ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
না বিড়াল, না বাঘ! উত্তর সিকিমের বরফে ঢাকা পাহাড়ি ভূখণ্ডে ক্যামেরায় ধরা পড়ল ইউরেশীয় লিংক্সের বিরল ছবি। সেই ছবি ইতিমধ্যেই বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভাইরাল হয়েছে ছবিটি। সিকিমে এই দুর্লভ বন্য বিড়াল জাতীয় প্রাণীটির এটিই প্রথম কোনও ছবি বা আলোকচিত্রের প্রমাণ, যা ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে মনে করছেন অনেকে।
ছবিটি সমাজমাধ্যম এক্স হ্যান্ডল থেকে পোস্ট করেছেন ভারতের আইএফএস কর্তা প্রবীণ কাসওয়ান। ছবিটি শেয়ার করে কাসওয়ান লিখেছেন, ‘‘পাহাড়ের ‘ভূত’ বা রহস্যময় প্রাণীদের সত্যিই অস্তিত্ব আছে।’’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘‘সিকিমে দুর্লভ ইউরেশীয় লিংক্সের প্রথম ছবির রেকর্ড ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। এ ধরনের প্রতিটি আবিষ্কার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতিতে এখনও কত কিছু উন্মোচিত হওয়া বাকি।’’
কাসওয়ানের মতে, সিকিম বন ও পরিবেশ বিভাগ এবং ‘ডব্লিউডব্লিউএফ-ইন্ডিয়া’র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি ‘স্নো লেপার্ড অ্যান্ড রেঞ্জল্যান্ড মনিটরিং প্রোগ্রাম’-এর আওতায় বসানো একটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে ছবিটি। উত্তর সিকিমের সো লামোতে প্রায় ৫,২৫০ মিটার উচ্চতায় ক্যামেরাবন্দি হয় প্রাণীটি।
ইউরেশীয় লিংক্স হল ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে পাওয়া চারটি লিংক্স প্রজাতির মধ্যে বৃহত্তম। কানের ডগায় থাকা লোমের গুচ্ছ, ঘন ও ছোপ-যুক্ত লোমশ শরীর, চওড়া থাবা এবং ছোট লেজের জন্য পরিচিত প্রাণীটি। নির্জনতাপ্রিয় এই শিকারি প্রাণীটি দুর্গম বন, আলপাইন তৃণভূমি এবং বন্ধুর পাহাড়ি এলাকায় বাস করে। ইউরেশীয় লিংক্স লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে পছন্দ করে, তাই তাদের দেখা পাওয়া সত্যিই বিরল।
ভারতে ইউরেশীয় লিংক্সকে হিমালয়ের কয়েকটি মাত্র পাহাড়ি অঞ্চলে দেখা যায়, যার মধ্যে রয়েছে লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং এখন সিকিমের কিছু অংশ। প্রাণীটি দুর্গম ভূখণ্ডে বসবাস এবং গোপনীয়তাপ্রিয় স্বভাবের কারণে গবেষকেরা তাদের উপস্থিতি জানার জন্য মূলত ক্যামেরার উপরেই নির্ভর করেন।
আইএফএস কর্তা কাসওয়ানের পোস্টটি দ্রুতই প্রশংসা কুড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে। প্রাণীটির প্রকাশ্যে আসা ছবি নিয়ে হইচই পড়েছে বন্যপ্রাণপ্রেমীদের মধ্যে। অনেকে এই ছবিটিকে ভারতের দুর্গম পাহাড়ি বাস্তুতন্ত্রে টিকে থাকা গোপন বন্যপ্রাণী-সম্পদের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মতো একটি বিষয় হিসাবে অভিহিত করেছেন।