ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
বয়স মাত্র ১৫। তার মধ্যেই চেপেছে বিয়ের শখ। নিজের পছন্দমতো পাত্রীর সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে পরিবারের কাছে সমানে দাবি করতে থাকে সে। নাবালকের পরিবার তাতে রাজি না হয়ে উল্টে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। সেই অভিমানে গ্রামের ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তার ধরে ৪০ মিনিট ঝুলে থাকল কিশোর! উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের ঘটনা। সেই ঘটনারই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, কিশোরের সঙ্গে স্থানীয় পট্টি এলাকার এক কিশোরী মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এক বছর ধরে দুই নাবালক-নাবালিকা মেলামেশা করেছিল। গত বৃহস্পতিবার কিশোর যখন তার প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যায়, তখন মেয়েটির পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করে। পরে কিশোর ও কিশোরীর পরিবারের মধ্যে একটি মধ্যস্থতা হয়।
কিশোরের পরিবার ফোনটি কেড়ে নেয় ও তাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। পরিবারের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরটি ১১,০০০ ভোল্টের বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে তার ধরে ঝুলতে থাকে। তার বান্ধবীর সঙ্গে বিয়ে না দিলে নীচে না নামার জেদ আঁকড়ে ধরে থাকে ওই কিশোর। দৃশ্যটি দেখে কিশোরের পরিবার এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাঁরা দ্রুত সাহায্যের জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ছেলেটিকে মাটি থেকে ৩৫ ফুট উপরে বিদ্যুতের তারে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ভয়ে গ্রামবাসীদের কেউই খুঁটিতে ওঠার চেষ্টা করেননি। সৌভাগ্যক্রমে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য ওই এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছেলেটিকে তার থেকে নেমে আসতে রাজি করান। ৪০ মিনিটের দীর্ঘ আলোচনা এবং বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসের পর, ছেলেটি নেমে আসতে রাজি হয়।
আসপুর দেবসারা থানার ইনচার্জ বিজয়েন্দ্র সিংহ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ছেলে এবং মেয়ে যেহেতু উভয়ই নাবালক ছিল, তাই পরিবারের সদস্যদের ডেকে কাউন্সেলিং করা হয়। পরে, ছেলেটিকে তার পরিবার ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ভিডিয়োটি এক্স হ্য়ান্ডলে ‘ঘর কা কলেশ’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করতেই তা প্রচুর মানুষের নজর কেড়েছে।