হাজার হাজার কিলোমিটার পৌঁছনো যায় মাত্রা কয়েক ঘণ্টায়। বিমানযাত্রার এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা। সকালে রয়েছেন এক দেশে, দুপুরেই পৌঁছে গেলেন বিদেশে। বিষয়টি এক অর্থে ভারি মজার। তবে বিমানযাত্রার অন্যতম বিরক্তকর দিকটি বোধ হয় ‘সিকিউরিটি স্ক্রিনিং’ বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা। যাত্রীর শরীরে কিছু আপত্তিকর জিনিস রয়েছে কি না, তা যেমন খুঁটিয়ে দেখা হয়, তেমনই জিনিসপত্রও পরীক্ষারও লম্বা ধাপ থাকে। তার মধ্যে যদি সঙ্গে ল্যাপটপ থাকে, তা হলে কথাই নেই। ব্যাগ থেকে ল্যাপটপ, চার্জার বার করে নির্দিষ্ট ট্রে-তে রাখতে হয়। এক্স রে মেশিনে কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে সেটি পাঠানো হয় এবং আলাদা করে এক্স-রে করা হয়।
এই প্রক্রিয়াটি যাত্রীদের কাছে অনেক বেশি ঝক্কির এবং বিরক্তিকরও। বিশেষত বিমান ধরার তাড়া থাকলে, বিমানবন্দরে লম্বা লাইন দিয়ে ‘সিকিউরিটি স্ক্রিনিং’ করানোও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। কিন্তু কেন ল্যাপটপ ব্যাগ থেকে বার করিয়ে আলাদা করে এক্স-রে করানো হয়, জানেন কি? এরস ঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার প্রশ্ন।
১। ট্রলি বা পিঠের ব্যাগে ল্যাপটপ রাখলে সেটি এক্স-রে করার সময় ল্যাপটপের নীচে থাকা জিনিস অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। আসলে ল্যাপটপে এত বেশি সার্কিট থাকে যে, যান্ত্রিক দৃশ্যমানতায় তা বাধার সৃষ্টি করে। ফলে নাশকতা বা অন্য কোনও অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে যাত্রী ল্যাপটপের আড়ালে কোনও অস্ত্র বা আপত্তিকর জিনিস নিয়ে যেতে পারেন। দেশের নিরপত্তার স্বার্থেই তাই ল্যাপটপ ব্যাগ থেকে বার করিয়ে পরীক্ষা হয়। এতে ব্যাগে থাকা অন্য বস্তুও দৃশ্যমান হয় আবার ল্যাপটপটিও পরীক্ষা করে নেওয়া যায়।
২। ল্যাপটপে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি থাকে। বিমানে উচ্চতা এবং চাপের তারতম্যের কারণে ব্যাটারি থেকে আগুন ধরতে পারে বা ব্যাটারি ফেটে যেতে পারে। বিশেষত ব্যাটারি ফুলে থাকলে বা তাতে কোনও সমস্যা থাকলে, বিষয়টি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এক্স-রের মাধ্যমে এগুলিও দেখে নেওয়া হয়।
৩। চোরাচালানকারীরা ল্যাপটপের ভিতরে কায়দা করে ড্রাগ বা আপত্তিকর জিনিস ভরে রাখতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণেই ল্যাপটপ খুঁটিয়ে পরীক্ষা হয়। যদি নিরপত্তারক্ষীদের কোনও রকম সন্দেহ হয়, তা হলে ল্যাপটপ চালিয়েও তাঁরা দেখাতে বলতে পারেন।
৪। আন্তর্জাতিক নিয়ম এ ক্ষেত্রে বেশ কড়া। ২০২২ সালে ভার্জিনিয়ার বিমানবন্দরে ল্যাপটপের ব্যাগের ভিতরে ছুরি পেয়েছিলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ল্যাপটপের আড়ালে তা লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সেই কারণেই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় কড়াকড়ি শুরু হয়।
৫। যাত্রীদের জন্য ল্যাপটপ বার করে পরীক্ষা করানো ঝক্কির হলেও, এতে সকলে নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। তা ছাড়া, ব্যাগে থাকা ল্যাপটপ স্ক্যান করলে ভিতরেরর জিনিস যে হেতু স্পষ্ট দেখা যায় না, তাই নিরপত্তারক্ষীর মনেও প্রশ্ন থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাগ খুলে জিনিসপত্র হাতড়ে দেখতে গেলে সময় আরও বেশি লাগতে পারে। তার চেয়ে এই পন্থা সুবিধাজনক।