Viral Video

প্রেমিকাকে আনার দাবিতে টাওয়ারে চড়লেন বিবাহিত যুবক! নামাতে এলেন স্বয়ং বিধায়ক, বললেন, ‘পাশে আছি’

প্রেমিকাকে এনে দেওয়ার দাবিতে টাওয়ারে চড়ে বসা ওই যুবকের নাম বাসুদেব। সমস্তিপুরের মোরভা হালাই থানা এলাকার বাসিন্দা তিনি। হায়দরাবাদে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বাসুদেব।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:২৫
Share:

ছবি: ইনস্টাগ্রাম।

প্রথম স্ত্রীর পাশাপাশি প্রেমিকাকে নিয়েও ঘর করার দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু সেই দাবিকে মান্যতা দেয়নি পরিবার। সেই রাগে বিশাল একটি টাওয়ারের মাথায় চড়ে বসেন যুবক। পুলিশের কর্তারা অনেক অনুরোধ করে নামাতে পারেননি তাঁকে। শেষমেশ আসরে নামেন স্থানীয় বিধায়ক। যুবককে বুঝিয়ে টাওয়ার থেকে নামিয়ে আনেন তিনি। চাঞ্চল্যকর এবং মজার ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের সমস্তিপুরে। সেই ঘটনার একাধিক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োগুলি। যদিও সেই সব ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

সংবাদমাধ্যম দৈনিক ভাস্করের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেমিকাকে পাওয়ার দাবিতে টাওয়ারে চড়ে বসা ওই যুবকের নাম বাসুদেব। বাবার নাম বিরোধী রায়। সমস্তিপুরের মোরভা হালাই থানা এলাকার বাসিন্দা তিনি। হায়দরাবাদে শ্রমিক হিসাবে কাজ করতেন বাসুদেব। জানা গিয়েছে, ১৫ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল বাসুদেবের। কিন্তু নিঃসন্তান ছিলেন। বছর দু’য়েক আগে এলাকার এক তরুণীর প্রেমে পড়েন বাসুদেব। একসঙ্গে হায়দরাবাদে পালিয়ে যান তাঁরা। এক মাস আগে বিয়েও করেন। কিন্তু তরুণীর পরিবারের দায়ের করা একটি পুলিশি অভিযোগের পর, বাসুদেব এবং তাঁর প্রেমিকাকে হায়দরাবাদ থেকে ধরে নিয়ে আসে পুলিশ। দু’জনকেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর পর মঙ্গলবার দুই পরিবারের মধ্যে সালিশি সভা ডাকা হয়। আইনি বিয়ে না হওয়ায় দু’জনকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় কুমাইয়া চকে অবস্থিত একটি মোবাইল টাওয়ারে চড়ে বসেন বাসুদেব। প্রেমিকাকে ডেকে আনার এবং একসঙ্গে সংসার করতে দেওয়ার দাবি জানান। হইচই পড়ে যায় এলাকায়।

মোবাইল টাওয়ার থেকে বাসুদেবকে নামিয়ে আনার জন্য কিছু ক্ষণের মধ্যে পুলিশ এবং দমকলের গাড়ি উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। প্রচুর মানুষের ভিড় জমে যায় টাওয়ারের নীচে। এমনকি স্থানীয় গ্রামপ্রধানও তাঁর সমস্ত দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে নীচে নেমে আসার অনুরোধ করেন। কিন্তু বাসুদেব রাজি হননি। শেষমেশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মোরওয়ার বিধায়ক তথা আরজেডি নেতা রণবিজয় সাহু। ঘটনাস্থলে এসে বাসুদেবকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে নীচে নামানোর চেষ্টা শুরু করেন তিনি।

Advertisement

বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, ‘‘বাসুদেব, দেখুন বিধায়ক এসে গিয়েছে। আমরা গিয়ে আপনার প্রেমিকাকে নিয়ে আসব। নীচে নেমে আসুন। আমি খবর পেয়েই চলে এসেছি। আপনি যেখানে বলবেন, আমরা আপনার সঙ্গে সেখানেই যাব।’’ সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। জানা গিয়েছে, বিধায়কের আশ্বাসের পরেই বাসুদেব নীচে নেমে আসেন। প্রায় সাত ঘণ্টা তিনি টাওয়ারে চড়ে ছিলেন বলে খবর।

ঘটনার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে সমস্তিপুরের ভ্লগার রোশন নিষাদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন মজার মজার মন্তব্য করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘এই না হলে প্রেম! বিধায়ককে পর্যন্ত টেনে নিয়ে এসেছেন প্রেমের দাবি পূরণ করতে।’’ অন্য এক জন লিখেছেন, ‘‘যুবক খুশি। তিনি জানেন এখন বিধায়কও তাঁর বরযাত্রীতে যাবেন।’’

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement