—প্রতীকী ছবি।
মার্কিন টেক জায়ান্ট অ্যাপ্ল হোক বা দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং। ভারতের স্মার্টফোন বাজারের বড় অংশ রয়েছে এই দুই সংস্থার দখলে। তার পরেও মাঝেমধ্যেই অ্যাপ্ল-স্যামসাঙের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন গ্রাহকদের একাংশ। কিন্তু কেন? তবে কি গুণগত মানের নিরিখে আর আগের মতো দুর্দান্ত স্মার্টফোন বা আইফোন তৈরি করছে না এই দুই সংস্থা? আনন্দবাজার ডট কম-এর এই প্রতিবেদনে রইল তার হদিস।
অ্যাপ্ল-স্যামসাং ছেড়ে অন্য সংস্থার স্মার্টফোন কেনার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাজারের বহু মুঠোবন্দি ডিভাইসের কাগজে-কলমে থাকা বৈশিষ্ট্যগুলি বেশ নজরকাড়া। কোনও কোনও স্মার্টফোনের বিজ্ঞাপনে টেলিস্কোপিক জ়ুম, ১২০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং, কুলিং ফ্যান বা ১০ হাজার এমএইচ ব্যাটারির কথা বলা থাকে, যা নজরে পড়লে সহজেই আকৃষ্ট হন গ্রাহক। আর ঠিক তখনই অ্যাপ্ল-স্যামসাংকে বাদ দিয়ে ওই স্মার্টফোন কিনে ফেলেন তাঁরা।
গ্যাজেট বিশ্লেষকরা বলছেন, কিছু দিন গেলেই ভুল ভাঙে গ্রাহকের। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিম্নমুখী হতে থাকে বাজারচলতি সংস্থাগুলির তৈরি স্মার্টফোনের পারফরম্যান্স। ক্যামেরার অবস্থায় দাঁড়ায় তথৈবচ! এক দিন ভাল, তো এক দিন খারাপ। এ ছাড়া সফ্টঅয়্যারের সমস্যার মুখেও পড়তে হয় তাঁদের। মেলে না তার আপডেটও।
এর জেরেই ভারত তথা বিশ্বের বাজারে সেরা ফোনের তালিকায় পাকাপাকি ভাবে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাপ্ল ও স্যামসাং। এই সমস্যাগুলির সম্মুখীন প্রায় কখনওই হতে হয় না তাদের গ্রাহকদের। সম্প্রতি, ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনেছে সংশ্লিষ্ট দুই সংস্থা। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, অক্টোবর-ডিসেম্বরের মধ্যে দু’জনেরই কমেছে ফোন বিক্রির অঙ্ক।
ভারতের স্মার্টফোনের বাজারের ১৪ শতাংশ রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাঙের দখলে। ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা। এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে অ্যাপ্ল। অক্টোবর-ডিসেম্বরের মধ্যে আইফোনের বিক্রি অবশ্য কিছুটা কমেছে। তার পরেও ২০২৫ সালে সর্বাধিক বিক্রি হওয়া মুঠোবন্দি ডিভাইসের নির্মাণকারী সংস্থাগুলির মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে অ্যাপ্ল।