Pulicat Travel

বাজেটে নাম পুলিকট হ্রদের, পাখি দেখার এই ঠিকানায় যাবেন কী ভাবে, দেখার কী আছে?

কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটে পুলিকট হ্রদের উন্নয়নের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। চেন্নাইয়ের অদূরে এই স্থানটি কেন উঠে এল আলোচনায়, এখানে কেনই বা যাবেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০১
Share:

পুলিকট হ্রদ কোথায়, সেখানে বেড়াতে কেন যাবেন? ছবি: সংগৃহীত।

দূর থেকে এক ঝলক দেখলে খানিক হতাশ হতে পারেন। মৎস্যজীবীদের জাল এ দিক-ও দিক গুটিয়ে রাখা। সুবিশাল হ্রদের পাড়ে শুকোতে দেওয়া হয়েছে মাছ। হ্রদ সংলগ্ন পাকা সড়কে মাছ পরিবহণের জন্য সার দিয়ে ট্রাক দাঁড়িয়ে।তবে নৌকো করে সেই জলাশয়ের বুকে ভেসে পড়লেই বদলে যাবে ছবিটা।

Advertisement

কূল-সীমাহীন অতল জলরাশিতে শুধু পাখির আনাগোনা। হ্রদ ধরে হাঁটাহাঁটি করলে কোথাও দেখা মিলবে লম্বা পায়ের ফ্লেমিংগোর, কোথাও রীতিমতো রাক্ষুসে বকের মতো দেখতে পেলিকানের। ছোট-বড় হাজারো পাখির মেলা যেন এখানে। হ্রদের নাম পুলিকট। বিস্তৃতি অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু জুড়ে।

সাধারণ পর্যটকদের কাছে চেন্নাইয়ের অদূরের এই হ্রদটি তেমন জনপ্রিয়তা অর্জন করতে না পারলেও, পাখি দেখিয়েদের কাছে পুলিকটের গুরুত্ব যথেষ্ট। রবিবারই সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সেখানেই পক্ষীপর্যবেক্ষকদের কাছে পুলিকটকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

Advertisement

৬০০ বর্গকিলোমিটার জুড়ে এর বিস্তৃতি। পাখিরালয় হিসাবে এটি পরিচিতিও পেয়েছে। রয়েছে ছবির মতো সুন্দর সবুজে ঘেরা জলাজমিও। এটি আসলে একটি লেগুন বা উপহ্রদ। প্রতি বছর শীতের মরসুমে অসংখ্য পরিযায়ী পাখি এখানে আসে। পুলিকটে বছর ভর দেখা মেলে হরেক রকম পাখির। প্রায় ৩০০ প্রজাতির পাখির আনাগোনা এখানে।

ব্ল্যাক উইংগ্‌ড স্টিল্ট, পেন্টেড স্টর্ক, ব্ল্যাক টেলড গডউইট, মার্স স্যান্ডপাইপার, ব্রাউন হেডেড গাল, গ্রেটার ফ্লেমিংগো, অসপ্রে, গ্রে হেরন-সহ অসংখ্য পাখি দেখার সুযোগ মেলে এখানে। ঝাঁকে ঝাঁকে যখন পাখি উড়ে বেড়ায়, কিংবা চরে বেড়ায় এখানকার জলাভূমিতে, সে এক দেখার মতোই দৃশ্য বটে।

আর কী ভাবে হ্রদ উপভোগ করা যায়?

পক্ষীপর্যবেক্ষক না হলেও এই হ্রদ থাকতেই পারে ভ্রমণ তালিকায়। নৌকা করে শুধু বিশাল জলাশয়ে ভেসে পড়লেই হল। বিশেষত বিকেলের দিকে নৌবিহার করলে সাক্ষী থাকতে পারবেন এক মনোরম সূর্যাস্তের। নৌকা থেকেই দেখতে পাবেন ঝাঁক ঝাঁকে উড়ে বেড়াচ্ছে পাখিরা।

নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি বা মার্চ এখানে ঘোরার ভাল সময়। মরসুমের অন্য সময় বেশ গরম থাকে। ২-৩ দিনের জন্য এই পুলিকট ঘোরার পরিকল্পনা করলে, এক দিন নৌ-বিহার করতে পারেন। আর একটি দিন হ্রদ সংলগ্ন মৎস্যজীবীদের গ্রামে ঢুঁ মারতে পারেন। চেখে দেখতে পারেন দক্ষিণী কায়দায় রান্না করা টাটকা মাছ। এখানে ঘোরার সময় হাতে রাখতেই হবে দূরবিন। অজস্র পাখির ওড়াউড়ি, ডানা ঝাপটানো, হেঁটে-বেড়ানো দেখতে হলে সেটি লাগবেই।

আর পক্ষীপর্যবেক্ষক বা ফোটোগ্রাফারদের কাছে ২-৩টি দিনও কম পড়তে পারে। কারণ, তাঁদের ফ্রেমবন্দি করার জন্য পাখি, প্রকৃতি, বিষয়বস্তুর অভাব হবে না। ভোর ভোর বেড়িয়ে পড়তে পারলে হ্রদের মধ্যে গজিয়ে ওঠা সবুজ ডাঙার মতো দ্বীপে দেখা মিলবে অজস্র পাখির।

বিশাল হ্রদে নৌকো করে ভ্রমণ কিন্তু তালিকায় রাখতেই হবে। ফুরফুরে হাওয়া মন তরতাজা করে দেবে।

পুলিকট ভ্রমণের সঙ্গে জুড়তে পারেন নিকটবর্তী শহর চেন্নাই। অথবা চেন্নাই গেলে ঘুরে আসতে পারেন পুলিকটও। চেন্নাই শহরেও দেখার জায়গা কম নেই। সমুদ্রসৈকত থেকে মন্দির, অনেক কিছু রয়েছে এখানে। আছে মিউজ়িয়ামও।

কপালেশ্বর মন্দির: এটি চেন্নাইয়ের অন্যতম প্রাচীন এবং সুন্দর মন্দির। দক্ষিণ ভারতীয় স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত মন্দিরের আরাধ্য শিব। মন্দিরের সুউচ্চ চূড়ার কারুকাজ দেখার মতো।

সেন্ট টমাস ব্যাসিলিকা: যিশুর দ্বাদশ শিষ্যের একজনের স্মৃতির উপর এই সাদা রঙের গির্জাটি তৈরি। স্থাপত্যের এক চমৎকার নিদর্শন। এটি কপালেশ্বর মন্দিরের কাছেই।

সরকারি জাদুঘর : প্রাচীনত্বের বিচারে ভারতের দ্বিতীয় মিউজ়িয়ামটি এখানেই রয়েছে। এখানকার রোমান কারেন্সি, বিশেষ করে এর ব্রোঞ্জ গ্যালারি বিশ্ববিখ্যাত।

এমজিআর মেমোরিয়াল ও আম্মা মেমোরিয়াল: মেরিনা বিচের পাশেই অবস্থিত এই সুন্দর উদ্যানগুলি বিকেলের ভ্রমণের জন্য ভাল।

মেরিনা বিচ : এটি ভারতের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। সন্ধ্যায় এখানে স্থানীয় স্ট্রিট ফুড খেতে খেতে ঘোরা এবং সূর্যাস্ত দেখা এক দারুণ অভিজ্ঞতা।

বেসান্ত নগর বিচ: একটু শান্ত পরিবেশ চাইলে মেরিনা বিচের বদলে এখানে যেতে পারেন। এখানে অনেক ক্যাফে এবং রেস্তরাঁ রয়েছে।

টি. নগর : এটি কেনাকাটার স্বর্গরাজ্য। দক্ষিণ ভারতীয় সিল্ক শাড়ি বা গয়না দেখার জন্য বা কেনার জন্য পন্ডি বাজার ঘুরে দেখতে পারেন। চেন্নাই থেকে সড়কপথে দূরত্ব কম-বেশি ৬০ কিলোমিটারের মতো। গাড়ি ধরে যেতে পারেন। চেন্নাই থেকে বাসও মিলবে। চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে গুম্মিডিপুন্ডি যাওয়ার লোকাল ট্রেনে উঠে পোন্নেরি স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে অটো বা বাসে করে পুলিকট যেতে প্রায় ২০-৩০ মিনিট লাগে। অন্ধ্রপ্রদেশের দিক থেকে যেতে হলে আপনাকে সুল্লুরপেটা আসতে হবে। চেন্নাই-বিজয়ওয়াড়া লাইনের যে কোনও ট্রেনে ‘সুল্লুরপেটা’ স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে পুলিকটের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। কেনার জন্য পন্ডি বাজার ঘুরে দেখতে পারেন।

কী ভাবে যাবেন? চেন্নাই থেকে সড়কপথে দূরত্ব কম-বেশি ৬০ কিলোমিটারের মতো। গাড়ি ধরে যেতে পারেন। চেন্নাই থেকে বাসও মিলবে। চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে গুম্মিডিপুন্ডি যাওয়ার লোকাল ট্রেনে উঠে পোন্নেরি স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে অটো বা বাসে করে পুলিকট যেতে প্রায় ২০-৩০ মিনিট লাগে। অন্ধ্রপ্রদেশের দিক থেকে যেতে হলে আপনাকে সুল্লুরপেটা আসতে হবে। চেন্নাই-বিজয়ওয়াড়া লাইনের যে কোনও ট্রেনে ‘সুল্লুরপেটা’ স্টেশনে নামুন। সেখান থেকে পুলিকটের দূরত্ব ১০ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে বিমানে বা ট্রেনে চেন্নাই পৌঁছোনো যায়।

কোথায় থাকবেন? পুলিকট হ্রদের কাছেই একাধিক থাকার জায়গা রয়েছে। হোটেল, হোমস্টে রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement