ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
চারদিক রেলিং দিয়ে ঘেরা। নীচে গভীর খাদ। রেলিংয়ের উপর বসে আরামে ফল খাচ্ছিল একটি বাঁদর। সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন পর্যটকেরাও। এক তরুণ পর্যটকের মাথায় মজার ভিডিয়ো তৈরি করার ‘ভূত’ চাপল। বাঁদরটিকে আচমকা রেলিং থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। পড়ে যেতে যেতে বাঁদরটি কোনও রকমে রেলিং থেকে ধরে ঝুলে পড়ল। তার চোখেমুখে তখন ভয়ের ছাপ। এ দিকে, বাঁদরকে ভয় পাইয়ে দিয়ে ভারী মজা পেয়েছেন তরুণ। হাসি যেন ধরছে না তাঁর। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘এইচকেআই_’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ইনস্টাগ্রামের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, একটি বাঁদর রেলিংয়ে বসে আনমনা হয়ে কমলালেবু ছাড়িয়ে খাচ্ছিল। এক তরুণ হঠাৎ বাঁদরটিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেন। ধাক্কা খেয়ে বাঁদরের হাত থেকে কমলালেবুটি ছিটকে গেল। টাল সামলাতে পারেনি বাঁদরটিও। প্রাণ বাঁচাতে কোনও রকমে রেলিং ধরে ঝুলে পড়ে সে। ভয় পেয়ে আবার রেলিংয়ের উপর লাফিয়ে ওঠে বাঁদরটি। প্রতিবাদ জানাতে তরুণের দিকে তেড়ে গেল ঠিকই।
কিন্তু তরুণকে আক্রমণ করল না। বাঁদরকে ভয় পাইয়ে খুব আনন্দ পেলেন তরুণ। হাসতে হাসতে সেখান থেকে সরে গেলেন। এই ঘটনাটি চিনের সিচুয়ানে এমি পর্বতের সামনে ঘটেছে। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমের পাতায় ছড়িয়ে পড়তে তরুণকে ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘অসহায় বাঁদরটিকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার মধ্যেও যে তরুণ পৈশাচিক আনন্দ খুঁজে পেলেন তা দেখে অবাক হচ্ছি। তরুণের মানবিকতাবোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।’’ স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তরুণের প্রতি তিন বছরের জন্য সেই পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।