দক্ষিণ কেরলের পাহাড়ে, জঙ্গলে, সমুদ্রে

কোভালাম সৈকত।

আগের দিন লিখেছিলাম উত্তর কেরল নিয়ে। আজ দক্ষিণ কেরলের কথা। বাঙালিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই দক্ষিণ কেরল। খাঁড়ি, সমুদ্র, পাহাড়, জঙ্গল মিলিয়ে এক অনন্য স্থান। কোচি দিয়ে ভ্রমণ শুরু করুন। সেখান থেকে মুন্নার, পেরিয়ার, আলাপুঝা (আলেপ্পি), কোল্লম (কুইলন) হয়ে তিরুঅনন্তপুরমে শেষ করুন।

কোচি

আরব সাগরের রানি কোচিকে আইল্যান্ড সিটিও বলা হয়। আরব সাগর থেকে বেরনো খাঁড়ি, ভারতে নোনা জলের দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ ভেম্বানাড়ের ওপর অসংখ্য দ্বীপ নিয়ে তৈরি কোচি। ভালো করে কোচি ঘোরার জন্য অন্তত তিনটে রাত থাকা উচিত।

কী দেখবেন

(১) চাইনিজ ফিশিং নেট - ভেম্বানাড় হ্রদের ধারে। সূর্যাস্ত নয়নাভিরাম। এর্নাকুলম স্টেশন থেকে ১২ কিমি।

(২) সেন্ট ফ্রান্সিস চার্চ - ১৫০৩ সালের এই গির্জাটি ইউরোপীয়দের তৈরি ভারতের সব থেকে পুরনো গির্জা। কোচিতে মৃত্যু হওয়ার পর ভাস্কো-দা-গামার দেহ কয়েক বছর এখানেই রাখা ছিল। চাইনিজ ফিশিং নেটের কাছেই।

(৩) সিনাগগ - ১৫৬৭ সালের তৈরি। মাতাঞ্চেরি এলাকায়। স্টেশন থেকে ৯ কিমি।

(৪) মাতাঞ্চেরি প্রাসাদ – ডাচ প্যালেস হিসেবে পরিচিত হলেও ১৫৫৫ সালে পর্তুগিজরা এই প্রাসাদটি তৈরি করে কোচির রাজাকে উপহার দেন। সিনাগগের পাশেই।

(৫) ভেম্বানাড়ে নৌকায় ভাইপিন দ্বীপ - ভেম্বানাড়ে আধঘণ্টার জলযাত্রায় এক বিকেলে ঘুরে আসুন ভাইপিন দ্বীপে। কোচির জেটি থেকে নিয়মিত স্টিমার ছাড়ছে।

(৬) কালাডি - আদি শঙ্করাচার্যের জন্মস্থান, কোচি থেকে গাড়ি বা বাসে আসুন। দূরত্ব ৪৪ কিমি। রয়েছে শঙ্করাচার্য মঠ। আরও বেশ কয়েকটি মন্দির। কাছেই রামকৃষ্ণ মিশন। পাশ দিয়ে বইছে পেরিয়ার নদী।

(৭) গুরুভায়ুর মন্দির - কেরলের বিখ্যাত কৃষ্ণ মন্দির। কোচি থেকে ৮৮ কিমি, গাড়ি বা বাস পাবেন। পোশাকবিধি রয়েছে এখানে।

(৮) আথিরাপাল্লি জলপ্রপাত - কোচি থেকে ৭২ কিমি, গাড়ি বা বাসে আসুন। ভারতের নায়াগ্রা ফলস্‌ বলা হয়। ৮০ ফুট ওপর থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে চলাকুড়ি নদী।  


চীনা মাছ ধরার নেট, কোচি।

কী ভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে এর্নাকুলম যাওয়ার দ্রুতগামী ট্রেন অন্ত্যোদয় এক্সপ্রেস। প্রতি শনিবার বিকেল পাঁচটায় হাওড়া ছেড়ে এর্নাকুলম পৌঁছোয় সোমবার সকাল ছ’টায়। শালিমার থেকে সাপ্তাহিক গুরুদেব এক্সপ্রেস। প্রতি বুধবার রাত ১১:০৫-এ ছাড়ে, এর্নাকুলম পৌঁছোয় শুক্রবার বিকেল সোয়া তিনটেয়। আছে দ্বিসাপ্তাহিক তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস। ছাড়ে প্রতি মঙ্গল এবং রবিবার রাত ১১:০৫-এ। এর্নাকুলম পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার এবং মঙ্গলবার বিকেল চারটেয়। তা ছাড়া হাওড়া থেকে করোমণ্ডল বা চেন্নাই মেলে চেন্নাই আসুন। চেন্নাই থেকে রোজ সন্ধে ৭:৪৫-এ ছাড়ে তিরুঅনন্তপুরম মেল, এর্নাকুলম পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ৬:৪৫-এ। রয়েছে তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেসও, ছাড়ে বিকেল ৩.১৫-য়, পৌঁছোয় ভোর ৩টেয়। আছে আলেপ্পি এক্সপ্রেস। ২০:৪৫-এ ছেড়ে পরের দিন সকাল ৮:৪০-এ পৌঁছোয়।

কোথায় থাকবেন

কোচিতে রয়েছে কেরল পর্যটন উন্নয়ন নিগমের বোলগাট্টি আইল্যান্ড রিসোর্ট। এটি বিলাসবহুল হোটেল, ঘরভাড়া তাই তুলনায় অনেকটাই বেশি। সর্বনিম্ন ভাড়া ৪,৬০৬ টাকা, সর্বোচ্চ ভাড়া ১৩, ১২৫ টাকা। অনলাইনে বুক করুন www.ktdc.com। তবে কোচি শহরে নানা দামের নানা মানের অনেক বেসরকারি হোটেল রয়েছে।

মুন্নার

অন্যতম সেরা হিলস্টেশন। উচ্চতা পাঁচ হাজার ফুটের কিছু বেশি। চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত। পাহাড়ি পথ এঁকেবেঁকে উঠে গিয়েছে চা-বাগানের মধ্যে দিয়ে। গরমের মধ্যে বাকি কেরল ঘোরার ফাঁকে এখানে দু’রাত থেকে ঠান্ডা উপভোগ করুন।

কী দেখবেন

(১) এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান - মুন্নার থেকে সাত কিমি। নীলগিরি থরের জন্য বিখ্যাত। ওরা ভেড়া আর ছাগলের মিশ্রণ। রাজামালা এন্ট্রি পয়েন্টে টিকিট কেটে উদ্যানে প্রবেশ। গাড়ি কিছুটা এগোবে, তার পর হাঁটা। অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে প্রায় কিলোমিটার দুয়েক হাঁটা যাবে। এই পথে নীলগিরি থর আপনাকে ঘিরে ধরবে। হাঁটাপথের মধ্যেই পেয়ে যাবেন একটি সুন্দর ঝরনা।  

(২) পল্লিভাসাল জলপ্রপাত - মুন্নার থেকে ২৩ কিমি। এমনিতে মুন্নারের আশেপাশে অনেক জলপ্রপাত। সারা বছর ভালো বৃষ্টি হয় বলে সবাই বেশ হৃষ্টপুষ্ট। কোচির দিকে কয়েক কিলোমিটার এলে বাঁ দিকে একটা রাস্তা পল্লিভাসালের দিকে নেমে গেছে। পথ শেষে পড়বে জলপ্রপাত। প্রপাতটা পর্যটকদের নজর কাড়বেই, সেই সঙ্গে সাবধানতা অবলম্বন করাও বাঞ্ছনীয়।   


এরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান - মুন্নার থেকে সাত কিমি। নীলগিরি থরের জন্য বিখ্যাত।

(৩) ইকো পয়েন্ট - মুন্নার থেকে টপ স্টেশনের পথে ১৮ কিমি দূরে। প্রাকৃতিক কারণে এখানে ইকো হয়। মাট্টুপেট্টি ড্যামের জলে তৈরি হয়েছে একটা হ্রদ। হ্রদের এ-পার থেকে চিৎকার করলে, ও-পারের পাহাড়ে ধাক্কা লেগে তা ইকো হয়। হ্রদে বোটিং-এর ব্যবস্থা রয়েছে।

(৫) কুন্ডলা ড্যাম - ইকো পয়েন্ট থেকে সাত কিমি।

(৬) টপ স্টেশন ভিউ পয়েন্ট - কুন্ডলা ড্যাম থেকে দশ কিমি, ইকো পয়েন্ট থেকে ১৭ এবং মুন্নার শহর থেকে ৩৫ কিমি। তামিলনাড়ু-কেরল বর্ডারে ৬,১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ভিউ পয়েন্ট। এখান থেকে এক দিকে যেমন পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণি উপভোগ করা যায়, তেমনই অন্য দিকে দেখা যায় তামিলনাড়ুর থেনি জেলার উপত্যকা।

 


পল্লিভাসাল জলপ্রপাত।

কী ভাবে যাবেন

ট্রেনে পৌঁছন এর্নাকুলম। এখান থেকে মুন্নারের দূরত্ব ১২৭ কিমি। স্টেশন থেকে গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। কোচি থেকে মুন্নার যাওয়ার বাসও পাওয়া যাবে, কিন্তু অনলাইন বুকিং-এর কোনো ব্যবস্থা নেই।

কোথায় থাকবেন

কোচির মতো মুন্নারেও রয়েছে কেরল পর্যটনের বিলাসবহুল রিসোর্ট টি-কাউন্টি। ঘর ভাড়া ৮,৪৬৮ থেকে ১১,০৮৬ পর্যন্ত। অনলাইনে বুক করুন www.ktdc.com। তবে শহর জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন দামের অসংখ্য বেসরকারি হোটেল এবং রিসোর্ট।

পেরিয়ার

অভয়ারণ্যের জন্য বিখ্যাত। সমুদ্রতল থেকে হাজার তিনেক ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই অভয়ারণ্যের প্রধান বাসিন্দা হাতি। রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, সাদা বাঘ, গাউর, সম্ভর এবং আরও অনেক প্রজাতির প্রাণী। পেরিয়ার লেকে ঘণ্টা দুয়েকের সাফারিতে নজরে পড়বে অভয়ারণ্যের প্রাণীকুল।

সাফারি ছাড়াও করতে পারেন

প্লান্টেশন ট্যুর - থেক্কাড়ি-কুমিলি অঞ্চল মশলার স্বর্গরাজ্য। চা-কফি ছাড়াও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মশলাবাগান। থেক্কাড়ি থেকে একটা অটো ভাড়া করে ঘণ্টা তিনেকের এই প্ল্যান্টেশন ট্যুর করে নিতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন

পেরিয়ারের নিকটবর্তী স্টেশন কোট্টায়াম। দূরত্ব ৯৭ কিমি। গুরুদেব এক্সপ্রেস কোট্টায়াম পৌঁছোয় বিকেল ৪:৪৫-এ। গুয়াহাটি-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস হাওড়া ছাড়ে প্রতি বৃহস্পতিবার ও শনিবার রাত ১.০৫-এ (মনে রাখবেন রাত ১২টায় দিন পালটায় ধরে) কোট্টায়াম পৌঁছোয় রবিবার সন্ধে ৬.৪৫-এ। চেন্নাই থেকে তিরুঅনন্তপুরম মেল বা এক্সপ্রেস ধরেও আসতে পারেন কোট্টায়াম। এখান থেকে গাড়ি বা বাসে পেরিয়ার। কোচি বা মুন্নার থেকেও গাড়ি বা বাসে পেরিয়ার পৌঁছতে পারেন। কোচি থেকে ১৪৬ কিমি, মুন্নার থেকে ১২৭ কিমি।

কোথায় থাকবেন

চেষ্টা করুন পেরিয়ার অভয়ারণ্যের মধ্যে কেরল পর্যটনের পেরিয়ার হাউস-এ থাকতে। ঘরভাড়া ২৮৬৬ টাকা থেকে ৫৬৬২ টাকা। অনলাইনে বুক করুন www.ktdc.com। পেরিয়ার অভয়ারণ্যের বাইরে কুমিলি শহরে রয়েছে অনেক বেসরকারি হোটেল। যেখানে থাকবেন সেখান থেকেই পেরিয়ারে সাফারি সংক্রান্ত যাবতীয় খবরাখবর পেয়ে যাবেন।

আলেপ্পি

খাঁড়ির শহর আলেপ্পি বা আলাপুঝা, প্রাচ্যের ভেনিস হিসেবে পরিচিত।  

কী দেখবেন

(১) শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, আম্বালাপুঝা - আলেপ্পি স্টেশন থেকে ১৪ কিমি। মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল পনেরো শতকে।

(২) আলেপ্পি সৈকত - আলেপ্পি শহরের প্রধান সৈকত। স্টেশন থেকে মাত্র ১ কিমি দূরে। এখানে রয়েছে লাইট হাউস, ১৮৬২ সালের তৈরি। প্রতি সোম থেকে শুক্রবার বিকেল তিনটে থেকে সাড়ে চারটে পর্যন্ত পর্যটকরা লাইটহাউসের ভেতরে যেতে পারেন। প্রবেশমূল্য দশ টাকা।

(৩) বিকাশনম সৈকত - আলেপ্পি স্টেশন থেকে সাড়ে চার কিমি।

(৪) থুম্পলি সৈকত - বিকাশনম সৈকতের পাশে।

(৫) কুট্টানাড় - আলেপ্পি থেকে ২১ কিমি। ভারতের একমাত্র অঞ্চল যেটা সমুদ্রতল থেকে নীচে অবস্থিত। আলেপ্পি থেকে জলযানে ঘোরা যায় কুট্টানাড়।

(৬) আলেপ্পি থেকে কোল্লম - আলেপ্পি থেকে খাঁড়ি পথে আট ঘণ্টার জলযাত্রায় চলুন কোল্লম। শহরের ডিটিপিসি বোট জেটি থেকে সকাল সাড়ে দশটায় স্টিমার ছাড়ে। কোল্লমের পথে অনেক স্পট দেখানো হয়। জনপ্রতি ভাড়া তিনশো টাকা।

কী ভাবে যাবেন

শালিমার-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস আলেপ্পি পৌঁছোয় বিকেল ৫:২৫-এ। চেন্নাই-আলেপ্পি এক্সপ্রেস আলেপ্পি পৌঁছোয় সকালে সাড়ে দশটায়। কোচি থেকে আলেপ্পি ৫৩ কিমি। অঢেল বাস। পেরিয়ার থেকে আলেপ্পি ১২৬ কিমি।

কোথায় থাকবেন

কেরল পর্যটনের ট্যামারিন্ড আলাপুঝা। ডিলাক্স এসি দ্বিশয্যা ১১০০ টাকা, প্রিমিয়াম এসি দ্বিশয্যা ১৯০০ টাকা। এ ছাড়াও অনেক বেসরকারি হোটেল আছে।  

কোল্লম

ভারতের প্রাচীনতম সমুদ্রবন্দর। অষ্টমুড়ি লেক এবং সৈকতের জন্য বিখ্যাত।

কী দেখবেন

(১) মহাত্মা গান্ধী সৈকত - শহরের প্রধান সৈকত। আন্তর্জাতিক মানের পার্ক রয়েছে এই সৈকতে।

(২) অষ্টমুড়ি লেক - শহরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই খাঁড়ি হ্রদ। লেকের ধারেই কেরল পর্যটনের হোটেল।

(৩) ভারকালা সৈকত - কোল্লম থেকে ২৫ কিমি। অসংখ্য অনুচ্চ পাহাড়ে ঘেরা সৈকত। এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখুন। রয়েছে জনার্দনস্বামী মন্দির।  

কী ভাবে যাবেন

গুরুদেব এক্সপ্রেস এবং শালিমার-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস কোল্লম পৌঁছোয় যথাক্রমে সন্ধে ৬:৫৫ এবং ৭:২২-এ। চেন্নাই-তিরুঅনন্তপুরম মেল কোল্লম পৌঁছোয় সকাল ৯:৫৫-এ। চেন্নাই-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস পৌঁছোয় সকাল ৫:৫৫-য়। এ ছাড়া বাসে বা গাড়িতে কোচি অথবা তিরুঅনন্তপুরম থেকেও কোল্লম যাওয়া যায়। কোচি থেকে কোল্লম ১৩৮ কিমি। তিরুঅনন্তপুরম থেকে ৬৪ কিমি।

কোথায় থাকবেন

সব চেয়ে ভালো থাকার জায়গা কেরল পর্যটনের ট্যামারিন্ড কোল্লম। ডিলাক্স এসি ঘর ৯৯০ টাকা। বেসরকারি হোটেল তো আছেই।  

তিরুঅনন্তপুরম

ভ্রমণ শেষ করুন রাজধানী তিরুঅনন্তপুরমে। এখানে অন্তত দুটো রাত থাকুন।

কী দেখবেন

(১) পদ্মনাভস্বামী মন্দির - তিরুঅনন্তপুরম স্টেশনের কাছেই। কেরল শৈলী এবং দ্রাবিড় শৈলীর সংমিশ্রণে তৈরি এই মন্দিরে অধিষ্ঠিত বিষ্ণু। পোশাকবিধি পালনীয়।

(২) চিড়িয়াখানা - স্টেশন থেকে ৪ কিমি। ৫৫ একর জায়গা নিয়ে অবস্থিত এই চিড়িয়াখানা এশিয়ার প্রাচীনতম।  

(৩) সম্মুঘম সৈকত - তিরুঅনন্তপুরমের সব থেকে কাছের সৈকত। স্টেশন থেকে ৯ কিমি।

(৪) ভেলি টুরিস্ট ভিলেজ - সমুদ্র, খাঁড়ি, নারকেল গাছের সারি নিয়ে খুব সুন্দর পিকনিক স্পট। সম্মুঘম সৈকত থেকে ৪ কিমি।

(৫) নেয়ার ড্যাম এবং অভয়ারণ্য - তিরুঅনন্তপুরম থেকে পোনমুড়ির পথে ২৮ কিমি দূরে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ড্যামটাকে চারিদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে। রয়েছে একটি অভয়ারণ্য। বাঘ, চিতাবাঘ, হাতির পাশাপাশি, কুমিরের বিভিন্ন রকম প্রজাতির দেখা মেলে।


তিরুঅনন্তপুরমের নিকটবর্তী হিলস্টেশন।

(৬) পোনমুড়ি - তিরুঅনন্তপুরমের নিকটবর্তী হিলস্টেশন। দূরত্ব ৫৭ কিমি। উচ্চতা ১১০০ মিটার, অর্থাৎ ৩৬০০ ফুট। বাইশটি হেয়ারপিন বেন্ড পেরিয়ে রাস্তা উঠে গিয়েছে পাহাড়ের গা বেয়ে। পোনমুড়ির রাস্তায় দুটো জলপ্রপাত। কাল্লার ও মিনমুট্টি।   

(৭) কোভালম সৈকত – কেরল তথা ভারতের অন্যতম সেরা সৈকত। তিরুঅনন্তপুরম থেকে ১৬ কিমি। তিনটে সৈকত নিয়ে কোভালম। লাইটহাউস সৈকত, সমুদ্র সৈকত এবং হাওয়া সৈকত। বিকেলে এলে সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে।

কী ভাবে যাবেন

গুরুদেব এক্সপ্রেস তিরুঅনন্তপুরম পৌঁছোয় রাত ৮:১০-এ। শালিমার-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস পৌঁছোয় রাত ৮:৪৫-এ। তা ছাড়া হাওড়া হয়ে রয়েছে গুয়াহাটি-তিরুঅনন্তপুরম এক্সপ্রেস, চেন্নাই থেকে তিরুঅনন্তপুরম মেল ও এক্সপ্রেস।

কোথায় থাকবেন

স্টেশনের কাছেই রয়েছে কেরল পর্যটনের হোটেল চৈত্রম। ঘরভাড়া ১৮৫০ থেকে শুরু করে ৪,৬০০ পর্যন্ত। অনলাইনে বুক করুন www.ktdc.com। এ ছাড়া শহরে প্রচুর বেসরকারি হোটেল আছে।


পদ্মনাভস্বামী মন্দির।

হাতে সময় থাকলে

পোনমুড়ি এবং কোভালম সৈকতে একটা করে রাত কাটাতে পারেন। পোনমুড়িতে রাত কাটানোর একমাত্র জায়গা কেরল পর্যটনের গোল্ডেন পিক। ঘর ভাড়া ২২০০ থেকে ৫০০০। কোভালমে আছে কেরল পর্যটনের  বিলাসবহুল হোটেল ‘সমুদ্র’। ঘরভাড়া শুরু ৪,৪০০ থেকে। বুক করুন www.ktdc.com। এ ছাড়া প্রচুর বিচ রিসোর্ট ও হোটেল রয়েছে কোভালমে।

মনে রাখুন

সব চেয়ে ভালো হয় কোচি থেকে দিন ছয়েকের জন্য একটি গাড়ি ভাড়া করে মুন্নার-পেরিয়ার-আলেপ্পি-কুইলন ঘুরে তিরুঅনন্তপুরমে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া। এতে ঝক্কি কমে, নিজের মতো করে ঘোরা যায়। সে ক্ষেত্রে আলেপ্পি-কুইলন জলবিহারের জন্য গাড়ি আলেপ্পিতে ছেড়ে দিয়ে কুইলনে নির্দিষ্ট জায়গায় থাকতে বলে দেওয়া যায়।