শিল্পাঞ্চলে দোলের সতর্কতা

দোলের দিন ইভটিজিং রুখতে এ বার পাড়ায় পাড়ায় নজর রাখবে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ‘প্রমীলা বাহিনী’। পুলিশের উর্দিতে নয়, সাধারণ পোশাকেই স্কুটি কিংবা গাড়িতে করে মহিলা পুলিশের প্রায় ৩০০ জনের এই বাহিনী শিল্পাঞ্চলের ১৩টি থানার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবেন।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০১৭ ০২:০৬
Share:

দোলের দিন ইভটিজিং রুখতে এ বার পাড়ায় পাড়ায় নজর রাখবে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ‘প্রমীলা বাহিনী’। পুলিশের উর্দিতে নয়, সাধারণ পোশাকেই স্কুটি কিংবা গাড়িতে করে মহিলা পুলিশের প্রায় ৩০০ জনের এই বাহিনী শিল্পাঞ্চলের ১৩টি থানার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকবেন।

Advertisement

দোল মানেই ফি বছর গোলমাল লেগে থাকে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। ইভটিজিং, নেশা করে দুর্ব্যবহার, অশালীন আচরণের অভিযোগ প্রতি বছর ভুরি ভুরি জমা পড়ে থানা ও পুলিশ কমিশনারেটের সদর দফতরে। ধরপাকড়ও হয়, তবে জামিনও মিলে যায় সহজে। কখনও আবার প্রভাবশালীদের সুপারিশও থাকে জামিনের জন্য। পুলিশ তদন্তে নেমে সাক্ষী জোগাড় করতেও পারে না সব ক্ষেত্রে। গত বছরই দোলের দিন দুপুরে জগদ্দলের মন্টু কলোনির এক পুকুরে দোল খেলে স্নান করতে যাওয়া দুই তরুণীর শ্লীলতাহানি রুখতে গিয়ে পাশের পাড়ার একদল যুবকের হাতে মার খান জয়দীপ বিশ্বাস নামে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক ছাত্র। পাঁজর আর কাঁধের হাড় ভেঙে দেওয়া হয় তাঁর। তাতেই ক্ষান্ত হয়নি উন্মত্ত যুবকেরা।

অভিযোগ ছিল, তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে মারধর এবং বাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়িতে পুলিশ পিকেট বসলেও এই ঘটনায় সাক্ষী জোগাড় করতে রীতিমতো বাড়ি বাড়ি কড়া নাড়তে হয়েছিল তদন্তকারীদের। তার আগের বছর কামারহাটিতে এক মহিলার গায়ে রং দেওয়া নিয়ে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় দু’দলের মধ্যে। কোনও রকমে সংঘর্ষ ঠেকিয়ে পুলিশ পিকেট বসলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দু’দিন লেগে যায়। কিন্তু ঠিকমতো সাক্ষী না মেলায় অভিযোগ দাঁড় করানো যায়নি। পুলিশি নজরদারির ফাঁক গলে এ রকম অসংখ্য ঘটনা প্রতি বছর ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘটার অভিযোগ থেকেই এ বার কমিশনারেটের এই অভিনব উদ্যোগ বলে দাবি পুলিশকর্তাদের।

Advertisement

আত্মরক্ষায় পারদর্শী পুলিশ কনস্টেবল ও অফিসারদের নিয়ে এই বাহিনী তৈরি করা হয়েছে। যাঁরা দোলের দিন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরবেন, দুষ্কৃতীদের সন্দেহ এড়াতে আবির বা রংও থাকবে তাঁদের সঙ্গে। নিজেরা নিজেদের মতো করে রং খেলবেন, গল্পগুজব করবেন, কিন্তু নজর থাকবে যে এলাকায় থাকছেন সেখানকার লোকজনের উপরে। আশপাশেও কোনও ঘটনার খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে নিজেদের মধ্যে ফোন বা ওয়্যারলেসে যোগাযোগ করে পৌঁছে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেবেন তাঁরা। এই বাহিনীকে ‘ব্যাক আপ’ দেওয়ার জন্য প্রতিটি থানার পুলিশ বাহিনী এবং স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের অফিসারেরাও থাকবেন কাছাকাছি। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার সুব্রত মিত্র বলেন, ‘‘আশা করছি এ বারের দোল সকলের আনন্দেই কাটবে। অবাঞ্ছিত অশান্তি এবং ঝঞ্ঝাট এড়াতেই এই বাড়তি সতর্কতা।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement