ভ্রমণ পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করার ঘোষণা বাজেটে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
রবিবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের পর্যটন এবং হোটেল শিল্পের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। পর্যটনে উৎসাহ দিয়ে সংসদে বাজেট পেশ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বাজেটে সংযোগ, পরিকাঠামো, পর্যটনের বিভিন্ন অঙ্গ, হেরিটেজ, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য, দেশের ভ্রমণ পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করা, ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলিকে নতুন ভাবে তুলে ধরা, দেশি–বিদেশি পর্যটকদের জন্য যাতায়াত সহজ করা এবং আগামী দিনে ভারতের ভ্রমণ মানচিত্রকে আরও বিস্তৃত করা।
পর্যটন খাতে বিশেষ নজর কেন্দ্রের। ছবি: সংগৃহীত
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তাঁর ভাষণে ১৫টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের পরিকাঠামোকে উন্নত করার কথা বলেছেন, যেমন সারনাথ, হস্তিনাপুর ইত্যাদি, যাতে দেশের হেরিটেজ পর্যটন সুগঠিত হয়। সরকার জানিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলিতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে এমন জায়গার পাশাপাশি, প্রাচীন নগরী ও ঐতিহাসিক স্মারকগুলিকে পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তোলাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। এই সমস্ত জায়গায় ১০ হাজার ট্যুরিস্ট গাইড বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন নির্মলা। এই কাজ সবিস্তারে নথিবদ্ধও করা হবে। পাশাপাশি, যে স্থানে আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে, সেগুলির পরিকাঠামো গঠনেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। পর্যটন কেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে তোলার দিকে পথচলার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের।
বাজেটে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাতটি হাই-স্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে। এই দ্রুতগামী রেলপথ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর, শিল্পাঞ্চল এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে আরও ভাল ভাবে যুক্ত করবে। ফলে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা কম সময়ে ও কম ঝঞ্ঝাটে করা সম্ভব হবে। পর্যটনের পাশাপাশি ব্যবসা ও কর্মসংস্থানেও এর প্রভাব পড়বে।
মুম্বই ও পুণে, পুণে ও হায়দরাবাদ, হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ ও চেন্নাই, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু, বেঙ্গালুরু ও বেনারস এবং বেনারস ও শিলিগুড়ি— এই শহরগুলিকে কেন্দ্র করে ৭টি রেল করিডোর তৈরি হবে। এর ফলে পশ্চিম, দক্ষিণ এবং পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগ দৃঢ় হবে। একইসঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় রেল পরিষেবা তৈরির জন্য পদক্ষেপ করা হবে বলে জানালেন অর্থমন্ত্রী। হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যের জন্য আপাতত এই ভাবনা। পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা এবং দুর্গম জায়গা পর্যটকদের নাগালে আনার জন্য এই ঘোষণা তাঁর।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়েছে পর্যটনকে। হোটেল, পরিবহণ, হস্তশিল্প, স্থানীয় খাবার এবং ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয়ও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাম ও শহর— দু’দিকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।