উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের বেঞ্চে লাগানো হচ্ছে সিট নম্বর। ভাঙড়ের কাঁঠালিয়া হাই স্কুলে। ছবি: সামসুল হুদা ।
দুই জেলার বহু এলাকাই দুর্গম। যাতায়াতের জন্য পেরোতে হয় নদী। তাই আজ, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় যাতে পরীক্ষার্থীদের কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য তৎপর প্রশাসন ও শিক্ষা দফতর। পরীক্ষার্থীরাও অবশ্য অনেকে ভোগান্তি এড়াতে কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার ব্যবস্থা করেছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মৌসুনি দ্বীপ এলাকার বালিয়াড়া কিশোর হাই স্কুল এবং মৌসুনি কো-অপারেটিভ হাই স্কুলের মোট ১০৬ জন ছাত্রছাত্রীর সিট পড়েছে ফ্রেজারগঞ্জ কৃষ্ণপ্রসাদ আদর্শ বিদ্যাপীঠ এবং নামখানা ইউনিয়ন হাই স্কুলে। মৌসুনি দ্বীপ থেকে পরীক্ষার দিন ভোরে রওনা দিলে জোয়ার-ভাটা, নৌকা চলাচলের অনিশ্চয়তা কিংবা আবহাওয়ার সমস্যায় বিপাকে পড়তে হয়। সেই আশঙ্কা এড়াতেই পরীক্ষার আগের দিনই অনেকে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা ভাড়া ঘরে থেকে পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একাধিক দ্বীপ নিয়ে গঠিত পাথরপ্রতিমা ব্লকের পরিস্থিতিও প্রায় একই। কামদেবপুর স্নেহলতা মিলন বিদ্যাপীঠের ছাত্রছাত্রীদের সিট আবার পড়েছে রামগঙ্গা পঞ্চায়েতের ডি মহেন্দ্রপুর এসবি হাইস্কুলে। ফলে এক দ্বীপ থেকে আর এক দ্বীপে যাতায়াতের জন্য নৌকা, ভ্যান, বাস একাধিক পরিবহণের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। কাকদ্বীপের মহকুমাশাসক প্রীতম সাহা বলেন, ‘‘দ্বীপ এলাকায় পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ট্রলার, লঞ্চ ও অন্য যানবাহনের ব্যবস্থা থাকবে।’’ দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্কুল পরিদর্শক (ডিআই) সানি মিশ্র বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ, পরিবহণ, ফেরি সার্ভিস থেকে শুরু করে সমস্ত দফতরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করা হয়েছে।’’
ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবার সমস্ত কেন্দ্রেই পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুৎ সংযোগ যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়, রাস্তায় যাতে পর্যাপ্ত গাড়ি থাকে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার শুভেন্দ্র কুমার বলেন, ‘‘বারুইপুর পুলিশ জেলায় যে ক’টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে সর্বত্র পুলিশ, সিভিক কর্মী থাকবেন।’’ কলকাতা পুলিশের ভাঙড় ডিভিশনের ডিসি সৈকত ঘোষ বলেন, ‘‘যদি কোনও পরীক্ষার্থী সমস্যায় পড়েন তা হলে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীকে জানালে দ্রুত সাহায্য করা হবে।’’
বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান জানান, ‘‘হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালির মতো এলাকায় নদীপথে নৌকার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হবে।’’ হাবড়া পুরসভার উদ্যোগে সাতটি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অভিভাবকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরপ্রধান নারায়ণচন্দ্র সাহা জানান, জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একটি অ্যাম্বুল্যান্সও তৈরি রাখা হয়েছে। পরীক্ষার দিনগুলিতে পুরসভার ‘পরীক্ষা বন্ধু’ ভলান্টিয়ারেরাও রাস্তায় থাকবেন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে