ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
মোবাইলই ধ্যানজ্ঞান। দিনরাত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ঘাড় গুঁজে বসে থাকে মেয়ে। ডিজিটাল আসক্তি কমানোর কোনও উপায় না পেয়ে শেষমেশ বাউন্সারের শরণাপন্ন হলেন বাবা-মা। কড়কড়ে ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে চার জন বাউন্সার নিয়োগ করলেন তাঁরা। অদ্ভুত এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতে। ১৬ বছর বয়সি কিশোরী মেয়ের ফোন ও সমাজমাধ্যমে মারাত্মক আসক্তি নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ওই চার বাউন্সার দিনরাত কিশোরীর মোবাইল পাহারায় নিযুক্ত। তাঁরা দু’টি শিফটে কাজ করেন। কিশোরীকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখাই তাঁদের কাজ। কিশোরীর অভিভাবকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের মেয়ে ফোন ও সমাজমাধ্যমের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। চিকিৎসক দেখিয়েও কাজ হয়নি। কিশোরী এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে তার মোবাইল কেড়ে নিলেই হিংস্র আচরণ করতে শুরু করত। এ ছাড়াও সে একটি প্ল্যাটফর্মে ছবি শেয়ার করার ব্যাপারেও আসক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রায়শই ছবি পোস্ট করত। অপরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করত।
নিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত সময় কাটানো নিয়ে কিশোরীর বাবা-মা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। বাবা-মা ফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই অদ্ভুত আচরণ করত নাবালিকা। চিৎকার-চেঁচামেচি করত ও বাড়ির জিনিসপত্র ছুড়ে ভাঙচুর চালাতেও দ্বিধাবোধ করত না। একবার সে এতটাই হিংস্র হয়ে উঠেছিল যে বাড়ির টেলিভিশন ভেঙে ফেলে। এমনকি তাদের বহুতল থেকে মাইক্রোঅয়েভ অভেনটি নিচে ফেলে দেয়। এ ছাড়া মাকেও আক্রমণ করে। এই অবস্থা সামাল দিতে বাধ্য হয়ে মা-বাবা বাউন্সারের বন্দোবস্ত করেন।