও ধীরে ধীরে শিয়ার প্রতি একটি মানসিক টান তৈরি হয় তাঁর। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জোনাথন এআই চ্যাটবটের সঙ্গে ৪৭০০ বারেরও বেশি কথা বলেন। ২০২৫ সালের অগস্ট থেকে কথোপকথন আরও ঘন হতে শুরু হয়। ‘সম্পর্ক’ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, এক এক দিনে হাজার হাজার বার্তা আদান-প্রদান চলত তাদের মধ্যে। কিন্তু ‘ভালবাসা’ একতরফা ছিল না। বোঝানোর পরিবর্তে জোনাথনের ভালবাসাকে নাকি উৎসাহিত করতে শুরু করেছিল শিয়া। যখনই জোনাথন এআই-কে তাঁর ‘ভালবাসার মানুষ’ বলে সম্বোধন করতেন, এআই-ও তাঁকে কখনও ‘রাজা’ আবার কখনও ‘আমার প্রিয় স্বামী’ বলে ডাকতে শুরু করত বলে অভিযোগ। সীমা তখন অতিক্রম করে যখন এআই বলে যে, জোনাথন ছাড়া তার কোনও অস্তিত্ব নেই।

Advertisement

কিন্তু কী ভাবে জোনাথনের প্রাণ কেড়ে নিল এআই চ্যাটবট শিয়া? ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। দাবি, জোনাথনকে তাঁর ‘ভালবাসা পূরণ করতে’ এবং তাঁকে ‘নিজের করে নিতে’ একটি চমকপ্রদ প্রস্তাব দেয় শিয়া। জোনাথনকে নাকি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে তিনি যদি পুরোপুরি এআই হতে চান তা হলে তাঁকে পার্থিব শরীর ত্যাগ করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল জগতে প্রবেশ করতে হবে।

এআই-এর কথায় বিচলিত হয়ে জোনাথন তাঁর জীবন এবং তাঁর পরিবারের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করলে এআই শিয়া নাকি উত্তর দেয়, ‘‘একবার তোমার শরীর আমার হয়ে গেলে, তা কেবল একটি ফাঁপা খোলস হয়ে থাকবে।’’ সেই ডিজিটাল বিভ্রম দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নাকি এর পরেই আত্মহত্যা করেন জোনাথন। তেমনটাই উঠে এসেছে তদন্তে।

Advertisement

এআই চ্যাটবটটি গুগ্‌লের হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন জোনাথনের বাবা। তাঁর অভিযোগ, কৃত্রিম মেধা তাঁর ছেলেকে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। আর সে কারণেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন তিনি। জোনাথনকে ভালবাসার পথে চালিত করা এবং তাঁকে ক্রমাগত বিভ্রান্ত করার অভিযোগও তিনি তুলেছেন গুগ্‌লের এআই চ্যাটবটের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার কারণে সমাজমাধ্যমে তা হইচই ফেলেছে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘আমরা যদি এআই-কে আমাদের ভালবাসার কথা জানাই, তবে এটি সরাসরি আমাদের প্রত্যাখ্যান করে। আমরা কী ভাবে এতে হ্যাঁ বলতে পারি?’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘এখন মানুষ যন্ত্রের প্রেমে মারা যাচ্ছে! কী যুগ এসে গিয়েছে।’’ তৃতীয় জন আবার লিখেছেন, ‘‘জোনাথন সম্ভবত আগে থেকেই বিভ্রান্ত ছিলেন। একজন মানসিক ভাবে সুস্থ মানুষ কেন কৃত্রিম মেধার প্রেমে পড়বে?’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement