ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে স্নাতক হয়েছেন। চাকরির জন্য অন্য একটি বিষয়ে তিন মাসের জন্য প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। কিন্তু এক বছর ধরে চেষ্টা করেও কোনও চাকরি পাচ্ছিলেন না তরুণ। প্রায় এক হাজারের কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেছিলেন তিনি। ফলপ্রসূ হয়নি একটিও। শেষমেশ কোনও উপায় না দেখে শহর এবং দেশ ছেড়ে প্রেমিকার গ্রামের বাড়ি চলে যান তরুণ। সেখানে গিয়েই ভাগ্য খুলল তাঁর।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ২৯ বছর বয়সি তরুণের নাম তামের জ়েকি। লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক তিনি। পরে ডেটা অ্যানালিটিক্স নিয়ে তিন মাসের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তামের। কিন্তু এক বছর ধরে ক্রমাগত চেষ্টার পরেও কোথাও চাকরি পাচ্ছিলেন না তরুণ। ব্রিটেনে এক হাজারের কাছাকাছি সংস্থায় চাকরির আবেদন করেছিলেন তিনি। কোনও সংস্থা সরাসরি সেই আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে, আবার কোনও সংস্থায় চার বার ইন্টারভিউ দেওয়ার পরেও চাকরি পাননি তামের।
হতাশ হয়ে লন্ডন ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তামেরের প্রেমিকা অ্যানা হাসেলবোয়েক লন্ডনে থাকলেও তাঁর জন্মস্থান অস্ট্রিয়ার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম। লন্ডন থেকে বিমানে দু’ঘণ্টা যাওয়ার পর যেতে হয় সড়কপথে। সেই গ্রামে যাতায়াতের জন্য একটিই মাত্র সড়কপথ রয়েছে।
গ্রামের ভিতর শুধুমাত্র একটি রেস্তরাঁ রয়েছে। সেই রেস্তরাঁর মালিক অ্যানার বাবা-মা। তামেরকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি পৌঁছোনোর পরেই চাকরি খুঁজতে শুরু করে দিয়েছিলেন অ্যানা। তিন সপ্তাহের মধ্যে মাত্র তিন জায়গায় ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন তিনি। মাস কাটতে না কাটতে চাকরির প্রস্তাবও পেয়ে যান অ্যানা। দাঁতের সমস্যা নিয়ে তিনি এক পরিচিত চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চাকরির বাজারের দুর্দশার কথা উল্লেখ করেন অ্যানা।
তা শুনে সঙ্গে সঙ্গে অ্যানাকে নিকটবর্তী এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরির প্রস্তাব দেন সেই চিকিৎসক। এমনকি, সেখানে দু’টি শূন্যপদ থাকায় তামেরকেও চাকরির আবেদন করতে বলেন। একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চাকরি পেয়ে যান দু’জন। তামের জানান, বড় শহরে প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় চাকরি পাওয়ার সুযোগও কম। অথচ গ্রামে আসার পরেই তিনি এবং তাঁর প্রেমিকা চাকরি পেয়ে যান। মোটা বেতনও পাচ্ছেন দু’জনে।
শহরের কোলাহল থেকে দূরে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটাচ্ছেন তাঁরা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কাছে তিন বেডরুমের একটি ফ্ল্যাটও কিনেছেন। লন্ডনে থাকাকালীন যা খরচ হত, সে তুলনায় ৫০ শতাংশ কম খরচ হচ্ছে তাঁদের। বাড়িভাড়া থেকে শুরু করে যাতায়াতবাবদ সমস্ত খরচই কমে গিয়েছে। যেহেতু প্রত্যন্ত গ্রামে অবসর কাটানোর জন্য বিলাসিতার সুযোগ তেমন নেই, তাই ফাঁকা সময় পেলে গ্রামের রাস্তায় প্রেমিকার হাত ধরে হাঁটাহাঁটি করেন অথবা বাড়ি বসে টেলিভিশন দেখে সময় কাটান তামের। শহরে চাকরি না করে গ্রামে চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ভুল করেননি বলে জানান তরুণ।