Weekend Travel Plan

ইতিহাসের হাতছানির সঙ্গে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করার সুযোগ! সময় পেলে ঘুরে আসুন সাসারাম

সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক কারণে প্রসিদ্ধ সাসারা্ম। সেই সঙ্গে, সাসারামে গেলে পাবেন প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ। এই শহরের প্রাচীন দুর্গগুলির মতো ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি পাহাড়, জলপ্রপাত ইত্যাদির উপস্থিতির কারণে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এটি হতেই পারে আদর্শ গন্তব্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৯
Share:

ঘুরে আসুন পড়শি রাজ্যের সাসারাম থেকে। ছবি: সংগৃহীত।

মাসের শেষে পরিবারকে নিয়ে কাঠেপিঠে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? ঘুরে আসতে পারে পড়শিরাজ্য বিহারের সাসারাম থেকে। সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে এই শহরের। সেই সঙ্গে, সাসারামে গেলে পাবেন প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার সুযোগ। এই শহরের প্রাচীন দুর্গগুলির মতো ঐতিহাসিক নিদর্শনের পাশাপাশি পাহাড়, জলপ্রপাত ইত্যাদির উপস্থিতির কারণে ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এটি হতেই পারে আদর্শ গন্তব্য।

Advertisement

দেখার মতো স্থানগুলি

শের শাহ সুরির সমাধি

Advertisement

ভারতের ইতিহাসে সাসারাম শহরের গুরুত্ব অপরিসীম। এই শহরটি বিখ্যাত শূর রাজবংশের কেন্দ্রভূমি, যার শাসক শের শাহ সুরি চৌসা এবং কনৌজ বা বিলগ্রামের যুদ্ধে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লি এবং সংলগ্ন উত্তরাঞ্চলের শাসক হয়েছিলেন। শের শাহ সুরির সমাধি রয়েছে সাসারামে। ১২২ ফুটের লাল বেলেপাথরের সমাধিটি একটি কৃত্রিম হ্রদের মাঝখানে নির্মিত। সমাধির নজরকাড়া সৌন্দর্য এখনও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

তারা চণ্ডী পাহাড়

বিন্ধ্য পর্বতমালার কৈমুর পাহাড়ের একটি প্রাকৃতিক গুহায় এই মন্দিরটি রয়েছে। এখানে মা তারার মুর্তি চার হাত বিশিষ্ট। এই মন্দিরের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বও অনেক। প্রতি বছর হাজার হাজার তীর্থযাত্রী এই মন্দির পরিদর্শন করেন। দশেরা এবং দীপাবলির মতো উৎসব এই মন্দিরে বড় করে পালন করা হয়।

রোহতাসগড় দুর্গ

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাভুক্ত রোহতাসগড় দুর্গটি সাসারাম শহর থেকে ৩৯ কিলোমিটার দূরে শোন নদের উপত্যকায় কাইমুর পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। রাজা হরিশচন্দ্র তাঁর পুত্রের সম্মানে এই দুর্গটি তৈরি করেছিলেন। দুর্গটিকে পাহাড়ের সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী দুর্গগুলির মধ্যে অন্যতম ধরা হত। পরবর্তীতে মুঘল আমলে বাংলা ও বিহারের প্রশাসক রাজা মান সিংহ এই দুর্গটিকে তাঁর প্রশাসনিক সদর দফতর হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। দুর্গের বিশাল ফটক, জলাধার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

ইন্দ্রপুরী বাঁধ

সাসারামের ইন্দ্রপুরী বাঁধটি এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রিয় পিকনিক স্পটগুলির মধ্যে একটি। বিশাল এই বাঁধটি গঙ্গার একটি শাখানদী শোনের উপর নির্মিত হয়েছিল। নদীর জলস্তর কমে গেলে এই অঞ্চলটি এটি একটি ছোট দ্বীপের মতো দেখায়। নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এই স্থান আদর্শ।

তুত্রাহি জলপ্রপাত

জলপ্রপাতটি সবুজ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা। শীতকালে পাহাড়ি এলাকাটি ছোট ছোট রঙিন ফুলে ঢাকা থাকে। অঞ্চলটি খিলান আকৃতির এবং পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত, তাই খুবে বেশি শীত এখানে পড়ে না। এই এলাকার বন্যপ্রাণীও ঘুরে দেখা যায়। আশেপাশে হনুমান, হরিণ এবং কাঠবিড়ালির মতো প্রাণী সহজেই দেখা যায়।

কী ভাবে যাবেন সাসারাম?

সাসারাম রেলওয়ে স্টেশন পূর্ব মধ্য রেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জংশন। কলকাতা, দিল্লি, পটনা, বারাণসী থেকে সরাসরি ট্রেন পাওয়া যায়। কলকাতা থেকে ট্রেনে সময় লাগে প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। সাসারামের নিকটতম বিমানবন্দর পটনা। সেখান থেকে ট্রেন বা গাড়িতে সাসারাম পৌঁছানো সবচেয়ে সুবিধাজনক। বিমানবন্দর থেকে সাসারাম শহরের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার।

কোথায় থাকবেন?

সাসারামে বিভিন্ন মানের ও দামের হোটেল রয়েছে। সুতরাং থাকার বিষয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাতে হবে না। আপনার সাধ্য ও রুচি মাফিক কোনও একটিকে বেছে নিলেই হল।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement