Baduria BLO Arrest Case

বিএলও-কাণ্ডে পরকীয়া মোড়! স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক, নথির জন্য ডেকে এনে স্বামীকে খুন, দেহ টুকরো করে ফেলে দেন খালে

গত ৯ ফেব্রুয়ারি বছর আটত্রিশের এক যুবককে এসআইআরের নথি দিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন করে ডেকে পাঠান বিএলও মন্টু। অভিযোগ, নথি নিয়ে বার হওয়ার পর সেই যুবকের আর খোঁজ মেলেনি। শনিবার তাঁর দেহাংশ মেলে খাল এবং জলাশয়ে। গ্রেফতার হয়েছেন বিএলও-সহ দুই।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:১১
Share:

গ্রাফিক: এআই সহায়তায় প্রণীত।

বাদুড়িয়াকাণ্ডে নয়া মোড়। প্রেমের পথে ‘কাঁটা’ প্রেমিকার স্বামীকে নথির নাম করে বাড়িতে ডেকেছিলেন বিএলও। তার পর ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাঁকে খুন করেন। এবং দেহ খণ্ড খণ্ড করে কেটে ব্যাগে ভরে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দিয়েছিলেন! সূত্রের খবর, পুলিশি জেরায় এমনটাই জানিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া পাপিলা ২২ নম্বর বুথের বিএলও রিজওয়ান হাসান ওরফে মন্টু।

Advertisement

গত ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে নাসির মণ্ডল নামে বছর আটত্রিশের এক যুবকের খোঁজ পাচ্ছিল না পরিবার। অভিযোগ, এসআইআরের নথি দিয়ে যাওয়ার জন্য ফোন করে ডেকে পাঠান এলাকার বিএলও মন্টু। নথি নিয়ে বার হওয়ার পর নাসিরের আর খোঁজ মেলেনি। পরের দিন, ১০ ফেব্রুয়ারি খাল থেকে তাঁর বাইক উদ্ধার হয়। জুতোও মেলে।

ঘটনাক্রমে নাসিরের পরিবার বিএলও-র বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। শুক্রবার ওই বিএলও-কে অপহরণের অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে হাজির করালে তাঁকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। শনিবার পাপিলা এলাকার খাল এবং জলাশয় থেকে উদ্ধার হয় মানুষের দেহাংশ ভর্তি ব্যাগ। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে সেগুলো নিখোঁজ নাসিরের দেহের টুকরো। সূত্রের খবর, জেরায় চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য দিয়েছেন বিএলও।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে খবর, নাসিরের স্ত্রী বিউটি খাতুনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল ওই বিএলও-র। সম্প্রতি সেই সম্পর্ক লোক জানাজানি হয়। নাসিরদের দাম্পত্যকলহ শুরু হয়। অশান্তি এড়াতে প্রেমিকের সঙ্গে সাময়িক ভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বিউটি। তাতে ‘প্রেমিক’ বিএলও-র রাগ গিয়ে পড়ে প্রেমিকার স্বামীর উপর। তার পরেই নথির নাম করে তিনি নাসিরকে ফোন করে ডাকেন।

বলে দেওয়া জায়গায় নাসির উপস্থিত হন। তখন সাগর গাইন নামে এক সঙ্গীকে নিয়ে প্রেমিকের স্বামীকে খুন করেন বিএলও। খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে টুকরো টুকরো করে নাসিরের দেহ কাটেন তাঁরা। ছোট ছোট কয়েকটি প্লাস্টিকের ব্যাগে দেহাংশ ভরে বাদুড়িয়া এলাকার বিভিন্ন খাল এবং জলাশয়ে ফেলে দিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বিএলও-র সঙ্গেই সাগরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে কয়েক লক্ষ টাকার সুপারি দিয়েছিলেন বিএলও রিজওয়ান। খুনের পরে কিছু টাকা সাগরকে দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতিমতো পুরো টাকা শোধ করার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ে যান দু’জনে।

বসিরহাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, ‘‘ও (বিএলও) আমাদের কাছে সমস্তটাই স্বীকার করেছে। যা সন্দেহ করা হয়েছিল, তা-ই হয়েছে। আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement