ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
জিনিসপত্রের দাম দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেক সময় রোজকার খরচপাতির সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হয় না। এর ফলে একটা সময় সমস্যায় পড়তে হয়। সম্প্রতি এক নবদম্পতি তাঁদের মার্চ মাসের খরচের একটি হিসাব তুলে ধরেছেন সমাজমাধ্যমে। তা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছেন নেটাগরিকেরা।
‘০৩গগন’ নামক ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিয়োটিতে এক যুবককে তাঁদের মার্চ মাসে করা খরচের খতিয়ান দিতে দেখা গিয়েছে। ওই দম্পতি গুরুগ্রামের বাসিন্দা। যুবক জানান, একটি গেটেড সোসাইটির ২.৫-বিএইচকে ফ্ল্যাটে তাঁরা থাকেন। বাড়িভাড়া এবং বিদ্যুতের বিল মিলিয়ে তাঁদের মোট খরচ হয় ৫০৮৩৯ টাকা। হোলির সময় তাঁর শ্যালক বেড়াতে আসায় খরচ একটু বেড়েছে। মুদিখানার বিল হয়েছে ২৭৭০২ টাকা। রাঁধুনি, গৃহকর্মী এবং গাড়ি পরিষ্কারের জন্য ৮৯০৫ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানান ওই ব্যক্তি। কারণ এ ছাড়া ব্যস্ত জীবনে চলা এক প্রকার অসম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
আরও বেশ কিছু খরচের খতিয়ান দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। পেট্রল এবং ক্যাবভাড়া বাবদ যাতায়াত খরচ দাঁড়িয়েছে ৬,২০০ টাকা। এক জন বিষয়স্রষ্টা হিসাবে কাজ সম্পর্কিত ব্যয়ের হিসাবও দিয়েছেন ওই তরুণ। ল্যাপটপের ইএমআই এবং ভিডিয়ো সম্পাদক ও ম্যানেজারের ফি মিলিয়ে মাসে মোট ৩৮০০০ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। এ ছাড়া সাবস্ক্রিপশন, ইন্টারনেট, মোবাইল পরিষেবা এবং ক্লাউড স্টোরেজ বাবদও খরচ হয়েছে ২৯০০ টাকা। মার্চে ভাইবোনদের সঙ্গে হৃষীকেশে দু’দিনের জন্য বেড়াতে গিয়ে ২২০০০ টাকা খরচ হয় বলে জানা গিয়েছে। এ ছাড়া আসবাবপত্রের ভাড়া, এয়ার কন্ডিশনার মেরামত এবং বাড়ির অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে আরও প্রায় ৫,০০০ টাকা যোগ হয়েছে। এক দিন রেস্তরাঁয় খাওয়াদাওয়া সারতে গিয়ে ব্যয় হয় ৩৫৪৫ টাকা।
এখানেই শেষ নয়। নবদম্পতি হিসাবে, এই দম্পতিকে বিয়ের পরের খরচের ধাক্কাও সামলাতে হচ্ছিল। ফোটোগ্রাফারকে বকেয়া টাকা দেওয়া, উপহার এবং বিয়ে সম্পর্কিত অন্যান্য খরচের জন্য মোট ২৮,৫০০ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভিডিয়ো শেষে তিনি এ-ও জানিয়েছেন যে, শুধুই ব্যয় নয়, সঞ্চয় বাবদও ২,২০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন তাঁরা। মার্চ মাসে ওই দম্পতির সব মিলিয়ে ১,৫৯,৫২২ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই তরুণ। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর একার কত ব্যয় হয়েছে তা-ও জানিয়েছেন তিনি। এই ভিডিয়োর মাধ্যমে নিত্য দিনের খরচের একটি হিসাব রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ওই বিষয়স্রষ্টা। তাঁর মতে, এর ফলে আর্থিক দিকে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে। তবে, ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
ভিডিয়োটি ছড়িয়ে পড়তেই হইচই পড়ে গিয়েছে সমাজমাধ্যমে। অনেকেই ঘটনাটি শেয়ার করেছেন। তিন হাজারেরও বেশি নেটাগরিক ভালবাসার চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। অজস্র মন্তব্য জমা পড়েছে মন্তব্যবাক্সে। বড় শহরে বসবাসের বিপুল খরচের বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার অবাক হয়েছেন এই দেখে যে এত খরচ হওয়া সত্ত্বেও দম্পতি সঞ্চয় খাতেও একটি মোটা অঙ্ক বিনিয়োগ করেছেন। এক নেটাগরিক আবার লিখেছেন, “সব বিষয়ে এত হিসাব করে চলতে হলে তো মরেই যাব।”