তারাতলায় ভেঙে পড়েছে নির্মীয়মাণ গুদামের কাঠামো। — নিজস্ব চিত্র।
তারাতলার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাসন্তীর আরও এক যুবকের। শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয় মুড়োখালির বাসিন্দা খালেক সর্দারের (৩৩)। সূত্রের খবর, কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। রামচন্দ্রখালির বাসিন্দা সাহিলের মৃত্যুর খবর বৃহস্পতিবার সকালেই গ্রামে এসে পৌঁছেছিল, বাসন্তীর এই দু’টি গ্রামেই কার্যত শোকের পরিবেশ।
ভিন্ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন খালেক। প্রতিবেশী তথা সাহিলের মামাতো দাদা মুস্তাকিন গায়েনদের সঙ্গে মুম্বইয়ে প্লাম্বিংয়ের কাজ করতেন। ইদুজ্জোহায় বাড়ি ফিরেছিলেন। আগামী কিছুদিনের মধ্যে ফের মুম্বই যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি সূত্র মারফৎ তারাতলার এই নির্মীয়মাণ বহুতলে কাজের বরাত পান। গ্রামের চার যুবক সেই কাজে যোগ দেন। সাহিল মামার বাড়িতে ছিল, তাই কলকাতা দেখার আশায় সে-ও মুস্তাকিন-খালেকদের সঙ্গী হয়।
বুধবার দুপুরে দুর্ঘটনার সময়ে ওঁরা পাঁচজন ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েন। উদ্ধারকারীরা এসে দ্রুত চারজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সাহিলের খোঁজ মেলেনি। গভীর রাতে তার দেহ উদ্ধার হয়। খালেক, মুস্তাকিন, জোহর আলি-সহ চারজনকেই গুরুতর জখম অবস্থায় এসএসকেএমে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে মৃত্যু হয় খালেকের।
মুস্তাকিনের কাকা তথা সাহিলের মামা জবেদ গায়েন বলেন, “মুস্তাকিন ও জোহর আলি গায়েন নামে আমার দুই ভাইপোর সঙ্গে কাজে গিয়েছিল প্রতিবেশী খালেক সর্দার। ওঁরা এক সঙ্গে মুম্বইয়ে প্লাম্বিংয়ের কাজ করত। ইদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। কিছুদিনের মধ্যেই ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। এরই মধ্যে কলকাতায় কাজের বরাত আসতে সেখানে কাজে চলে যায় দিন পনেরো আগে।’’বাসন্তীর বিডিও সঞ্জীব টিকাদার বলেন, “আরও একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। সরকারি নির্দেশিকা এলে সেই মতো যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”বৃহস্পতিবার বিকেলে সাহিলের দেহ বাসন্তীর রামচন্দ্রখালির বাড়িতে আসে। সন্ধ্যায় শেষকৃত্য পালিত হয়েছে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে