পথভোলা বৃদ্ধকে ঘরে ফেরাল পুলিশ

খাওয়ার পরে বৃদ্ধের সব মনে পড়ে যায়। সে তাঁর নাম-ঠিকানা পুলিশকে জানায়। থানার অফিসার মানিক দাসের পরিচিত লোকজন থাকেন হলদিবাড়ি এলাকায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০১৯ ০০:৪১
Share:

পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল বৃদ্ধকে। নিজস্ব চিত্র

ঠাকুরনগরে মতুয়া ধর্ম মহামেলায় আসার পথে দলছুট হয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করছিলেন এক বৃদ্ধ। বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ওই বৃদ্ধকে পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দিল অশোকনগর থানার পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ওই বৃদ্ধের নাম সুবোল রায়। বাড়ি কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ি থানা এলাকায়। মতুয়া মেলায় আসবেন বলে এলাকার ২৭ জনের একটি দলের সঙ্গে সত্তর বছরের ওই বৃদ্ধ বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন। বুধবার দুপুরে তিনি ভুল করে ট্রেন থেকে অশোকনগর রেল স্টেশনে নেমে পড়েন। বাকিরা ঠাকুরনগর চলে যান। ট্রেন থেকে নেমে বৃদ্ধ উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করছিলেন। বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা বৃদ্ধকে আটকে নাম-ঠিকানা জানতে চান। কিন্তু বৃদ্ধ কিছু বলতে পারেননি। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সুবোলকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশকেও তিনি প্রথমে সঠিক নাম-ঠিকানা বলতে পারছিলেন না। বৃদ্ধের খাওয়ার জন্য পুলিশ মাছ ভাত নিয়ে আসে। কিন্তু বৃদ্ধ তা খেতে রাজি হননি। তিনি পুলিশকে জানান, তিনি নিরামিষ খান। পুলিশ তখন তাঁর জন্য নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা করে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

Advertisement

খাওয়ার পরে বৃদ্ধের সব মনে পড়ে যায়। সে তাঁর নাম-ঠিকানা পুলিশকে জানায়। থানার অফিসার মানিক দাসের পরিচিত লোকজন থাকেন হলদিবাড়ি এলাকায়। তাঁদের মাধ্যমে তিনি সুবলের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জানানো হয় হলদিবাড়ি থানার পুলিশকেও। মানিক হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বৃদ্ধের ছবি পাঠান তাঁর আত্মীয়দের কাছে। তাঁরা ছবি দেখে শনাক্ত করেন। স্থানীয় এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যও সুবলকে সনাক্ত করেন। বৃহস্পতিবার সকালে সুবলের ভাইপো প্রদীপ অশোকনগর থানায় আসেন। তিনি কলকাতা পুলিশের কর্মী। তাঁর হাতেই সুবলকে তুলে দেওয়া হয়। বৃদ্ধকে নিয়ে প্রদীপ বাড়ির দিকে রওনা হন। সুবল বলেন, ‘‘ট্রেন থেকে কেন নেমে পড়েছিলাম। কোথায় ঘুরছিলাম কিছুই মনে নেই। তবে পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের জন্য বাড়ি ফিরতে পারলাম।’’ পুলিশ অবশ্য বলছে, এটা তাঁদের কর্তব্য।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement