অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের কন্যার বিবাহবিচ্ছেদ উদ্যাপনের মুহূর্ত। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে কন্যার। উদ্যাপন করলেন উত্তরপ্রদেশের মেরঠের অবসরপ্রাপ্ত এক বিচারক। ঢাক-ঢোল-ব্যান্ড বাজিয়ে মেয়েকে আবার ঘরে ফেরালেন তিনি। মন ভাল করা সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। হইচইও ফেলেছে সমাজমাধ্যমে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত ওই বিচারকের পরিবার তাদের মেয়ের অসুখী দাম্পত্য জীবনের আইনি অবসানের পর দুঃখের পরিবর্তে উদ্যাপনকে বেছে নিয়েছেন। শনিবার মেরঠের পারিবারিক আদালতের বাইরে প্রণিতা শর্মা নামে ওই বিবাহবিচ্ছিন্না তরুণীর আত্মীয়স্বজনেরা ঢাক-ঢোল বাজিয়ে এবং ব্যান্ড পার্টি এনে আনন্দে মাতেন। নাচানাচি করেন তাঁরা। মিষ্টিও বিতরণ করেন। এর পর প্রণিতার গলায় মালা পরিয়ে এবং উল্লাস করতে করতে তাঁকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। প্রণিতা বাড়ি ফেরার পর তাঁর বাবা তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক জ্ঞানেন্দ্র শর্মা তাঁকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। প্রণিতাকে ঘরে নিয়ে আসার সময় তাঁর পরিবারের সকলে একই টিশার্ট পরেছিলেন। কালো রঙের সেই টিশার্টের উপরে লেখা ছিল, ‘আমি আমার মেয়েকে ভালবাসি’। লেখার সঙ্গে প্রণিতার ছবিও ছিল টিশার্টে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে হয় প্রণিতার। কিন্তু দাম্পত্যজীবন সুখের হয়নি। শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে ক্রমাগত মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন তিনি। জানান, সন্তানের জন্মের পরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর পরেই বিচ্ছেদের আবেদন করে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। শনিবার সেই বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় আদালতে।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক জ্ঞানেন্দ্র জানিয়েছেন, মেয়েকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে আনার কারণ, বিবাহবিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সামাজিক কলঙ্ককে চ্যালেঞ্জ করার একটি সচেতন সিদ্ধান্ত। তিনি মন্তব্য করেছেন, যেমন মর্যাদার সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তেমনই ঘরে ফেরার পরও সে একই সম্মান পাওয়ার যোগ্য। প্রণিতা কোনও ভরণপোষণ বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাননি বলেও জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন বিচারকের কন্যার বিচ্ছেদ উদ্যাপনের ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন পীযূষ রাই নামের এক সাংবাদিক। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই অনেকে আবার ওই পরিবারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘পরিবারকে সাধুবাদ জানাই। সকলকে বুঝতে হবে যে বিচ্ছেদ মানে শেষ নয়, নতুন জীবনের শুরু। পুরুষ এবং মহিলা— উভয়ের ক্ষেত্রেই তা প্রযোজ্য।’’