Viral Video

‘হৃদয় ঠিকানা খুঁজে পেল’, কেতনকে জড়িয়ে, নেচে একের পর এক পোস্ট সিয়ার, তার পরেই খুন! ভাইরাল ভিডিয়ো

এই সব আবেগঘন পোস্টের প্রায় এক মাস পর সিয়ার জন্মদিনের ঠিক আগের দিন ‘প্রেমের’ গল্পের মোড় সম্পূর্ণ বদলে যায়। পুণের লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ১০:৫৫
Share:

ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতনবিশাল অগ্রবালের মৃত্যু নিয়ে আলোড়ন পড়েছে দেশ জুড়ে। অভিযোগের তির বাগ্‌দত্তা সিয়া গয়ালের দিকে। অভিযোগ, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরি খুন করেছেন কেতনকে। ইতিমধ্যেই খুনের আগে কেতনকে নিয়ে সিয়ার বেশ কয়েকটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট প্রকাশ্যে এসেছে। হইচই ফেলেছে পোস্টগুলি।

Advertisement

সিয়ার ইনস্টাগ্রাম পোস্টগুলোতে মাসের পর মাস ধরে কেতনের সঙ্গে এক নিখুঁত প্রেমের চিত্র ফুটে উঠেছিল। বিয়ের প্রস্তাব, ভালবাসার নিদর্শন হিসাবে ফুল উপহার, আলিঙ্গন, নাচ, সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা এবং বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের বিয়ে। কিন্তু বাস্তবে সেই সম্পর্কটিই এক মর্মান্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে সিয়া এবং কেতন তাঁদের বাগ্‌দানের কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং নভেম্বরে প্রাইভেট জেট এবং রাজপ্রাসাদ ভাড়া করে জমকালো বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। বাগ্‌দানের এক মাস পর, সিয়া ইনস্টাগ্রামে মোমবাতি জ্বালানো একটি কেকের ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘‘আমার হৃদয় তার আপন ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার এক মাস পূর্তি উদ্‌যাপন করছি।’’ সেই পোস্টে কেতনকে ট্যাগ করেছিলেন তিনি।

তাঁকে নিয়ে কেতনের দেওয়া একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিও নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন সিয়া। ক্যাপশন ছিল, ‘‘ওই হাসি।’’ সঙ্গে ছিল একটি হার্ট ইমোটিকন। ১৯ মে সিয়া তাঁর সমাজমাধ্যম জন্মদিনের ‘কাউন্টডাউন’ বা দিন গণনার একটি স্টোরি পোস্ট করেন। সেখানে ওই যুগলকে একটি রোমান্টিক গানের তালে নাচতে ও ঘুরতে দেখা গিয়েছিল।

Advertisement

মে মাসে সিয়ার পোস্ট করা আর একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, কেতন সিয়াকে একটি ফুল দিচ্ছেন। সেই ছবির ক্যাপশনে সিয়া লিখেছিলেন, ‘‘আমি বলেছিলাম, আমি তোমায় পছন্দ করি। কথাটিকে খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ও (কেতন)।’’ ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, এক গাড়ির ভিতর বসে রয়েছেন কেতন এবং সিয়া। এর পর কেতন ফুল এগিয়ে দেন সিয়ার দিকে। আনন্দ ফুটে ওঠে সিয়ার চোখে-মুখে। এর পর তাঁরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে সংবাদমাধ্যম ‘পুণে পাল্‌স’-এর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। সমাজমাধ্যমে আলোড়ন ফেলেছে।

উল্লেখ্য, এই সব আবেগঘন পোস্টের প্রায় এক মাস পর সিয়ার জন্মদিনের ঠিক আগের দিন তাঁদের ‘প্রেমের’ গল্পের মোড় সম্পূর্ণ বদলে যায়। পুণের লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের। ৪৫০ ফুট গভীর খাদের নীচ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় প্রাথমিক ভাবে পুলিশের মনে হয়েছিল, ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ের কিনারায় নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান কেতন। যদিও মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য। পুণে গ্রামীণ পুলিশের সুপার সন্দীপ গিল জানান, তদন্তের শুরুতে কেতনের মৃত্যুর জন্য তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়ার উপর সহানুভূতি জন্মেছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পান তদন্তকারীরা, যা সন্দেহ জাগায়।

জুনের প্রথম সপ্তাহেই প্রি-ওয়েডিং ফোটোশুটে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে যাওয়ার কথা ছিল কেতন-সিয়ার। তাঁরা দু’জনে মুম্বই যান। কিন্তু বিমানবন্দরে গিয়ে পাসপোর্ট খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেতন। ফলে বালি যাওয়া ভেস্তে গিয়েছিল। কিন্তু সিয়ার মনে ছিল অন্য পরিকল্পনা। তদন্তকারীদের মতে, কেতন পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেননি। সিয়াই ওই পাসপোর্ট লুকিয়ে রেখেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ে নিয়ে গিয়ে কেতনকে খুন করা। শেষপর্যন্ত ১৮ জুন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেন। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, কিছু দিন আগেও এক বার কেতনকে লোহাগড় দুর্গে ট্রেকিংয়ের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন সিয়া। তদন্তকারী সূত্রের খবর, সেই সময়েও কেতনকে খুনের পরিকল্পনা ছিল চেতন এবং সিয়ার। কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement