মা ও বাবাকে বাঁচিয়ে ট্রেনে ছিন্নভিন্ন যুবক
নিজস্ব সংবাদদাতা • কলকাতা
সাক্ষাৎ মৃত্যুর মতো মা-বাবার দিকে থাবা বাড়িয়েছিল ধাবমান জোড়া ট্রেন। ধাক্কা মেরে দু’জনকেই নিরাপদ দূরত্বে ঠেলে দিলেন ছেলে। বাবা-মা বাঁচলেন। কিন্তু ছেলে আর নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না। লৌহদানবের চাকা ছিন্নভিন্ন করে দিল যুবকের শরীর। সোমবার রাতে টিটাগড় আর ব্যারাকপুরের মাঝখানে। সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বাবা-মাকে নিয়ে ব্যারাকপুরের তালপুকুর বারো নম্বর রেলগেট পেরিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওই যুবক। রেল সূত্রের খবর, গেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা রেললাইন পেরোনোর চেষ্টা করছিলেন। একই সঙ্গে এক, দুই ও তিন নম্বর লাইনে তিনটি লোকাল ট্রেন ছুটে আসে। এক ও তিন নম্বরে আপ লোকাল। দু’নম্বরে ডাউন। যুবক কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন। ট্রেনের শব্দে পিছন ফিরে দেখেন, বাবা-মা এক ও দু’নম্বর লাইনের মাঝখানে দিশাহারার মতো দাঁড়িয়ে আছেন। আপ ও ডাউন লাইনের ট্রেন দু’টি গর্জন করে ছুটে যাচ্ছে তাঁদের দিকে। ছুটে গিয়ে বাবা-মাকে ঠেলে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেন যুবক। তখনই তিন নম্বর লাইনে আসছিল একটি আপ লোকাল। সেই ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পুলিশ জানায়, মৃতদেহ উদ্ধার করে রেল কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়। মৃতের নাম জানা যায়নি। ছেলের রক্তে মাখামাখি হয়ে বাবা-মা বিহ্বল অবস্থায় দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকেন কেবিনে। কিছু বলার অবস্থায় ছিলেন না তাঁরা। তাঁদের ঘিরে ভিড় করেন এলাকার লোকজন। তাঁরাও ওই পরিবার সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।
শিক্ষকদের ঘরবন্দি করা হল কুলপিতে
নিজস্ব সংবাদদাতা • ডায়মন্ড হারবার
স্কুলবাড়ি তৈরির হিসেব নিয়ে কাজিয়ার জেরে বেশ কিছু শিক্ষককে ঘরে আটকে রাখা হল কুলপি থানার হটুগঞ্জের হেলেগাছি এফপি স্কুলে। সোমবার সন্ধ্যায় ওই ঘটনায় তৃণমূলের এক স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা ও তাঁর স্বামী জড়িত বলে অভিযোগ। নিগৃহীত শিক্ষকদের মধ্যে ‘আমরা আক্রান্ত’র সদস্য মহিদুল ইসলামও ছিলেন। রাতে তাঁরা থানায় অভিযোগ করেন, তাঁদের মারধর করে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভয়ও দেখায় তৃণমূল কর্মীরা। তৃণমূল অবশ্য তা উড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশও জানায়, প্রাথমিক তদন্তে অস্ত্র দেখানো বা মারধরের প্রমাণ মেলেনি। স্কুল সূত্রের খবর, পুরনো গ্রাম শিক্ষা সমিতির সদস্যেরা শিক্ষকদের থেকে স্কুলবাড়ি তৈরিতে খরচ হওয়া বারো লক্ষ টাকার হিসেব চান। এই নিয়ে বচসা বাধলে স্থানীয় ক্লাব থেকে কয়েক জন এসে ঝামেলা শুরু করে। মহিদুলের অভিযোগ, “গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য মাপিয়া বিবির স্বামী হোসেন পুরকাইতের নেতৃত্বে আমাদের মারধর করা হয়। প্রধান শিক্ষিকা-সহ তিন শিক্ষকের থেকে দু’লক্ষ টাকাও চাওয়া হয়। আমরা থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছি।” মাথায় চোট থাকায় তাঁকে কুলপি থেকে ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মাপিয়া বিবি অবশ্য দাবি করেন, “নতুন গ্রাম শিক্ষা সমিতি গঠনের চিঠি পেয়ে আমরা স্কুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু শিক্ষকদের সঙ্গে কোনও ঝামেলা হয়নি।” হামলায় অন্যতম অভিযুক্ত পুরনো কমিটির অভিভাবক সদস্য হালিম ঘরামি বলেন, “শিক্ষকেরা টাকা খরচের রসিদ দেখাতে পারছেন না। তাই তাঁদের কিছুক্ষণ আটকে রাখা হয়েছিল।” মহিদুলেরা অবশ্য জানান, পুরনো কমিটির মেয়াদ ফুরোলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। যথাসময়েই হিসেব দেওয়া হবে।
সিবিআই তদন্তের দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা • বনগাঁ
বনগাঁয় তৃণমূলের যুব নেতা হিমাংশু বৈরাগীর খুনের ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সোমবার মামলা দায়ের হল। ওই মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা রাকেশ বৈরাগী ও ঠাকুমা বীণাপানিদেবী। পুলিশ জানায়, গত বছরের ৯ মার্চ তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে হিমাংশু খুন হন। রাকেশবাবুর আইনজীবী উদয়শঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, বীণাপানিদেবী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দিতে কয়েক জন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার নাম জানান। তাঁরা ওই খুনে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত বলে দাবিও করেন বীণাপানিদেবী। প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে এর আগেও কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন নিহতের ঠাকুমা। বিচারপতি নাদিরা পাথেরিয়া গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ওই ঘটনার সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেন। অভিযোগ, তার পরেও অপরাধীরা ধরে পড়েনি। আরও অভিযোগ, পুলিশ খুনের ঘটনায় চার্জশিট পেশ করলেও প্রকৃত খুনিদের নাম সেই চার্জশিটে পেশ করেনি। এ কারণেই সিবিআই তদন্তের দাবিতে ফের মামলা দায়ের হাইকোর্টে।
উদ্ধার হল জাহাজ
নিজস্ব সংবাদদাতা • ডায়মন্ড হারবার
কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে উদ্ধার হল ফলতায় আটকে থাকা সিঙ্গাপুর থেকে আসা জাহাজ হান্না মেরি। সোমবার খিদিরপুর থেকে দুটি জলযান দিয়ে উদ্ধার করা হয় ওই জাহাজটিকে। রবিবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফলতার শিমুলবেড়িয়া গ্রামের বাঁধের কাছে চলে এসেছিল জাহাজটি। পরে পোর্ট ট্রাস্ট সূত্রে দাবি, স্রোতের তারতম্যের কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই ঘটনা ঘটেছিল।
বেড়াচাঁপায় বাসন্তী পুজোর মণ্ডপ।