—প্রতীকী ছবি।
দামি স্মার্টফোন মানেই দুর্দান্ত প্রসেসার। সেখানে একচেটিয়া রাজত্ব করছে স্ন্যাপড্রাগন। কোয়ালকমের বাজারে দাঁত ফোটানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ মিডিয়াটেক। এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। টেক বিশ্লেষকদের কথায়, স্ন্যাপড্রাগনের অপটিমাইজ়েশন এখনও সেরা। আর তাই মার্কিন টেক জায়ান্টের তৈরি প্রসেসারই স্মার্টফোন নির্মাণকারী সংস্থাগুলির হয়ে উঠেছে অটোমেটিক চয়েস।
লম্বা সময় ধরে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে হলে চাই সফ্টঅয়্যারের আপডেট। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, প্রসেসর নির্মাণকারী সংস্থার সাহায্য ছাড়া সেটা করতে পারে না কোনও গ্যাজেট কোম্পানি। মিডিয়াটেকের থেকে এখানে কয়েক কদম এগিয়ে আছে কোয়ালকম। আর তাই বাজারে তুঙ্গে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসারের চাহিদা।
মার্কিন টেক জায়ান্টের তৈরি এই ডিভাইসটির আরও কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন, স্ন্যাপড্রাগনের প্রসেসার থাকলে স্মার্টফোন গরম হয় কম। ফলে ব্যাটারি খরচ বাঁচাতে পারেন ব্যবহারকারী। এক কথায় লম্বা সময়ের স্থায়িত্ব চাইলে স্ন্যাপড্রাগনের প্রসেসার যে ভাল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
তবে স্মার্টফোন কেনার সময় শুধুমাত্র প্রসেসারের নাম থেকে ভুললে চলবে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোন প্রজন্মের ডিভাইস ব্যবহার হচ্ছে, সেটাও দেখে নেওয়া ভাল। উদাহরণ হিসাবে স্ন্যাপড্রাগন ৮ ডেন ৩ এবং ৮ এস জেন ৩-এর কথা বলা যেতে পারে। দু’টি কিন্তু এক ধরনের প্রসেসার নয়। কারণ প্রসেসারের ক্লক স্পিড, জিপিইউ এবং ফ্রেব্রিকেশন যে স্মার্টফোনের পারফরম্যান্সের উপর প্রভাব ফেলে, তা বলাই বাহুল্য।
কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসারগুলির তালিকার একেবারে শীর্ষে আছে এইট সিরিজ়, যার মধ্যে স্ন্যাপড্রাগন ৮ জ়েন৫ এবং ৮ এলিট উল্লেখযোগ্য। স্মার্টফোন বা কম্পিউটার-ল্যাপটপে এই প্রসেসার থাকলে অনায়াসেই ভিডিয়ো এডিটিং এবং কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ভিত্তিক যাবতীয় কাজ করতে পারবেন গ্রাহক। তা ছাড়া ৪কে ও ৮কে-তে তোলা যাবে ছবি, হবে ভিডিয়ো রেকর্ডিং। এগুলির ইমেজ প্রসেসিং সক্ষমতা দুর্দান্ত।
স্ন্যাপড্রাগনের ৮ সিরিজ়ের প্রসেসারের দ্বিতীয় সুবিধা হল ভিডিয়ো গেম। বিডিএমআই ও জেনশিন ইমপ্যাক্টের মতো গেম খেলার ক্ষেত্রে ডিভাইসে এই প্রসেসার থাকা ভাল। তাপ নিয়ন্ত্রণ করে স্মার্টফোন ও কম্পিউটার-ল্যাপটপকে স্থিতিশীলতা দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তাদের।
এই তালিকায় দ্বিতীয় নাম সেভেন সিরিজ়, যাতে রয়েছে ৭এস জেন ফোর, ৭ জেন ফোর এবং ৭ জেন থ্রি-র মতো স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসার। ‘অলরাউন্ডার’ স্মার্টফোনের জন্য এগুলিকে আদর্শ বলে উল্লেখ করেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, স্ন্যাপড্রাগনের ৭ সিরিজ়ের প্রসেসার থাকা ডিভাইসে দুর্দান্ত গেমিংয়ের স্বাদ পাবেন গ্রাহক। ভাল হবে ইমেজ প্রসেসিং। ফলে স্মার্টফোনে ছবি তোলা নেশা হলে, এই প্রসেসার আছে কি না তা দেখে নেওয়া উচিত।