—প্রতীকী ছবি।
বাড়ি হোক বা ফ্ল্যাট। বর্তমানে বহু বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবার চুটিয়ে ব্যবহার করছে ওয়াশিং মেশিন। কাপড় কাচার এই যন্ত্রটির আবার দু’টি প্রকারভেদ রয়েছে। একটিকে বলা হয় ফ্রন্ট লোডিং। এতে সামনের দিকে থাকে দরজা। আর অপরটির নাম টপ লোডিং, যাতে যন্ত্রের উপরের দিকের দরজা খুলে কাচার জন্য দিতে হয় জামাকাপড়। বাঙালি মধ্যবিত্তদের মধ্যে দ্বিতীয়টি বেশি ব্যবহারের প্রবণতা রয়েছে।
অনেকেই ফ্রন্ট লোডিং ওয়াশিং মেশিনকে স্ট্যাটাস সিম্বল বলে মনে করেন। টপ লোডিংয়ের চেয়ে এতে সুযোগ-সুবিধাও অনেকটাই বেশি। প্রথমত, ফ্রন্ট লোডিং ওয়াশিং মেশিনে জামাকাপড় বেশি পরিষ্কার হয়। কারণ, এতে টপ লোডিংয়ের মতো উপর থেকে জল পড়ে না। দু’টি যন্ত্রে কাপড় কাচার ধরনে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
টপ লোডিং ওয়াশিং মেশিন জামাকাপড়কে দুমড়ে-মুচড়ে পরিষ্কার করে থাকে। অন্য দিকে ফ্রন্ট লোডিং যন্ত্র ঘষে ঘষে তোলে কাপড়ের ময়লা। ফলে নরম পোশাক দীর্ঘ দিন ভাল থাকে। তা ছাড়া টপ লোডিংয়ের তুলনায় এতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ জল কম লাগে। এর জেরে সাশ্রয় হয় বিদ্যুতের।
ফ্রন্ট লোডিং ওয়াশিং মেশিনের দ্বিতীয় সুবিধা হল এতে কম্পন বা ভাইব্রেশন কম হয়। টপ লোডিংয়ের থেকে তুলনামূলক ভাবে কম জায়গায় একে রাখা যেতে পারে। তা ছাড়া ফ্রন্ট লোডিংয়ে কাচাকাচির সময় যন্ত্রটির ঘূর্ণন বেশি ভাল হয়। ফলে তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় ভেজা কাপড়। এমনকি রোদ না ওঠা দিনেও সুবিধা দিতে পারে এই যন্ত্র।
ফ্রন্ট লোডিং ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে থাকে হিটার ও স্টিম ওয়াশার। ভেজা কাপড় শুকোতে এগুলিও যথেষ্ট সাহায্য করে থাকে। তবে টপ লোডিংয়ের তুলনায় এর দাম অনেকটাই বেশি। তা ছাড়া কাপড় কাচতে এটি বেশি সময় নিয়ে থাকে। সেই কারণেই অধিকাংশ মধ্যবিত্ত বাঙালি বাড়িতে বেশি পরিমাণে জায়গা পাচ্ছে টপ লোডিং ওয়াশিং মেশিন।