ছবি: ভিডিয়ো থেকে নেওয়া।
সারা রাত মেয়ে বাড়ি ফেরেনি। বাড়ির লোকজন ধরেই নিয়েছিলেন যে, প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছেন তরুণী। সন্দেহের বশে মেয়ের প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিল তরুণীর পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তরুণকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সকালে মেয়ে বাড়ি ফিরে সব জানতে পেরে ছুটলেন থানার দিকে। থানার কাছে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে ‘ধর্না’য় বসে পড়লেন তিনি।
প্রেমিককে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়া না হলে তিনি যে মোবাইল টাওয়ার থেকে নামবেন না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন। তরুণীর জেদের সঙ্গে লড়াই করতে পারল না স্থানীয় পুলিশ। হাতকড়া পরানো অবস্থায় প্রেমিককে নিয়ে মোবাইল টাওয়ারের সামনে পৌঁছোল তারা। প্রেমিককে দেখে শান্ত হলেন তরুণী। তার পর মোবাইল টাওয়ার থেকে নেমে পড়লেন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘ঘর কে কলেশ’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক তরুণী মোবাইলের টাওয়ারে উঠে পড়েছেন। তরুণীর বিপদের আশঙ্কায় টাওয়ারের চারদিকে ভিড় জমিয়েছেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে পুলিশও। কিন্তু শত অনুরোধ সত্ত্বেও মোবাইল টাওয়ার থেকে নামছেন না তরুণী।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার বানকাটা জাগিরদারি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। ২০ বছর বয়সি তরুণীর নাম অর্পিতা কুমারী। সেই গ্রামের এক তরুণ পবন চৌহানের সঙ্গে বহু দিন ধরে সম্পর্কে রয়েছেন অর্পিতা। কিন্তু পবনের সঙ্গে অর্পিতার সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তরুণীর পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতে অর্পিতা বাড়ি না ফিরলে পরিবারের সদস্যেরা মনে করেন যে, প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন তাঁদের বাড়ির মেয়ে। থানায় গিয়ে পবনের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করে অর্পিতার পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পবনকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
শুক্রবার সকালে বাড়ি ফিরে সব জেনে রেগে যান অর্পিতা। প্রেমিককে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়ানোর জন্য মোবাইল টাওয়ারে উঠে ‘ধর্না’ দিতে শুরু করেন তিনি। পবনকে দেখার পর টাওয়ার থেকে নেমে পুলিশের সঙ্গে থানায় চলে যান অর্পিতা। তরুণীর পরিবারও তাঁর পিছন পিছন থানায় যান। অর্পিতাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা।
কিন্তু পবনকে বিয়ে করার জেদ ধরে বসেন অর্পিতা। তরুণী জানান, তাঁরা দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে তাঁদের। কিন্তু অর্পিতার পরিবার সেই বিয়েতে মত দিতে রাজি নয়। পুলিশের তরফে দু’তরফে মধ্যস্থতার কাজ চলে। ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমের পাতায় ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে এক নেটাগরিক লেখেন, ‘‘এ যে অন্য রকমের ‘শোলে’! বসন্তীকে বিয়ে করার জন্য জলের ট্যাঙ্কে উঠে পড়েছিল বীরু। এখানে প্রেমিকের জন্য মোবাইল টাওয়ারে উঠে পড়েছেন তরুণী। সবই ভালবাসার খেল।’’