ছবি: সংগৃহীত।
কোনও সাজানো-গোছানো মণ্ডপ বা হোটেলের ব্যাঙ্কয়েট নয়। সাত পাকে বাঁধা পড়ার জন্য অদ্ভুত এক জায়গা বেছে নিলেন এক দম্পতি। উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা তরুণ-তরুণী বিয়ে করলেন নদীর ধারে শ্মশানঘাটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে অনুষ্ঠানটি ২৫ এপ্রিল জিম করবেট জাতীয় উদ্যানের নিকটবর্তী সল্ট ব্লকের অন্তর্গত মার্চুলায় রামগঙ্গা ও বাদানগড় নদীর সঙ্গমস্থলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে গিয়েছে স্থানীয় এলাকায়। বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও এই ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য সংরক্ষিত জায়গাটি উৎসবমুখর পরিবেশে বদলে গিয়েছে। বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে শ্মশানের মধ্যেই। অতিথিরা জড়ো হয়ে মঙ্গলাচার পালন করছেন। প্রায় ৫০ জন অতিথি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠানের অঙ্গ হিসাবে জোরে জোরে গান বাজানোও হয়েছিল। নদীর পারে দাঁড়িয়ে বর-কনে মালাবদল করেছেন। এই ভিডিয়োটি এক্স হ্যান্ডলে ‘নিখিলসাইনি’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শ্মশানের মধ্যে দাঁড়িয়ে দম্পতির মালাবদলের দৃশ্য তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে নেটাগরিকদের মধ্যে। এ ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠনগুলি এই ধরনের কাজকে দৃষ্টিকটু বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে এই কাজটিকে অসম্মানজনক ও অনুচিত বলে আখ্যা দিয়েছেন তাঁরা।
সমাজকর্মী ও নেটাগরিকদের একাংশের মতে শ্মশানের সঙ্গে বহু মানুষের আবেগ ও ধর্মীয় আচরণ জড়িত রয়েছে। এই স্থানটিকে উৎসবের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আয়োজকেরা শ্মশানে জনসমাবেশ আয়োজন করার জন্য প্রশাসনিক অনুমতি নেননি। ওই এলাকাটি কুমির-প্রবণ হিসাবে পরিচিত। এতগুলি মানুষের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে ছিল। তীব্র সমালোচনার মুখে কর্তৃপক্ষ অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত একটি রিসর্টকে একটি নোটিস জারি করেছে। তদন্ত শুরু করেছে। রিসর্টের ম্যানেজার রাকেশ শর্মা জানিয়েছেন আয়োজকদের স্থানটির প্রকৃতি সম্পর্কে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা তাঁদের পরিকল্পনা বন্ধ করতে চাননি।